খুলনা | মঙ্গলবার | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস : বিল পাসের সময় ভোটদানে বিরত থাকে বিরোধী দল

সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলন ঠেকাতে আইন পাস, ‘অসদাচরণে’ কঠোর শাস্তির বিধান

খবর প্রতিবেদন |
০১:২২ এ.এম | ০৬ এপ্রিল ২০২৬


সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা জোরদারে শাস্তির আওতা বাড়িয়ে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের (আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী) সুনির্দিষ্ট চারটি কাজকে ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য করে অসদাচরণের দায়ে দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। 
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম এই বিলটি পাসে মোট সময় লেগেছে মাত্র ৩ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড। অন্তর্বতী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে আনা বিলটির ওপর কোনো আলোচনা হয়নি এবং বিরোধী দলের সদস্যরা কণ্ঠভোটে পক্ষ বা বিপক্ষ কোনো অংশেই অংশ নেননি।
রোববার জাতীয় সংসদে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারীর উত্থাপিত ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ কণ্ঠাভোটে পাস হয়। এতে সরকারি কর্মচারীদের (আইনানুযায়ী সবাই কর্মচারী) চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়েছে। 
নতুন আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী নিচের কাজগুলোতে লিপ্ত হলে তিনি ‘অসদাচরণের’ দায়ে দণ্ডিত হবেন : ১. এমন কোনো কাজে লিপ্ত হওয়া যা অনানুগত্যের শামিল অথবা যা অন্য কর্মচারীদের মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘিœত করে কিংবা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে।
২. অন্য কর্মচারীদের সঙ্গে সমবেত ভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকা, বিরত থাকা বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হওয়া।
৩. অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তাঁর কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে, বিরত থাকতে বা কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেওয়া বা প্ররোচিত করা। ৪. যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তাঁর কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করা, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন।
তিন ধরনের শাস্তির বিধান : বিলে উল্লেখিত চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতায় এনে তিনটি বড় শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো চাকরি থেকে বরখাস্ত, অব্যাহতি এবং বেতন ও পদের গ্রেড কমিয়ে দেওয়া।
অন্তর্বতী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হু-বহু পাসের সুপারিশ করেছিল সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এই আইনটি ২০২৫ সালের মে ও জুলাই মাসে দু’দফায় সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই বিলের মাধ্যমে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ পেতে যাচ্ছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পেলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।
অন্তর্বতী সরকার এই অধ্যাদেশ জারির পরদিন প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দিনভর বিক্ষোভ করেছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রী বলেন, বিলটি পাস হলে সরকারি কর্মচারিদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠাসহ এ সংক্রান্ত আইনগত কার্যক্রম গ্রহণে সহায়ক হবে।
সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ : সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। রোববার বিকেলে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মোঃ আব্দুল বারী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
বিলের মূল বিধানগুলোতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভ‚ত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।
অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সম্বলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করাত এ সংক্রান্ত দু’টি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।
বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ