খুলনা | শনিবার | ০৮ অগাস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

করোনা রোগীর সেবা নতুনদের হাতে এবং হাসপাতাল চালাচ্ছে মধ্যম সারির চিকিৎসকরা

খুমেক হাসপাতালের অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক নিয়মিত দেখছেন না রোগী 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১২ জুন, ২০২০ ০০:২৫:০০

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সম্মুখ সারির যোদ্ধা হিসাবে সব থেকে বেশি ভূমিকা রাখছে চিকিৎসকরা। কিন্তু খুলনায় এ যুদ্ধে সরাসরি কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেয়ার অধিকাংশ চিকিৎসকই নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত। আর ফ্লু কর্নার ও নন কভিড রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতাল চালিয়ে নিচ্ছে মধ্যম সারির চিকিৎসকরা। সে হিসাবে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের অধিকাংশই হাসপাতাল উপস্থিত নেই। ফলে জটিল ও মুমূর্ষু অনেক রোগীরা জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার জন্য সিনিয়র চিকিৎসকদের রোষ্ট্রার করা হলেও তাদের দুই-একজন ছাড়া কেউ সেখানে যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। সহকারী অধ্যাপক বা কনসালটেস্ট পদমর্যাদার কয়েকজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হলেও তাদের কেউ করোনা হাসপাতালে দায়িত্বে ছিলেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ সিনিয়র চিকিৎসক নিয়মিত যান না খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। অন্যদিকে করোনা হাসপাতালের চিকিৎসকদের ডিউটি রোষ্ট্রার বিশ্লেষণ করে দেখা যায় দুই-একজন ছাড়া বেশিরভাগ চিকিৎসকই ৩৯ বিসিএস-এর মাধ্যমে সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত নতুনরা। তাদের সাথে দুই-একজন মধ্যম সারির চিকিৎসক রয়েছে। চিকিৎসা শেষে যে যারা বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন, তাদের মধ্যে একজন মধ্যম সারির চিকিৎসক এবং বাকিরা সবাই নতুন চিকিৎসক সম্প্রতি নিয়োগ প্রাপ্ত। 
হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া সিনিয়র চিকিৎসকদের একটি রোষ্ট্রার সম্প্রতি করোনা হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া একাধিক ব্যক্তির কাছে দেখানো হলে তারা নিশ্চিত করেছেন এই সিনিয়র চিকিৎসকরা সেখানে পাননি। কোন রোগীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সেও কথা বলেননি।
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা সাসপেকটেড আইসোলেশন সেন্টারের রোস্ট্রারেও সবাই নতুন চিকিৎসক। শুধুমাত্র মধ্যম সারির একজন চিকিৎসককে সহকারী রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেয়া রয়েছে।
খুমেক হাসপাতাল ও সদর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সিনিয়র চিকিৎসকরা আগে যেমন বিভাগীয় প্রধান বা প্রফেসর পদমর্যাদার চিকিৎসকরা রাউন্ড দিতেন, তারা এখন আর কেউ তেমন ওয়ার্ডে আসেননা। ফলে জটিল ও মুমূর্ষু অনেক রোগীর অপারেশনসহ রেগুলার অপারেশনও বন্ধ রয়েছে।
হাসপাতাল চলছে মধ্যম সারির চিকিৎসকের হাতে : খুমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা যায়, মধ্যম সারির চিকিৎসকরাই এককভাবে হাসপাতাল চালাচ্ছেন বিশেষ করে সহকারী রেজিস্ট্রার পদমর্যাদার চিকিৎসকরাই আগের থেকে বেশিরভাগ হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। কিন্তু প্রতিদিন কনসালটেন্ট বা প্রফেসর মর্যাদার চিকিৎসকদের যে রাউন্ড হতো এখন তা হচ্ছে না বলে রোগীরা জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, খমেক’র রেডিওলোজি বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। এক্সরে সিটিস্ক্র্যান এবং আলট্রাসাউন্ড বিভাগের বেশিরভাগ চিকিৎসকই হাসপাতালে আসেন না। সহকারী অধ্যাপক ডাঃ সালাউদ্দিন আহমেদ এবং ডাঃ সাদিকা পারভীন দীর্ঘদিন হাসপাতালে আসেন না বলে জানিয়েছেন কর্মচারীরা।  ফলে মেডিকেল টেকনোলোজিস্টরাই চালিয়ে নিচ্ছেন যাবতীয় কার্যক্রম। যে কারণে হরহামেশাই ভুল হচ্ছে। সম্প্রতি এক পুলিশ সদস্যের এক্সরে প্লেটে ভুল হলে তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এছাড়া সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপকরা, গাইনী ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানসহ সিনিয়র চিকিৎসকরা ওয়ার্ডে যান না বলে জানিয়েছেন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রোগী ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মচারী। তবে খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আহাদ, উপাধ্যক্ষ ডাঃ মোহদী নেওয়াজ, সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, ডাঃ খসরুল আলম মল্লিকসহ করোনা চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে সরাসরি জড়িত কয়েকজন চিকিৎসক নিয়মিত হাসপাতালে আসেন এবং কঠোর পরিশ্রম করছেন বলে জানা গেছে। বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ওয়ার্ডে একজন মাত্র চিকিৎসক থাকায় বিভাগীয় প্রধান ডাঃ তরিকুল ইসলাম নিয়মিত হাসপাতালে রোগী দেখছেন বলে জানান ওয়ার্ডের রোগীরা। ডাঃ মোঃ কুতুব উদ্দিন মল্লিকের ওয়ার্ডে রোগী না নেই, তবে নিয়মিত কলেজে আসলেও হাসপাতালে যাচ্ছেন না। এছাড়া সিনিয়র কয়েকজন চিকিৎসক কলেজে নিয়মিত আসলেও হাসপাতালে তাদের দেখা যায়না।
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, করোনা চিকিৎসায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই সাথে সকল চিকিৎসক এক্সপোজ না হয়ে রেজিস্ট্রার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া মধ্যম সারির চিকিৎসক যারা বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বে রয়েছেন তারা সংশ্লিষ্ট বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের সাথে আলাপ আলোচনা করেই রোগী দেখছেন।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫



ব্রেকিং নিউজ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫