খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত

হজের খুতবায় করোনা থেকে মুক্তি ও বিশ্ব শান্তি কামনা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:১৪:০০

‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত ছিল আরাফাতের ময়দান। মসজিদে নামিরা থেকে হজের খুতবায় বৈশ্বিক মহামারি থেকে মুক্তি এবং আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে সালাম দিয়ে হজের খুতবা শুরু করেন ৯২ বছর বয়সী শায়খ ড. আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া। খুতবার শুরুতে আল্লাহতায়ালার প্রশংসা ও হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পাঠ করেন। লিখিত খুতবায় সীমিত পরিসরে হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরা হয়। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, খুব দ্রুত বৈশ্বিক এই মহামারি কেটে যাবে। আবার আগের মতো হজ ও উমরা যাত্রীদের আগমনে মুখরিত হবে পবিত্র এই ভূমি।
৩০ মিনিটব্যাপী খুতবার শেষের দিকে তিনি সৌদি সরকারের জন্য দোয়া করেন। তিনি বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি কামনা করেন। রোগ মুক্তি চান। করোনাকে মহামারি উল্লেখ করে এর থেকে বিশ্ববাসীর হেফাজতের জন্য দোয়া করেন। সর্বাবস্থায় আল্লাহর দরবারে যাবতীয় সমস্যার জন্য বেশি বেশি দোয়া করার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি।
খুতবায় মানুষের অধিকার বিশেষ নারীর অধিকার ও উত্তরাধিকার সম্পত্তি বন্টনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ওয়াদাপালন, মাতাপিতার সেবা, সৎকাজের আদেশ, অসৎকাজের নিষেধ, মানবসেবা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার বিষয়ও উল্লেখ করেন তিনি।
খুতবায় তিনি বৈশ্বিক মহামারি থেকে মুক্তি, গোনাহ মাফ, আল্লাহর রহমত কামনাসহ সম-সাময়িক প্রসঙ্গ নিয়ে বিশ্ববাসীর প্রতি নানা নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। 
কুরআন ও হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে মানুষকে ইসলামের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী হওয়ার আহ্বান জানান। আরাফাতের ময়দানে করণীয়সহ হজের পরবর্তী বিষয়গুলো তুলে ধরেন। নামাজ, পবিত্রতা অর্জন, রোগীর সেবা, মহামারি উপদ্রুত এলাকায় প্রবেশ না করা এবং ওইসব এলাকা থেকে অন্যত্র না যাওয়ার শরীয়তের বিধানগুলো বর্ণনা করেন।
খুতবার পর জোহরের নামাজের আজান দেন মসজিদের হারামের মুয়াজ্জিন শায়খ ইমাদ বিন আলি ইসমাইল। এরপর দুই ইকামতে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন আলাদা জামাতে।
এ বছর পবিত্র হজের আরবি খুতবা অন্যান্য ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষায়ও অনুবাদ করে সম্প্রচার করা হয় । দু’টি সম্প্রচার মাধ্যমে হজের খুতবা ১০টি ভাষায় অনুবাদ করে প্রচার করা হয়। বাংলা ছাড়াও বাকি নয়টি ভাষা হল ইংরেজি, মালয়, উর্দু, ফার্সি, ফ্রেঞ্চ, মান্দারিন, তুর্কি, রুশ ও হাবশি। ২০১৯ সালের হজে ৫ ভাষায় হজের খুতবার অনুবাদ প্রচারিত হয়েছিল।
এর আগে বুধবার ফজরের নামাজ আদায়ের পর কাবা শরিফ তাওয়াফ করে মিনায় হাজিরা যাওয়ার মাধ্যমে বৃহস্পতিবার শুরু হয় হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
২৮ জুলাই খাদেমুল হারামাইন শরিফাইন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় ফরমানে শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়াকে নিয়োগ দেন। শায়খ আবদুল্লাহ বিন সোলায়মান আল মানিয়া হলেন সবচেয়ে বেশি বয়স্ক হজের খতিব।
হজের অন্যতম ফরজ হল ৯ জিলহজ আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা। আরাফাতের ময়দানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই রীতি অনুযায়ী প্রতি বছর ৯ জিলহজ আরাফাত ময়দানে হজের খুতবা দেওয়া হয়।
এদিকে হজের খুতবা শেষে আরাফাতের ময়দানে জোহর ও আছরের নামাজ আদায় করেন হাজিরা। এদিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাতে অবস্থান করেন হাজিরা। সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায় করেন হাজিরা। রাতে অবস্থানও করেন সেখানে। মুজদালিফায় ফজরের নামাজ আদায় করে সকালে হাজিরা ফিরবেন মিনায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজ আদায় শেষে আরাফাতের ময়দানের দিকে যাত্রা শুরু করেন হাজিরা। তাঁদের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছে, মহান আল্লাহর প্রশংসা, ধ্বনিত হচ্ছে ‘লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল-মুলক’-তালবিয়া। 
আজ শুক্রবার ১০ জিলহজ হাজিরা মিনায় ফিরে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সর্বোচ্চ ৫০ জন একত্রে জামারাতুল আকাবায় পাথর নিক্ষেপ করবেন। নিক্ষেপের নুড়িপাথর হজ কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যাগের মাধ্যমে এবার সরবরাহ করবে। এরপর আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় হাজিরা পশু কোরবানি করবেন। সবশেষে মাথা মুণ্ডন এবং তাওয়াফে জিয়ারত করবেন হাজিরা।
করোনা মহামারির কারণে যারা আগে হজ করেননি, এমন এক হাজার ব্যক্তি এবার হজের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ মুসল্লিকে ১৬০টি দেশ থেকে বাছাই করে নেওয়া হয়েছে। তারা সবাই সৌদি আরব প্রবাসী। বাকি এক-তৃতীয়াংশ মুসল্লি সৌদির নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসক।
হজে অংশ নেওয়া সবার বয়সই ২০ থেকে ৫০-এর মধ্যে। এবার কোনো হাজিকে কাবা শরিফ স্পর্শ করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। পাঁচ ফুট দূরে থেকে তাওয়াফ, নামাজে অংশগ্রহণ, সাঈসহ হজের সব কার্যক্রম পালন করা হচ্ছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ