খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

তিন দিনব্যাপী তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের সমাপনী

কুরআনের বিধান বাস্তবায়নেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব : গোলাম পরওয়ার

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৫৪ এ.এম | ০৪ মে ২০২৬


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, পবিত্র কুরআন মানুষের জীবনে দুঃখ-কষ্ট দূর করে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য নাযিল হয়েছে। কুরআন কেবল তিলাওয়াত বা তাকের ওপর তুলে রাখার গ্রন্থ নয়; বরং ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা সূরা ত্ব-হা’য় স্পষ্ট ভাবে ঘোষণা করেছেনÑকুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের দুর্ভোগ দূর করার জন্য। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, কুরআন ঘরে ঘরে থাকলেও সমাজে সুদ, ঘুষ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও অবিচার বিদ্যমান। এর প্রধান কারণ মানুষ কুরআনের শিক্ষা বুঝে তা বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করছে না। তিনি বলেন, কুরআনের বিধান বাস্তবায়নের জন্য শুধু জ্ঞানই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন শক্তিরও। সূরা হাদীদের ‘হাদিদ’ (লোহা) শব্দের মাধ্যমে শক্তি ও রাষ্ট্রক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তি ছাড়া ন্যায়ভিত্তিক সমাজ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে “উই ওয়ান্ট জাস্টিস” স্লোগান প্রমাণ করে মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। কুরআনের বিধান অনুসরণ করা হলে এই অবিচার দূর হয়ে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব। তিনি সকলকে কুরআন বুঝে পড়া, নামাজ প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহŸান জানান। 
শনিবার দিবাগত রাতে খুলনা জেলার খানজাহান আলী থানাধীন গিলাতলা দক্ষিণপাড়া  তৌহিদী জনতার উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৫২তম বার্ষিক ঐতিহাসিক তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের সমাপনীতে প্রধান অতিথির আলোচনায় তিনি এ সব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, সূরা আল-বাকারার শুরুতেই কোরআনকে “হুদাল্লিল মুত্তাকীন” বা মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কুরআন মানবজাতির জন্য একটি পরিপূর্ণ সংবিধান, যেখানে জীবন পরিচালনার সব দিকনির্দেশনা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। 
রমজান মাসে কুরআন নাযিলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কুরআন কেবল মুসলমানদের জন্য নয়; বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য হেদায়াত। এতে সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায়, হালাল-হারামের সুস্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।
মুজাদ্দেদে জামান খতিবে আজম ফুরফুরা শরীফের পীর আল্লামা আবু বকর ছিদ্দিক (রহ.)-এর প্রধান খলিফা আল্লামা রুহুল আমিন (রহঃ)-এর স্মরণে গিলাতলা দক্ষিণপাড়া তৌহিদ জনতা কর্তৃক আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ৫২তম বার্ষিক ঐতিহাসিক তাফসিরুল কুরআন ছিদ্দিকীয়া আমিনিয়া ইছালে সওয়াব মাহফিলের আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শনিবার দিবাগত রাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। শনিবার মাহফিলের তৃতীয় দিন, অর্থাৎ সমাপনী রজনীতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন ভারতের বসিরহাটের পীর সাহেব মাওলানা শরফুল আমিন। প্রধান আলোচক ছিলেন মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-আমিন (ঢাকা)। যিনি কুরআনের তাফসিরের মাধ্যমে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা জাগ্রত করেন। মাহফিলে বিশেষ বক্তা ছিলেন গিলাতলা দক্ষিণপাড়া বায়তুন নূর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল বাশার জিহাদী এবং হযরত মাওলানা মনিরুল ইসলাম গাজীপুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন জবেদা কাদের ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া মিন্টু, ফুলতলা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল গাউসুল আযম হাদি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খানজাহান আলী থানার আমীর সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো এবং ভৈরব শিল্পী গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান ও ১নং আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। মাহফিলের সভাপতিত্ব এবং আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন যশোর নওয়াপাড়ার পীর সাহেব খাজা রফিকুজ্জামান শাহ্।
মাহফিলের সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন মাহফিল ইন্তেজামিয়া কমিটির সভাপতি সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ ইয়াসিনসহ দক্ষিণ গিলাতলা তৌহিদী জনতা। মাহফিলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। সমাপনী দিনে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, ধর্মীয় আবহ এবং কুরআনের আলোকে জীবন গঠনের আহŸান। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ