খুলনা | মঙ্গলবার | ০৭ এপ্রিল ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২

দেশে তিন সপ্তাহে হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেলো ১১৩ জনের, আক্রান্ত ৭৬১০

খবর প্রতিবেদন |
০১:২৩ এ.এম | ০৬ এপ্রিল ২০২৬


দেশে মিজেলস (হাম) পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বেড়েই চলছে। গত তিন সপ্তাহে হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে ১১৭ জনের মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় হামে ১৭ জনের মৃত্যু হওয়ার নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। সারাদেশে হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬১০ জন শিশু। এছাড়া শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের, আক্রান্ত হয়েছে ৯৭৪ জন। রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে নতুন করে ৯৭৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ৫৪ জন।
এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে দু’জনের মৃত্যু হাম রোগে হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হাম সন্দেহে ৭ হাজার ৬১০ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ল্যাব পরীক্ষায় পরীক্ষায় ৯২৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাম সন্দেহে ১১৭ জন শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৩২৫৯ জন শিশু, এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৪৬৮ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৪৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ৩ হাজার ৩৮০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম সন্দেহে ৬৫৪ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
মৃত্যুর হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে, ৫৫ জন। এরপরই আছে ঢাকা বিভাগ, ১০ জন। এ সময় ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে মৃত্যুর কোনো ঘটনা নেই।
নিয়ন্ত্রণকক্ষ জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিু তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কুষ্টিয়া : জেলাতে হামের উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার  বিকেল ৩টা ২৩ মিনিটের দিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে জেলায় ৫ জন শিশুর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হলো। মৃত ওই শিশুর নাম রায়ান (৬)। সে কুষ্টিয়া সদরের হরিপুর ইউনিয়ন এলাকার সোহাগ ইসলামের ছেলে। আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটিকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সপ্তাহ ধরে ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিয়েছিল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা চলছিল কিন্তু আজ অবস্থা খারাপ হলে বাচ্চাকে দ্রুত মেডিকেলে ভর্তি করা হয়।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম জানান, রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় রায়ান নামের শিশুটি হাম ও সেফটিক শক রোগে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিকেল ৩টা ২৩ মিনিটের দিকে শিশুটি মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য মতে, জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২৩ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২০ জন রোগীর হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩০ জন ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রাজশাহী: জেলাতে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে দুই এবং বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। 
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডাঃ শংকর কে বিশ্বাস জানান, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে রোববার দুপুর ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশু মারা গেছে। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স ছয় ও সাত মাস। তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪ জন শিশু। হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ১২৫ জন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে ৩৬ জন। ফেব্র“য়ারি থেকে এপর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা ৩৯১ জন। এ নিয়ে এই হাসপাতালে ৪০ জন মারা গেল।
অন্যদিকে, রাজশাহীর বেসরকারি হাসপাতাল সিডিএম-এ শনিবার দিবাগত রাতে দু’জন ও রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সবমিলে এই হাসপাতালে তিন শিশু মারা গেছে। 
রাজশাহীর সিডিএম হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার তারেক আজিজ বলেন, হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। দু’জন শিশু চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও একজন শিশু নাটোরের।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ