খুলনা | শনিবার | ০৮ অগাস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

সংকট কাটাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এগিয়ে আসার আহ্বান

খুলনায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় উচ্চমাত্রায় অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই

বশির হোসেন | প্রকাশিত ০৬ জুন, ২০২০ ০০:৫৫:০০

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোন রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় গেলে তাকে উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পরিস্থিতি যখন এই তখন খুলনায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য কোন ব্যবস্থা নেই। সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট বা নেজাল কেনোলা কোনটিই নেই। ফলে খুলনার করোনা হাসপাতালে সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন বাচাতে এখনই বিকল্প ব্যবস্থা না করতে পারলে তাদের জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, একজন রোগীকে সাধারণ মাত্রায় যে অক্সিজেন দেয়া হয় তা প্রতি মিনিটে ৭ থেকে ৮ লিটার। রোগীর উপর ভিত্তি করে কখনও কখনও তা ১৫ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু করোনা আক্রান্ত হয়ে কোন ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তখন তাকে মিনিটে ৫০ লিটার বা তার বেশি অক্সিজেন সরবরাহ করার প্রয়োজন হয়। তবে মিনিটে ৫০ বা তার বেশি লিটার অক্সিজেন ব্যবহার করার মত কোন ব্যবস্থা নেই খুলনায়। করোনা হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে সাড়ে ৩শ’ সিলিন্ডার আছে। এসব সিলিন্ডার এর ধারণ ক্ষমতা ১৫ থেকে ২০ লিটার। অপারেশন থিয়েটারে ২শ’ থেকে ৩শ’ লিটারের কয়েকটি সিলিন্ডার রয়েছে। এগুলো দিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। 
নেজাল কেনোলা নেই : করোনা আক্রান্ত রোগীদের উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করার জন্য কোন নেজাল কেনোলা নেই খুলনায়। এর জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন প্লান্টও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নির্মাণ করা হয়নি কখনও। তবে আবু নাসের হাসপাতালের আইসিইউ ব্যবহারের জন্য স্বল্প পরিসরে একটি অক্সিজেন প্লান্ট রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে করোনা হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্তত একটি বা দু’টি বেডে হাই নেজাল ফ্লো অক্সিজেন সাপ্লাই-এর ব্যবস্থা করা ছাড়া মৃত্যুর সংখ্যা কমানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 
একটি হিসাবে দেখা যায় মিনিটে ৫০ থেকে ৬০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করলে একজন রোগীর ঘন্টায় ৩ হাজার লিটার অক্সিজেন প্রয়োজন। খুলনা মেডিকেলে যে সকল সিলিন্ডার রয়েছে তা দিয়ে একজন রোগীর মাত্র ৩ ঘন্টা সরবরাহ করা যাবে। ফলে এই মুহূর্তে বড় আকারের ১০টি সিলিন্ডার ক্রয়ের প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অক্সিজেনের গুরুত্বের বিবেচনা করে খুলনা মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপ্যাল ও খুলনা বিএমএ ও স্বাচিপের সাধারণ সম্পাদক প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন। তাতে অতি দ্রুত অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে বিস্তারিত লেখেন। তবে চিঠির বাইরে তিনি সিভিল সার্জনকে অনুরোধ করছেন বেসরকারিভাবে এর দ্রুত একটি সমাধান করার জন্য। 
সংকট মোকাবেলা : যতদিন অক্সিজেন প্লান্ট এর ব্যবস্থা না হয় ততদিন সিলিন্ডারের উপর নির্ভর করেই সংকট মোকাবেলা করতে হবে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সকল সিলিন্ডার প্রতিদিন বিনামুল্যে রিফিল করে দেয় খুলনা অক্সিজেন কোম্পানি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আরও অক্সিজেন তারা বিনামূল্যে সরবরাহ করতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এ অবস্থায় সিলিন্ডারই মূল সংকট হিসাবে দেখা দিয়েছে। 
ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনা শহর এবং জেলায় অন্তত ৩ শতাধিক ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। এসব হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে সংকটকালীন সময়ে ২টি করে ৬শ’ সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারলে তা প্রতিদিন রিফিল করে জরুরি ব্যবস্থা হিসাবে চালু করা যাবে। যা সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন বাঁচাতে এই মুহূর্তে সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখবে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাঃ রাশিদা সুলতানা জানিয়েছে, সরকারিভাবে খুব দ্রুত একটি হাই নেজাল ফ্লো কেনোলা অক্সিজেন প্লান্ট বসানো হবে খুলনায়। এ সংক্রান্ত কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলছে। আশা করি তা মানুষের জীবন বাচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫



ব্রেকিং নিউজ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫