খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

অস্ত্র মামলায় চার্জশীট : ‘মাঝে মাঝে খুব ক্ষ্যাপাটে ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন’

সাতক্ষীরায় গ্রেফতারস্থলে নেয়া হয় সাহেদকে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:১৯:০০

শেষবার যখন এই পথে রাতের আঁধারে এসেছিলেন তখন তার পরনে ছিল বোরকা। পালাতে পালাতে এসেছিলেন শাখরা-কোমরপুর এলাকায় লাবণ্যবতী নদীর তীরে। এখানেই একটা নৌকাযোগে সীমান্ত অতিক্রমের ধান্দা ছিল তার। তবে তার আগেই ধরা পড়ে যান রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারির হোতা মোঃ সাহেদ। জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনে বৃহস্পতিবার আবার তাকে একই নদীর ওপরে নির্মিত বেইলি ব্রিজে এনে নামায় খুলনা র‌্যাব। তবে এবার ছিল তার দুই হাতে হাতকড়া। মাথায় হেলমেট। পরনে র‌্যাবের ভেস্ট।
১০ দিনের রিমান্ডের চতুর্থ দিনে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোঃ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে খুলনার র‌্যাব কার্যালয় থেকে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার গ্রেফতারস্থল সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী শাখরা-কোমরপুর এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। এদিন বিকেলে তাকে লাবণ্যবতী নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজের ওপর মিনিট দশেক রাখা হয়। সেখানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে বেশ কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। দূর থেকে বোঝার উপায় ছিল না সেসব প্রশ্নের কী জবাব দিয়েছেন সাহেদ। কারণ, এ সময় সাংবাদিকদের ব্রিজ ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। পরে তাকে আবারও খুলনায় র‌্যাব-৬ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। 
তবে তদন্তের স্বার্থে রিমান্ডে প্রাপ্ত তথ্য না জানানো হলেও দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সাহেদ করিম মাঝে মাঝে খুব ক্ষ্যাপাটে আচরণ করছেন। আবার কখনও কখনও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করছেন। তবে গ্রেফতার হওয়ার আগে সাতক্ষীরায় তার অবস্থান ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন বিষয়ে  গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের এস আই রেজাউল ইসলাম জানান, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। 
জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর সীমান্তে অস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেফতার হওয়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোঃ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত রবিবার ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন সাতক্ষীরার আমলী আদালত-৩-এর বিচারক (ভার্চুয়াল) রাজীব রায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা র‌্যাব-৬ সাতক্ষীরা ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম তার ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। পরের দিন সোমবারই তাকে ঢাকা থেকে খুলনা র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।
অস্ত্র মামলার চার্জশীট : মোঃ সাহেদের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় অস্ত্র আইনে করা মামলার চার্জশীট (অভিযোগপত্র) দিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক মোঃ শায়রুল এ চার্জশীট জমা দেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, অস্ত্র মামলার ক্ষেত্রে ১৫ দিনের বাধ্যকতা রয়েছে, আমরা এর মধ্যেই করেছি। অস্ত্র পজিশনে পাওয়া গেলে সেটা দণ্ডনীয় অপরাধ, সেটা তিনি যদি ব্যবহার নাও করে থাকেন তাও অপরাধ। অস্ত্র মামলায় সাজা নিশ্চিত করতে যে ধরনের তথ্য-প্রমাণাদি দরকার আমরা সব কিছুর সত্যতা নিশ্চিত করেছি এবং তা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন আদালত বিচার করে এর রায় দেবেন।
আব্দুল বাতেন আরও বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোঃ সাহেদের একটি অস্ত্র মামলা আমরা তদন্ত শেষ করেছি। দুজন সাক্ষীর ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। সাহেদ যখন আমাদের রিমান্ডে ছিলেন, তখন তার ভাষ্যমতে তার ব্যবহার করা গাড়িটি আমরা জব্দ করি এবং গাড়ি থেকে অবৈধ অস্ত্র জব্দ করি।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ জুলাই বুধবার ভোরে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর সীমান্তের লাবন্যবতী নদীর উপর নির্মিত ব্রেইলী ব্রীজ এর নীচ থেকে সাহেদকে বোরখা পরিহিত অবস্থায় গ্রেফতার করে র‌্যাব।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ