খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

স্বরাষ্ট্রসহ পুলিশ সদর দপ্তরের হিট লিস্টে ছিল রূপসার ‘ফাটাকেষ্ট’ মিনা কামাল

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০২০ ০০:৫৫:০০


খুলনায় বহুল আলোচিত আরও একজন তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীর জীবনাবসান ঘটেছে। হত্যা, চাঁদাবাজি, দস্যুতা, অস্ত্র আইন, নারী নির্যাতন, অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট, মাদক ব্যবসাসহ এমন কোন অপরাধ নেই যে করেনি রূপসার নৈহাটি ইউনিয়নের মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল। দুই ডজন মামলার আসামি কামালকে ফাটা কেস্ট হিসেবে চিনতো এলাকাবাসী। নৈহাটি ইউপি সাবেক চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি। একপর্যায়ে তার নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু মানুষ প্রশাসনের দারস্থ হতে থাকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, র‌্যাব সদর দপ্তর, গোয়েন্দা সংস্থাসহ বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দপ্তর গুলোতে তালিকাভুক্ত ছিল মিনা কামাল। এছাড়া তার সহযোগী হিসেবে রয়েছে প্রায় ৫৪ জনের নাম। বিগত কয়েক বছর রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে নিজেকে ধরা ছোয়ার একটু বাইরে রেখেছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেফতারের জন্য কয়েক দফা অভিযান চালিয়েও তাকে পায়নি। তবে বন্দুকযুদ্ধে মিনা কামাল নিহতের খবরে এলাকাবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। 
দীর্ঘ এক বছর পলাতক থাকার পর র‌্যাবের জালে ধরা পড়েন তালিকাভুক্ত এ সন্ত্রাসী। কিন্তু নিজেকে রক্ষার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে র‌্যাব-৬ সদস্যদের সাথে বন্দুকযুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে বাগেরহাটের রামপাল এলাকায় নিহত হন। ৩ নম্বর নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের হুজুর মিনহাজ উদ্দিন ওরফে মিনা  মৌলভীর ছেলে মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট। মোস্তফা কামাল ওরফে মিনা কামাল মাদ্রাসায় ৭ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। মাদ্রাসায় লেখাপড়ার সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থি দলের সদস্যদের সাথে পরিচয় ঘটে। এরপর সে লেখাপড়া বাদ দিয়ে এমএল জনযুদ্ধ পার্টিতে যোগদান করে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এরপর খুলনা জেলা আ’লীগের এক শীর্ষ নেতার কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক শেল্টারে চলে আসে। এক পর্যায়ে জেলা আ’লীগের ওই শীর্ষ নেতার সাথে মিনা কামালের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত টেকেনি। ২০০৮ সালে খুলনার একজন প্রতিমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয়ে আরও লাইম লাইটে চলে আসে। এলাকায় জমি দখল, সরকারি খাল দখল, সাধারণ ব্যবসায়ীদের প্রতিষ্ঠান দখল, লুটপাট, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে নির্যাতনের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ২০১৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রূপসায় সারজিল রহমান হত্যাকান্ডের পর থেকে মিনা কামাল আত্মগোপন করেন। এরপর চলতি বছরের ২০ ফেব্র“য়ারি আত্মসর্পণ করলে আদালতে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে। গত ৭ এপ্রিল তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও আত্মগোপন করেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীসহ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে মিনা কামালের এসকল তথ্য উঠে এসছে।  
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সূত্র থেকে জানা গেছে, খুলনা জেলার সন্ত্রাসী-খুনি ও অপরাধীর তালিকায় ৭ম স্থানে ছিল মিনা কামাল ওরফে ফাটাকেষ্ট কামালের নাম। তার নামে খুলনা সদর থানা, রূপসা থানা ও বাগেরহাটের ফকিরহাট থানায় প্রায় দু’ডজন মামলা রয়েছে। এছাড়াও কয়েকশ’ মানুষের জিডি ও সাধারণ অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মিনা কামালের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নানা অভিযোগের বিষয়ে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্দেশনা পুলিশ সদর দপ্তরে প্রেরণ করা হয়। এরপর গত ৪ ফেব্র“য়ারি পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মিনা কামালের অপরাধের বিষয়ে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনার পুলিশ সুপারকে নির্দেশনা দেয়া হয়।   
র‌্যাব-৬’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রওশনুল ফিরোজ জানান, অনেকদিন ধরেই মিনা কামালকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন বৈঠকের খবর পেয়ে রামপালের ভেকুটিমারি এলাকায় ভোরে অভিযান চলা সময়ে মিনা কামালের লোকজন র‌্যাবকে উদ্দেশ্য করে গুলি ছুড়ে, এ সময় আত্মরক্ষায় র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মিনা কামাল গুলিবিদ্ধ হন পরে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ