খুলনা | শনিবার | ০৮ অগাস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্ব বিকাশে প্রধান অন্তরায় চারটি

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ০৩ মার্চ, ২০২০ ০১:১০:০০

বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অযাচিত হস্তক্ষেপ, সহযোগী সংগঠনকে অঙ্গসংগঠন ভাবা এবং অর্থের বিনিময়ে কেন্দ্র থেকে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পকেট কমিটি ঘোষণা করাই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ। বছরের পর বছর নেতৃত্ব বিকাশে এ চারটিই প্রধান অন্তরায়। খুলনা বিভাগসহ সারাদেশে সফররত ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নয়টি টীমের সামনে এমনি তথ্য প্রকাশ করছে সংগঠনটির তৃণমূল নেতাকর্মী। ভ্যানগার্ড খ্যাত সহযোগি সংগঠন ছাত্রদলের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তৃণমূলে প্রতিনিধি সভা করছে কেন্দ্রীয় এসব টীম।
দলীয় সূত্র জানায়, ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ সুমনকে সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান সজীব, যুগ্ম-সম্পাদক মোঃ মাহবুব মিয়া ও সহ-সাধারণ সম্পাদক সুলতানা জেসমিন জুঁই খুলনা বিভাগ সফর করছেন। মহানগরসহ খুলনা বিভাগের ১০ জেলা, কুয়েট, খুলনা মেডিকেল কলেজ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মিলে ১৪টি ইউনিটে ৩৬টি পৌরসভা, ৬৪টি থানা, একশ’টি কলেজে ছাত্রদলের সাংগঠনিক ভিত্তি রয়েছে। নতুন করে ১৬টি কলেজে ছাত্রদলের কমিটি গঠনে কর্মীসভা করছে বিভাগে এ সফররত টীম। গত ৩ জানুয়ারি যশোর জেলা ও পৌরসভায় প্রতিনিধি সভার মধ্যদিয়ে এ টীমের সফর শুরু হয়। পরে মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (কুইবি) ও বাগেরহাট সফর শেষে এখন খুলনা জেলা সফর করছেন তারা।
সূত্রমতে, ২০১৬ সালের ১৩ অক্টোবর সম্মেলন ছাড়াই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে খুলনা মহানগর ও জেলা ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রের তৎকালীন সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছাত্রদলের কমিটির মেয়াদ দুই বছর। সর্বশেষ ষষ্ঠ কাউন্সিলে গেল বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ভোটের মাধ্যমে বিএনপি’র সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি পদে ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল নির্বাচিত হন। এরপর থেকে নড়েচড়ে বসেছে সংগঠনটি।
খুলনা বিভাগ সফররত টীমের লিডার ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সজীব বলেন, “জেলার তৃণমূলে দীর্ঘদিন ছাত্রদলের কমিটি নেই, অনেক ইউনিটে সভা-সমাবেশসহ কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালিত হয় না, কেন্দ্রের সাথে তৃণমূল নেতাকর্মীদের যোগাযোগ নেই, তৃণমূলের চাওয়া-পাওয়া, প্রত্যাশা-প্রাপ্তি কখনোই কেন্দ্রে পৌঁছায় না। এসব সাংগঠনিক বৈরিতা কাটিয়ে ছাত্রদলের মাধ্যমে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে তৃণমূলের সেতুবন্ধন সৃষ্টির লক্ষেই আমরা কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল প্রতিনিধি সভায় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে জানতে পারছি- এতোদিনে কেন কমিটি করা হয়নি। তাদের মাধ্যমে জানতে পারছি, বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কমিটি গঠনে অযাচিত হস্তক্ষেপ, সম্মেলন ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পকেট কমিটি ঘোষণা এবং সহযোগি সংগঠন ছাত্রদলকে অঙ্গসংগঠন মনে করাই সংগঠণের বন্ধ্যাত্বের মূল কারণ।” উদাহরণ টেনে তিনি আরও বলেন, “গত ১ মার্চ ডুমুরিয়া উপজেলায় ছাত্রদলের প্রতিনিধি সভা হবার কথা, সব আয়োজন সম্পন্ন। হঠাৎ করে জানতে পারলাম পুলিশ আমাদের সভা করতে দেবে না। কারণ অনুসন্ধানে জানতে পারলাম স্থানীয় বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একটা অংশ চায় না ডুমুরিয়াতে প্রতিনিধি সভা হোক। পরে বাধ্য হয়ে কে ডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে প্রোগ্রামটি করেছি।
এভাবেই গ্র“পিংয়ের কারণে বিএনপি’র সূতিকাগার ছাত্রদলের নেতৃত্ব সৃষ্টির অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে, বললেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হেলাল আহম্মেদ সুমন। তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদল বিএনপি’র সহযোগি সংগঠন, কিন্তু এটাকে অঙ্গসংগঠনের মতোই ব্যবহার করতে চান। ফলে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেন বিএনপি নেতারা। আমরা তৃণমূলের এসব কথাগুলো লিখিত আকারে কেন্দ্রে উপস্থাপন করবো। ছাত্রদলের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের এসব বক্তব্যগুলো সাংগঠনিক অভিভাবক বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানাবেন।”


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫