খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

মৃত্যুবার্ষিকীর সভায় নগর বিএনপি’র সভাপতি এড. মনা

সৈয়দ ঈসা শুধু কলম যোদ্ধাই ছিলেন না ছিলেন রাজপথেরও এক নির্ভীক সৈনিক

খবর বিজ্ঞপ্তি |
০১:৫৬ এ.এম | ০৪ মে ২০২৬


খুলনা মহানগর বিএনপি’র সভাপতি এড. শফিকুল আলম মনা বলেছেন, প্রখ্যাত সাংবাদিক ও বরেণ্য রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ ঈসা ছিলেন এক আলোকিত সংগ্রামী মানুষ, যার জীবন ও আদর্শ আজও অনুপ্রেরণা জোগায়। তিনি রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতায় রেখে গেছেন অনন্য অবদান, যা দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
গতকাল রোববার বিকেল ৫টায় দলীয় কার্যালয়ে খুলনা জেলা বিএনপি’র সাবেক আহŸায়ক ও প্রখ্যাত সাংবাদিক সৈয়দ ঈসার ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এড. শফিকুল আলম মনা বলেন, সাতক্ষীরা মহাকুমার তালা থানার তেঁতুলিয়া গ্রামে ১৯৪৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া সৈয়দ ঈসা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মেধাবী ও সমাজ সচেতন। ১৯৬২ সালে তালা বি. কে. ইনস্টিটিউশন থেকে ম্যাট্রিক এবং দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ১৯৬৪ সালে সাপ্তাহিক জনতার খুলনা সংবাদদাতা হিসেবে যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে সাপ্তাহিক দেশের ডাক, সাপ্তাহিক স্বাধীকার পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক, দৈনিক সংবাদের খুলনা প্রতিনিধি এবং সাপ্তাহিক মুক্তি ও স্বকাল পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি সাংবাদিকতায় নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন। বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্রের সংবাদপাঠক হিসেবেও তিনি ছিলেন সুপরিচিত কণ্ঠস্বর। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ কালাকানুনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক আন্দোলনে তার সাহসী ভ‚মিকা আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, সৈয়দ ঈসা শুধু কলম যোদ্ধাই ছিলেন না, ছিলেন রাজপথেরও এক নির্ভীক সৈনিক। ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি দিয়ে শুরু করে ন্যাপ (ভাসানী), জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট হয়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন খুলনা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৬ সালে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা অভিমুখে ঐতিহাসিক লংমার্চ এবং ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ তার সংগ্রামী চেতনারই প্রমাণ। সভায় বক্তারা আবেগভরে বলেন, সৈয়দ ঈসার জীবন ছিল সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল থাকার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তার স্মৃতিকে অম্লান রাখতে ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল এলাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘সৈয়দ ঈসা জেনারেল ও টেকনিক্যাল কলেজ’, যা আগামী প্রজন্মকে তার আদর্শে অনুপ্রাণিত করবে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-আহŸায়ক স ম আব্দুর রহমান ও বদরুল আনাম খান, মুক্তিযোদ্ধা দলের আহŸায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলমগীর হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশরেফ হোসেন, মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মোঃ রাশিদুল ইসলাম, শ্রমিক দলের আহŸায়ক মজিবর রহমান, আনোয়ার হোসেন, মুস্তাফিজুর আকন্দ তুহিন, মিজান, গাউস, জাকির ইকবাল বাপ্পী, ইস্তিয়াক আহম্মেদ ইস্তি, মুন্তাসির আল মামুন, মাজাহারুল ইসলাম রাসেল, নিরব মাহমুদ নিবিড়, সহিদুল ইসলাম, ইফতেখার হোসেন বাবু, মাসুদউল হক হারুন, মোঃ সালাউদ্দীন মোল্লা বুলবুল, এস এম নুরুল আলম দিপু, শেখ মোস্তফা কামাল, আজিজুর রহমান, কাজী নজরুল ইসলাম, মোঃ মাহমুদ আলম মোড়ল, ইকবাল হোসেন মিজান, শেখ আলমগীর হোসেন, মোঃ কামরুজ্জামান রুনু মোঃ নুরুল ইসলাম, মোঃ বায়েজিদ, মঞ্জুরুল আলম, মোঃ আমিন আহমেদ, মোঃ শওকত আলী বিশ্বাস লাবু, মোঃ ওহিদুজ্জামান হাওলাদার, কাজী মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ আবুল ওয়ারা, মোঃ আরিফুল ইসলাম বিপ্লব, হাফেজ মোঃ আল-আমিন, নাসরিন হক শ্রাবণী, এড. হেনা, মুন্নি জামান, ইরিনা আক্তার, সৈয়দা নওরিন, আনিকা সুলতানা, সাহিদা আক্তার, লায়লা পারভীন, মাইনুল ইসলাম কিরন, ইয়াজুল ইসলাম এপোলো, হেলাল ফারাজী, হারুন অর রশিদ, ইয়াসিন গাজী, নুরুল হুদা পলাশ, মাহমুদ হাসান শান্ত, মোঃ জাহিদুর রহমান রিপন ও ফারুক প্রমুখ। আলোচনা শেষে তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

প্রিন্ট

আরও সংবাদ