খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৭ মে ২০২৬ | ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩

মহানগরীর ফুটপাথগুলি এখন ব্যবসায়ীদের দখলে ঝুঁকি নিয়ে চলছে পথচারীরা, ঘটছে দুর্ঘটনা

শামিম আশরাফ শেলী |
০১:৪২ এ.এম | ০৫ মে ২০২৬


খুলনা সিটি কর্পোরেশন নগরবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক মানের ফুটপাথ তৈরি করলেও সেগুলো নগরবাসীর কোন কাজেই আসছে না। নগরীর ফুটপাথগুলি এখন বিভিন্ন শ্রেণির হকারদের দখলে। কোথাও কোথাও গড়ে উঠেছে ঝুপড়ি চায়ের দোকান, হোটেলের রান্নাঘর, এমনকি ফুটপাথ সংলগ্ন রাস্তাও অনেকটাই বেদখল হয়ে পরিণত হয়েছে হকার্স মার্কেটে। এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বিপদে পড়েছে নগরীর পায়ে চলা মানুষেরা। পথ চলতে যেয়ে তারা পরস্পরের সাথে ধাক্কা খাচ্ছে আর বাধ্য হয়ে রাস্তা দিয়ে চলতে যেয়ে ধাক্কা খাচ্ছে যানবাহনের সাথে, আহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত, সবচে ঝুঁকিতে আছে নারী ও শিশু পথচারীরা।
সবেজমিন দেখা গেছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা ফুটপাথ জুড়ে গড়ে তুলেছে বিপণীকেন্দ্র। ফলে ফুটপাথ থেকে খোদ পথচারীরাই নির্বাসিত, ঝুঁকি নিয়ে ধাক্কাধাক্কি করে তাদের পথ চলতে হচ্ছে এমন অভিযোগ নগরীর পথচারীদের।
নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে পথচারীদের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। নগরীর প্রাণকেন্দ্র স্যার ইকরাল রোড, পিকচার প্যালেস মোড়, ডাকবাংলো মোড়, ক্লে রোড, হেলাতলা মোড়, বড়বাজার এলাকা, খুলনা মেডিকেল কলেজের সামনের সমগ্র ফুটপাথ বিভিন্ন ধরনের দোকানীদের দখলে। অথচ এ সকল এলাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে তাদের বিভিন্ন জরুরি কেনাবেচা, চিকিৎসা ইত্যাদি নানা প্রয়োজনে। অথচ এসকল মানুষ যে একটু নির্বিঘেœ হাঁটাচলা করবে সে উপায় নেই।
প্রত্যেকটি নগরীর সৌন্দর্য্য এবং পরিচ্ছন্নতা একটি মৌলিক বিষয়। যে কারণে নগর কর্র্র্তৃপক্ষও বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে থাকে নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধন এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায়। এছাড়া অত্যাধুনিক ডিজাইনে বিভিন্ন সরকারী বেসরকারি স্থাপনা গড়ে তোলা হয় নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনে যা নগরবাসী উপভোগ করবে বলে। কিন্তু এ সকল দৃষ্টিনন্দন স্থাপনার সামনে যখন ঝুপড়ি চায়ের দোকান পান দোকানসহ বিভিন্ন চট কাঠের কাঠামো গড়ে তোলা হয় তখন সৌন্দর্য্য পরিণত হয় কদর্য দৃশ্যে, আর এলাকাটি পরিণত হয় ময়লা নোংরার ভাগাড়ে, যা এই নগরীর এখন সাধারণ পরিণতি। নগরবাসী এই এলোমেলো নোংরা অবৈধ স্থাপনা থেকে মুক্তি চায় একটি পরিচ্ছন সুন্দর নগরীর আশায়। 
অন্যদিকে নগরীর হাসপাতাল এলাকাগুলির পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ অন্যান্য হাসপাতাল সীমানা সংলগ্ন এলাকায় ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে চা-পান-বিড়ির নোংরা ছাপড়া দোকান। যেগুলি মূলতঃ এক বড়সড় ময়লা-জীবানু’র ভাগাড়! যা আসলে হাসপাতালগুলিকে জীবানু মুক্ত রাখার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করছে এবং হাসপাতালগুলির পরিবেশকে অপরিচ্ছন্ন ও জীবানু সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলেছে।
উলে­খ্য, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন ঝুপড়িগুলো উচ্ছেদের নির্দেশ দেন এবং সে অনুযায়ী ঝুপড়িগুলি উচ্ছেদও করা হয়। তবে তদারকি এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় কিছু দিনের ব্যাবধানে অবৈধ ঝুপড়িগুলি আবারও গড়ে উঠেছে।
ফুটপাথ জবর দখলকারীদের সাথে আলাপকালে জানতে চাওয়া হয় যে, তারা এভাবে ফুটপাথ ও সড়ক দখল করে ব্যবসা করছে এ কাজে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা তাদের বাধা দেয় কি-না। জবাবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী এ প্রতিবেদককে বলেন,“অবশ্যই বাধা দেয় তবে বিশেষ ব্যবস্থায় আমাদের টিকে থাকতে হয়।” বিশেষ ব্যবস্থা কি জানতে চাইলে তারা কোন জবাব দেয়নি।    
নগরবাসীর দাবি নগরীর সকল ফুটপাথ থেকে অবৈধ ঝুপড়ি ও অবৈধ হকার উচ্ছেদ করে নগরীর পরিচ্ছন্নতা এবং নগরবাসীর চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।
এ সকল বিষয়ে আলাপকালে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু এ প্রতিবেদককে বলেন,“ নগরীর পরিচ্ছন্নতা এবং নগরবাসীর চলাফেরার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ফুটপাথ ঝুপড়ি ও হকার মুক্ত করা হবে যার জন্য সরকারী নির্দেশের অপেক্ষায় আছি, যা ঢাকায় শুরু হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে সমস্যা সৃষ্টিকারী কিছু এলাকায় উচ্ছেদ শুরু করেছি যেমন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা। তিনি আরও বলেন, আমরা এর স্থায়ী সমাধান করবো সে কারণে হকারদের সাথে আলোচনা হবে যাতে গৃহীত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে কেউ অমান্য করতে না পারে।”  

প্রিন্ট

আরও সংবাদ