খুলনা | শনিবার | ০৮ অগাস্ট ২০২০ | ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

করোনা প্রভাব ও ভারতীয় গরু আমদানিতে বিপাকে খামারি ও ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ৩০ জুলাই, ২০২০ ০০:৩৩:০০


একদিন পরই ঈদুল আযহা। ইতোমধ্যে মহানগরীসহ খুলনা  জেলায় পশুর হাট জমে উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু করোনার প্রভাব ও হাটগুলোতে ভারতীয় গরু আমদানি হওয়ায় দেশি গরু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা। ফলে ন্যায্য দাম না পাওয়ার শঙ্কা তাদের।
জেলা প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ৬ হাজার ৮৯০টি গবাদি পশুর খামার রয়েছে। এসব খামারে মোট গবাদি পশু রয়েছে ৪৫ হাজার ১৮১টি। এর মধ্যে গরু ২৮ হাজার ৩৯২টি এবং ছাগল ও ভেড়া ১৬ হাজার ৭৯৯টি। গত বছর খুলনায় খামারের সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ১টি এবং। কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল ৫১ হাজার ২৯৪টি পশু। গত বছরের তুলনায় এবার খামার ও গবাদিপশু উভয়ের সংখ্যাই কমেছে। তবে ভারতীয় গরু আমদানি হওয়ায় ও করোনা পরিস্থিতিতে পশুর দাম কম থাকায় এবারের কোরবানির ঈদের বাজার তেমন ভালো না। ফলে খামারিদের সাথে মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও মারাত্মক বিপাকে পড়েছে। 
গবাদি পশু পালনকারীরা জানান, মূলতঃ কোরবানি উপলক্ষেই গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ বিভিন্ন পশু মোটাতাজা করা হয়। কোরবানির ৪-৫ মাস আগে থেকে কোরবানি পর্যন্ত কয়েক দফা পশু খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পায়। সে অনুযায়ী কোরবানির সময় পশুর দামও বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এবছর করোনা পরিস্থিতিতে পশু খাদ্য ও আনুসঙ্গিক সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু পশুর হাটে দাম কম। আবার হাট বসলেও ক্রেতাও কম। এই পরিস্থিতিতে লোকসানে পড়তে হচ্ছে।
গরু ব্যবসায়ী সন্দিপন বিশ্বাস বলেন, কোরবানিতে বিক্রির জন্য দু’টি বড় গরু ছিলো। দুই মাস আগে ব্যবসায়ীরা ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা দাম বলেন। ৮ হাজার টাকা অগ্রিম প্রদান করে। পরে ওই ব্যবসায়ীরা আর আসেনি। এ অবস্থায় আঠারমাইল হাটে নিয়ে গেলে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। 
মৌসুমী ব্যবসায়ী মোঃ জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, সারাবছরই আমরা গরু কেনা বেচা করে থাকি। কোরবানির আগে ১ লাখ ২০ হাজার মূল্যে গরু কেনেন। বর্তমানে সেই গরুও দাম বলছে ৯০ হাজার টাকা। কি হবে আল্লাহই ভাল জানেন।
ডুমুরিয়ার ডেইরি ফার্মের মালিক সাদি বলেন, পশু খাদ্যের অতিরিক্ত মূল্য এবং অন্যান্য খরচ মিলে গরুর লালন-পালনে ব্যয় বেড়েছে। তাই এ সঙ্কটময় মুহূর্তে দাম নিয়েও সংশয়ে তিনি।
সাচিবুনিয়ার খামারি মোঃ বশির হোসেন বলেন, তার খামারে ১২টি দেশি গরু আছে। যার মধ্যে কোরবানিযোগ্য ৫টি। কিন্তু এ বছর ব্যাপারি অনেক কম আসছেন। ফলে দুশ্চিন্তায় আছেন।
তেরখাদা এলাকার খামারি হাসেম আলী বলেন, প্রতি বছর কোরবানিতে ভালো দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই গরু লালন-পালন করেন। কিন্তু এবার দামের পাশাপাশি বিক্রি নিয়েও চিন্তিত তিনি।
নগরীর জোড়াগেট পশু ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া বলেন, এখনও পর্যন্ত জোড়াগেট হাটে শতকরা ৩০ ভাগ পশু আসেনি। ক্রেতাও কম। তবে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দামের গরুর কদর বেশি।
তবে খুলনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলেন, করোনার কারণে এবার অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রি হচ্ছে। আর নগরীর হাটে পশু আসার সময় এখনও রয়েছে। তবে এবার পশুর কোন ইনজেকশন দেয়া নেই।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫



ব্রেকিং নিউজ











শোকাবহ আগস্ট

শোকাবহ আগস্ট

০৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০৫