খুলনা | রবিবার | ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

লবণাক্ততায় ক্ষুব্ধ খুলনা নগরবাসী

ওয়াসার লাইনে ভৈরবের পানি!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২০ এপ্রিল, ২০২০ ০০:৩০:০০

গেল সপ্তাহ দুয়েক ওয়াসার পানিতে লবণাক্ততায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী। কারণ অনুসন্ধানে কর্তৃপক্ষ জানতে পেরেছে, ফুলতলার গিলাতলা এলাকার রিজার্ভারে ভৈরব নদের পানি ঢুকে পড়ছিল। সে কারণে গিলাতলা রিজার্ভারসহ মহানগরীর ৫-৬টি নলকুপ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। 
“খুলনাতে ওয়াসার লাইনের যখন নতুন করে কাজ চলছিল, তখন শুনেছিলাম মধুমতির সুমিষ্ট পানি আমরা পাব। এখন যে পানি পাচ্ছি তা তো মনে হচ্ছে বঙ্গোপসাগরের পানি।” নগরীর বাগমারা এলাকার বাসিন্দা হোমিও চিকিৎসক মোঃ নুরুল হুদা শেখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ফেসবুক’ ওয়ালে এমনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। শুধু ডাঃ নুরুল হুদা নন, টুটপাড়া, মাস্টারপাড়া ও খালিশপুরের মুজগুন্নী আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অনুরুপ অভিযোগ ওয়াসা’র পানিতে লবণাক্ততা সম্পর্কে। তবে এমন অভিযোগকে অমূলক বলছেন কর্তৃপক্ষ। যদিও একই এলাকার বাসিন্দা মশিউর রহমান যাদু বলেছেন, অভিযোগ দেবার পর ওয়াসা থেকে একজন ইঞ্জিনিয়ার এসেছিলেন। পানির নমুনাও দেখলাম। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি।
মহানগরীতে সুপেয় পানির সঙ্কট দীর্ঘদিনের। এ সঙ্কট নিরসনে মধুমতি নদী থেকে ৩৩ কিলোমিটার পাইপ লাইনে পানি আনা হয় রূপসার ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টে। এখানে পানি পরিশোধনের পর রূপসা নদীর তলদেশ হয়ে শহরের ৬৫০ কিলোমিটার পাইপে সরবরাহ করছে ওয়াসা। কথা ছিল-আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভাগীয় শহর খুলনার ১৫ লক্ষ বাসিন্দা প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি লিটার সুপেয় পানি পাবেন।
টুটপাড়া মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা স্কুল শিক্ষক ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, “গত সপ্তাহখানেক লক্ষ্য করছি ওয়াসার পানি লবণাক্ত। মধুমতির পানি শোধন না হলেও তো এতো লবণাক্ত হবার কথা নয়। তাহলে কি শোধন প্রক্রিয়ায় কোন ত্র“টি বা শোধন ছাড়াই সরবরাহ কিংবা রূপসা নদীর পানি সরবরাহ লাইনে ঢুকে পড়ছে? বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ মহামারীর মধ্যে ওয়াসার পানির এ লবণাক্ততা নতুন ভাবনার বিষয়!”
নগরীর নতুন বাজার এলাকার যুবলীগ নেতা ফয়েজুল ইসলাম পলাশ বলেন, ওয়াসার পানি তো মুখে দেয়া যাচ্ছে না, এতো লবণাক্ত। তা অবশ্যই একদিক দিয়ে ভাল, এ পানি একটু গরম করে খাইলে আর লবনপানি খাওয়া হয়ে যাবে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ-উজ্জামান বলেন, এ সময়ে পানিতে লবণাক্ততার কারণ অনুসন্ধান করে দ্রুততার সাথে সমাধান করবে বলে প্রত্যাশা করছি। কারণ আমরা একটা সংকটকাল অতিক্রম করছি। এমনিতেই মানুষ অত্যন্ত কষ্টে আছে। তাছাড়া সামনে রমজান। এ সময়ে পানির কোন বিকল্প নেই।
খুলনা ওয়াসা’র ডিএমডি মোঃ কামাল আহমেদ সময়ের খবরকে বলেন, গিলাতলার লাইনে ভৈরব নদের পানি ঢুকে পড়ায় ওই রিজার্ভারটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই লাইন দিয়ে নগরীর মুজগুন্নী ও বয়রা এলাকা পর্যন্ত পানি আসতো। ওটা বন্ধ করে দেয়ায় ওই পানি আর নগরীতে ঢুকতে পারবে না। এছাড়া শহরের ৫-৬টি কল (নলকুপ) বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রূপসার সামন্তসেনায় টিটমেন্ট প্লান্টেও নমুনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা কাজ করছি। তাছাড়া প্রতিটি রিজার্ভার পরীক্ষা করেছি/করছি। আগামী দু/একদিনের মধ্যেই ওয়াসার পানিতে এ লবণাক্ততার সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরিশোধন হয়নি, এমন তো হবার সুযোগ নেই। মধুমতির পানিতে লবণ হবার কথা নয়। যদিও আমরা লবণ রিমুভ করছি না। প্রতি নিয়তই টেস্ট করছি। আমাদের লবণ ১৮ থেকে ২০ পিপি এর মধ্যে, সেটা স্বাদে আসার কথা নয়।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ