খুলনা | রবিবার | ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

‘যেটা অর্জন করেছি তার সাথে কিছুরই তুলনা চলে না’ 

একাদশে না থেকেও বিশ্বকাপ জয়ে অবদান খুলনার নাবিলের

আব্দুল্লাহ এম রুবেল  | প্রকাশিত ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০১:০০:০০

সম্প্রতি বিশ^কাপ জয় করে এসেছে বাংলাদেশের যুবারা। যে দলের অন্যতম সদস্য প্রান্তিক নওরোজ নাবিল। দলে খুলনার একমাত্র ক্রিকেটার তিনি। বিশ^কাপ দলের অন্যতম সদস্য হয়েও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি এই ক্রিকেটারের। তবে ম্যাচ না খেললে বিশ^কাপ জয়ের অন্যতম অংশীদার তিনি। মাঠের বাইরে থেকেও টিমের জয়ে অবদান রাখা যায় তার অন্যতম প্রমান এই ক্রিকেটার। বয়সে সর্বকনিষ্ঠ এই ক্রিকেটারের সামনে আরও একটি সুযোগ আছে বিশ^কাপ খেলার। একটি ক্রিকেট ম্যাচে ভারতের কাছে হারের থেকে জেদ তৈরি হয়ে এখন ক্রিকেটার নাবিল। সামনে আরও অনেক পথ। ক্রিকেট খেলে দেশের জন্য অবদান সৃষ্টি করতে চান তিনি। বিশ^কাপ মিশন শেষ করে খুলনায় নিজের বাসায় গতকাল সময়ের খবরের সাথে আলাপচারিতায় বলেছেন অনেক কথা। তারই চৌম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। 
বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এর থেকে বড় গর্বের আর কিছুই নেই তার কাছে। বিশ্বকাপ জয়ের অনুভুতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এর থেকে গর্বের বোধহয় আর কিছুই হতে পারে না, বাংলাদেশের প্রথম বিশ^কাপ জয়ের একটা অংশ আমি। এই অর্জনটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমার কাছে কোন শব্দ নাই যে, আমি কিভাবে বোঝাবো। অবশ্যই এটা আমার জীবনের সব থেকে বড় অর্জন।’ 
বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলার সুযোগ না পেলেও বিশ্বকাপ জয়ে তার অবদান দিয়েছে টিমমেটরা। মাঠের বাইরে থেকে দলকে সহায়তা করতে পারাও বড় কিছু তার জন্য। বলেন, ‘সবারই টিমে একটা রোল থাকে। আমারও রোল ছিলো। আমারও ইচ্ছা ছিলো যে সুযোগ পেলে সেরটা দেওয়ার। কিন্তু আমরা একটা টিম ছিলাম। এই জন্যই আমাদের রেজাল্টটা এতটা পজেটিভ হয়েছে। আমি যখন দেখেছি যে আমি একাদশে সুযোগ পাচ্ছি না, তখন বিশ^কাপের মতো আসরে এগারো জনের বাইরেও দেশের জন্য অনেক দায়িত্ব ছিলো। আমি চেষ্টা করেছি সবাইকে সর্বোচ্চ দিয়ে হেল্প করার। মাঠে যে ১১ জন আছে ওদের যদি আমার কারণে একটু হলেও হেল্প হয়, তাহলে তো দেশের ই হেল্প হবে। এই ফিলিংস থেকেই আমি যতটা সম্ভব ওদেরকে হেল্প করেছি।’
বিশ্বকাপে কোন ম্যাচ খেলতে না পারলেও দল বিশ্বকাপ জয় করায় সব আক্ষেপ মিটে গেছে নাবিলের। ম্যাচে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটাকে অবশ্যই আক্ষেপ বলবো না। তবে যদি সেলফ সেটিসফেকশনের জায়গাটা বলেন, তাহলে হয়তো নিজের মধ্যে একটা ক্ষুধা ছিলো আমি একটা গেম খেলবো,  ভালো করবো। কিন্তু আমি যদি এখন ওভারঅল চিন্তা করি যে, যে অর্জনটা আমাদের আসছে, সেটা আপনি কিসের সাথে তুলনা করবেন। তুলনা করার মতো কোন জায়গা নাই। খেললে হয়তো ভালো লাগতো, কিন্তু আমি জানি অফ দ্যা ফিল্ড আমি কতখানি করছি টিমের জন্য। তাই বিশ^কাপ জয়ের পর আমার এখন আর কোন আক্ষেপ নেই।’ 
বয়সে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার প্রান্তিক নওরোজ নাবিল। এখনও ১৭ বছর বয়সে পা দেননি। দুই বছর পর হতে যাওয়া পরবর্তী অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপেও সুযোগ আছে। সেই দলে সুযোগ পেলে আরও বেশী দায়িত্বশীল হওয়ার কথা তার কন্ঠে ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন অনেক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আমাকে যদি আরেকবার সুযোগ দেয়া হয় একজন সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে আমি গ্রেটফুল থাকবো এই সুযোগের জন্য। আমি দেখেছি আমাদের টিমের সিনিযর ক্রিকেটাররা কত দায়িত্ব নিয়ে খেলেছে, আমি চেষ্টা করবো ওনাদের ওই পথটা অনুসরণ করার।’ 
নাবিলের ক্রিকেটের আসার গল্পটা বেশ রোমাঞ্চকর। ২০১১ সালে বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হারটা মেনে নিতে পারেননি। তখনও জেদ করেন দেশের জন্য ক্রিকেট খেলবেন। বাকীটা শুনুন তার কাছেই। ‘২০১১ সালে বাংলাদেশ-ভারতের একটি ম্যাচে বাংলাদেশ ভালো খেলেও পরাজিত হয়েছিলো। ওই রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। তখনই মনের মধ্যে একটা জেদ চেপেছিলো, ক্রিকেট খেলোয়াড় হবো। এলাকায় ক্রিকেট খেলতাম। তখন আমরা মেজ ভাই  আসলে তাকে আমি বলেছি, আমি ক্রিকেট খেলতে চাই। তিনি আমাকে সেলিম স্যারের কাছে নিয়ে যান, সেখান থেকেই আমার শুরু। আমি খুলনা জেলা ও বিভাগের বয়স ভিত্তিক দলে খেলেছি। পরে খুলনা দলে থাকা নিয়ে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাথে একটা ঝামেলা তৈরি হয়। আমি সিদ্ধান্ত নেই, খুলনাতে আমি আর খেলবো না। পরবর্তীতে আমার সুযোগ হয় বিকেএসপিতে। আমি বিকেএসপিতে থেকেই পরবর্তীতে বাংলাদেশের বয়স ভিত্তিক সবগুলো দলেই খেলেছি। 
ক্রিকেটে নিজের প্রথম গুরু সেলিম (খুলনা মোহামেডান ক্রিকেট একাডেমীর কোচ) স্যারের কাছে কৃতজ্ঞ। এখনও তার কাছে নিয়মিত শেখেন এই ক্রিকেটার। তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় নাবিল বলেন, পৃথিবীতে বাবার স্থান কেউ নিতে পারে না। কিন্তু বাবার পরেই আমার কাছে সেলিম স্যারের স্থান। আজ আমি খুলনাতে এসেছি শুধুমাত্র ওনার সাথে দেখা করার জন্য। এখনও দূর থেকে আমাকে ক্রিকেটের অনেক কিছুই শেখান তিনি। আমি যদি কোন ম্যাচে খারাপ করি, সেলিম স্যার আমাকে বোঝান সব ভুল স্যারেরই। আর যদি কোন ম্যাচে ভালো করি সব কৃতিত্বই আমাকে দেন। আমি স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি নামাজ পড়ি নিয়মিত। স্যার আমাকে সব সময় বলেন, এটা যেন না ছাড়ি। আমি যখন মানসিক ভাবে একটু দুর্বল থাকে তখন সব থেকে বড় রোলটা প্লে করেন আমার স্যারই। সর্বোপরি উনি আমাকে ভালো মানুষ হতে বলেন, আমিও সেটাই চাই। 
নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনই কোন পরিকল্পনা নেই নাবিলের। ভাবতে চান শুধু ক্রিকেটের বর্তমান সময় নিয়েই। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে নাবিলেন ভাবনাটা এমন,  আমি বর্তমানে থাকতেই পছন্দ করি। আমি আসলে বলেত চাই না, আমি ১০ বছর পর কোথায় যেতে চাই। কারণ আধুনিক ক্রিকেট পরিবর্তন হয়ে গেছে। আগামী ১০ বছরের প্ল্যানিং এখন করে রাখলে আপনাকে ঘোরের মধ্যে থাকতে হবে। আমার প্রতিদিনের প্ল্যানটা বেশিী গুরুত্বপূর্ণ। আমি যতটুকু কাজ করেছি, কালকে তার থেকে বেশী হার্ড ওয়ার্ক করতে চাই। 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ













ব্রেকিং নিউজ