খুলনা | শনিবার | ০৮ অগাস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

দালালের মাধ্যমে পাসপোর্টের চেষ্টা

খুলনায় রোহিঙ্গাদের বিচ্ছিন্ন অবস্থান

এন আই রকি | প্রকাশিত ১০ মার্চ, ২০২০ ০১:১৫:০০


খুলনা বিভাগের বিভিন্ন পাসপোর্ট অফিসে সম্প্রতি আটক হয়েছে একাধিক রোহিঙ্গা। দালালের মাধ্যমে ভুল তথ্য দিয়ে তারা পাসপোর্ট করার চেষ্টা করেছিলেন। আবার অনেক রোহিঙ্গা বর্তমানে খুলনায় ভাসমান অবস্থায় বসবাসও শুরু করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী খুলনায় বিচ্ছিন্ন ভাবে অবস্থান করছেন রোহিঙ্গারা। তাদেরকে আটক করার জন্য একাধিক গোয়েন্দার টিম মাঠে রয়েছে। সম্প্রতি খুলনা থেকে আটককৃত রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে অন্ধকারে থেকে গেছে রোহিঙ্গাদের সহযোগীরা। বিশেষ করে যারা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট, বাড়ি ভাড়া, জন্মনিবন্ধন, সত্যায়িত করে দিতে সহযোগিতা করছেন। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, খুলনায় রোহিঙ্গারা বিভিন্ন কৌশলে আশ্রয় নিচ্ছেন। বিশেষ করে বস্তি ও কলোনীর মত জায়গায় কম টাকায় তারা ঘর ভাড়া পাচ্ছেন। জীবিকার জন্য দৈনন্দিন মজুরি ভিত্তিতে কাজ করছেন। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তারা কথা বলেন খুবই কম। যার ফলে শুধু চেহারা দিয়ে তাদের সনাক্ত করা যাচ্ছে না। আবার অনেক রোহিঙ্গারা চিটাগাং ও নোয়াখালীর ভাষা ব্যবহার করে নিজেদের বাংলাদেশী হিসেবেও পরিচয় দিচ্ছেন। এরপর তারা বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে পাসপোর্টের দালালের সন্ধান করেন। মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তারা চুক্তি করেন পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার। যার ফলশ্র“তিতে ভুয়া জন্মনিবন্ধন, ভুয়া নাগরিক সনদ এবং ভুয়া সত্যায়িত করার মাধ্যমে পাসপোর্ট করার চেষ্টা করেন। অনেক ক্ষেত্রে রোহিঙ্গারা পাসপোর্ট অফিসের ‘রোহিঙ্গা ফিঙ্গার প্রিন্ট’ সফটওয়ারের মাধ্যমে সনাক্ত হন। তবে যারা এই সকল কাজে সহযোগিতা করেন তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরেও থেকে যাচ্ছেন। 
এদিকে খুলনা জেলার নিকটবর্তী রয়েছে বেনাপোল ও ভোমরা স্থল বন্দর। যার ফলে বর্ডার অতিক্রম করে খুব কম সময়েই ভারতে যাওয়া সম্ভব। বৈধভাবে প্রতিদিনই এই বর্ডারগুলো থেকে শত শত যাত্রীর চলাফেরা, তবে অবৈধভাবে যারা যাচ্ছে তাদের কোন হিসাব নেই। রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্য বৈধ বা অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অন্য দেশে চলে যাওয়া। সম্প্রতি খুলনায় পাসপোর্ট করতে এসে আটক হওয়া রোহিঙ্গা আকরাম উল্ল¬াহের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। 
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ২৫ ডিসেম্বর খুলনার পাইকগাছা উপজেলা থেকে রোহিঙ্গা সন্দেহে ফেরমান নামে ১ জনকে আটক করা হয়। ২০১৯ সালে মাগুরা জেলা পাসপোর্ট অফিসে ১জন, ২০১৯ সালের ১০ সে ডুমুরিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা সন্দেহে ১ জন, ১৩ মে নগরীর সাচিবুনিয়া রোহিঙ্গা সন্দেহে বৃদ্ধা, ১৬ মে সোনাডাঙ্গার ডেল্টা ভবনের সামনে রোহিঙ্গা সন্দেহে ৩ জন, চলতি বছরের ২০ ফেব্র“য়ারি পাসপোর্ট করতে আসা শারমিন আক্তার এবং সর্বশেষ ২ মার্চ আকরাম উল্ল¬াহকে আটক করা হয়। প্রশাসন এদেরকে যাচাই বাছাই করে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবং অনেক সময় কারাগারে পাঠাচ্ছেন। 
নগর গোয়েন্দা শাখার ডিসি বিএম নুরুজ্জামান বলেন, আমরা রোহিঙ্গা আটকের পর তাকে ক্যাম্পে ফেরত পাঠাচ্ছি। পাসপোর্ট আবেদন পত্র ভেরিফাই করার সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রগুলো একাধিকবার দেখা হচ্ছে।
জেলা গোয়েন্দার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান জানান, খুলনা রোহিঙ্গাদের ঝুঁকির মধ্যে আছে। আমরা চ্যালেঞ্জের সাথে এগুলো মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিয়ে আছি। বিশেষ করে ভাড়াটে বা ভাসমান মানুষদের ওপর নজরদারি রয়েছে। 
র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ফিরোজ বলেন, রোহিঙ্গাদের অবস্থান খুলনায় বিচ্ছিন্ন ভাবে রয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে সর্তক রয়েছি। যে কোন সংবাদ পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫



ব্রেকিং নিউজ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫