খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

হত্যাসহ ২৫ মামলার আসামি মিনা কামাল ওরফে ‘ফাটা কেস্ট’ বন্দুকযুদ্ধে নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক, রামপাল প্রতিনিধি | প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:১৮:০০

রূপসা উপজেলার নৈহাটির সাবেক ইউপির চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল ওরফে ফাটা কেস্ট (৫৫) ‘বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী ভেকুটিমারি স্থানে র‌্যাবের সঙ্গে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। জেলা পুলিশের শীর্ষ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম ছিল। রূপসার আলোচিত সারজিল ইসলাম সংগ্রাম (২৮) হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি মিনা কামালের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ২৫টি মামলা রয়েছে। নিহত কামাল রূপসা উপজেলার ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের মিনহাজ উদ্দিন ওরফে মিনা মৌলভীর পুত্র।  তিনি যুবলীগের নেতা ছিলেন, তবে অস্বীকার করেছেন আ’লীগের দুই শীর্ষ নেতা।
র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রওশনুল ফিরোজ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপালের ভেকুটিমারি এলাকায় ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে অভিযান চালায় র‌্যাব। এসময় মিনা কামালের লোকজন র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়লে আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এক পর্যায়ে মিনা কামাল গুলিবিদ্ধ হন এবং তার সঙ্গীরা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন। পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মিনা কামালকে উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে পিস্তল, গুলি, ছুরি ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। মিনা কামালের বিরুদ্ধে হত্যা, নারী নির্যাতন, মাদকসহ বিভিন্ন আইনে ২৫টি মামলা রয়েছে।  
রামপাল থানার ডিউটি অফিসার আসছার উদ্দিন খান জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’র পর র‌্যাব সদস্যরা সকাল ৬টার দিকে গুলিবিদ্ধ মিনা কামালকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরে সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ দেলোয়ার হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
সবশেষ বাগেরহাট সদর হাসপাতাল থেকে ময়না তদন্ত শেষে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে নিহত মোস্তফা কামালের লাশ পুলিশ পাহারায় বাগমারা এলাকায় পৌঁছায়। সাধারণ জনতা তাকে দেখার জন্য তার বাড়িতে ভীড় করে। পূর্ব থেকেই উক্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। ওইদিন বাদ আছর পূর্ব রূপসার দারুস সালাম জামে মসজিদ মাঠে নামাজে জানাজা শেষে বাগমারা আল-আকসা দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন পারিবারিক কররস্থানে তার পিতা মিনহাজ উদ্দিন মৌলভীর কররের পাশে দাফন করা হয়। নামাজে জানাজা পরিচালনা করেন দারুস সালাম জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মাবুদ। নামাজে জানাজায় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। 
রূপসা থানা পুলিশের ওসি মোল্লা জাকির হোসেন জানান নিহত কামালের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় গত ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সারজিল রহমান সংগ্রাম হত্যা মামলা, অস্ত্র আইনে (নং-২৬, তারিখ ২৭/১১/১৯), মাদক দ্রব্য ক্রয় বিক্রয়ে ( নং ২৫, তাং-২৭/১১/১৯) এবং দু’টি মারামারিতে যথাক্রমে মামলা রয়েছে (নং ৫, তাং-৪/৫/১৯ এবং নং ১২, তাং ২২/৩/১৮)। ৫টি মামলারই সে চার্জশীটভুক্ত আসামি। 
জানা গেছে তার বিরুদ্ধে ২৫টিরও বেশি মামলা, শতাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে। যার মধ্যে নয়টি খুনের মামলা।
উল্লেখ্য, দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করতেন মিনা কামাল। 
খুলনা জেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সস্পাদক কামরুজ্জামান জামাল জানান, এই কামাল আ’লীগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অংশ নিতো। তবে দলে তার কোনও পদ-পদবী ছিল না।
জেলা আ’লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ বলেন, ‘দলের মিটিং-মিছিলে তো অনেকেই অংশ নেয়। অংশ নিলেই তো তারা আ’লীগের হয়ে যায় না। আর কামাল আ’লীগের কোনও পদ-পদবীতে ছিল না কখনও।’

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ