খুলনা | রবিবার | ০৯ অগাস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

‘ভালবেসে ধার দেয়া টাকা হয়ে যায় কারেন্ট সুদ’ 

চিতলমারীতে সুদ কারবারিদের রয়েছে শক্তিশালী ‘আদায়কারী’ বাহিনী 

এস এস সাগর, চিতলমারী  | প্রকাশিত ৩১ জুলাই, ২০২০ ০১:১৭:০০

চিতলমারীতে সুদ কারবারিদের রয়েছে শক্তিশালী ‘আদায়কারী’ বাহিনী 


‘প্রথমে ওরা এসে ভাব জমায়। খাতির করে। পরে দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে টাকা ধার দেয়। সময় মত সেই টাকা পরিশোধ না করলে চড়া সুদে পরিণত হয়। শুরু হয় সাপ্তাহিক ও মাসিক হিসেবে সুদ গোনা। ধারকৃত টাকার ২ থেকে ৩ গুণ পরিশোধ করলেও পরিশোধ হয় না আসল টাকা। বিক্রি করতে হয় ভিটেমাটি, বাড়ি, গাড়ি ও সহায় সম্বল। এতেও সুদ কারবারীরা ক্ষ্যান্ত হয় না। শেষ পর্যন্ত তাদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে মেয়ে-গৃহবধূর উপর। আর এই টাকা আদায় করতে সুদ কারবারিদের রয়েছে শক্তিশালী ‘আদায়কারী’ বাহিনী। তাই তো বাগেরহাটের চিতলমারীতে অত্যারচার-নির্যাতনে একের পর এক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে চরম দুঃখ ভরাকণ্ঠে এমনটাই জানালেন সুদের দায়ে সব হারানো প্রকাশ বালা (৩২)। 
উপজেলার চরবানিয়ারী ইউনিয়নের সাবেক সদস্য খড়মখালী গ্রামের হরেকৃষ্ণ বালার ছেলে প্রকাশ বালা আরো জানান, বছর ৩/৪ আগে অতিবর্ষণে তার চিংড়ি ঘের তলিয়ে সব মাছ ভেসে যায়। মাছের খাবারের দোকানে দেনা হয়ে পড়েন। ভালবাসার ভাব দেখিয়ে এ সুদ কারবারি ৫০ হাজার টাকা ধার দেন। কিছুদিন পর টাকা ফেরত চান ওই পাওনাদার। দিতে না পারায় মাথায় ওঠে সুদের বোঝা। ওই টাকা পরিশোধ করতে আরও ৪/৫ জনের সুদের জালে জড়িয়ে পড়েন। এক বছরের মাথায় তার আনা দেড় লাখ টাকার সুদ হয় ১০ লাখ টাকা। চালু হয় সুদকারবারী ও তাদের আদায়কারী বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের স্টীম রোলার। তাদের নির্মমতায় পালিয়ে যান বাড়ি-ঘর ফেলে। কিন্তু এভাবে কত দিন। সুদ কারবারিদের সাথে আপোষ-রফা করতে বিক্রি করে দেন চিতলমারী বাজারে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া দোকান ঘর ও জায়গা-জমি। এখন সে সব হারিয়ে নিজের জমিতে বর্গা চাষি। 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, সুদ কারবারিদের নির্যাতনে চিতলমারীর কয়েকশ’ পরিবার ভিটেমাটি, জায়গা-জমি ও গাড়ি-বাড়ি হারিয়ে আজ নিঃস্ব। এছাড়া সুদে কারবারিদের অত্যাচারের স্টীম রোলারের চাপ সইতে না পেরে বাপ-দাদার ভিটে-মাটি ফেলে পালিয়েছে বহু পরিবার। এ উপজেলায় সদর হতে প্রত্যন্ত পল্লী পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরীর কমপক্ষে দুই শতাধিক সুদকারবারী রয়েছে। এর বাইরে দেপাড়া, বাগেরহাট, বেসরগাতি ও গজালিয়ার বহু লোক চিতলমারীর বিভিন্ন এলাকায় সুদ কারবার চালায়। 
এখানে সুদের দেনার চাপ সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেন কালশিরা গ্রামের ভাস্কার্য শিল্পী রাম প্রসাদ মালাকার, রুইয়ারকুল গ্রামের সনজিত ব্রহ্ম, সুরশাইল গ্রামের মাওলানা হারুন। সর্বশেষ গত ২০ জুলাই সুদখোরদের নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন সইতে না পেরে স্কুল শিক্ষিকা হাসিকনা বিশ্বাস (৩৮) আত্মহত্যা করেছেন। 
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর শরিফুল হক জানান, সুদ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশ ২ জন সুদকারকারীকে গ্রেফতার করেছে। চিতলমারী থেকে সুদ ও মাদক উচ্ছেদ করা হবে। তবে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মারুফুল আলম জানান, স্কুল শিক্ষিকার দুর্ঘটনাটি অত্যান্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযানে নেমেছে।এছাড়া অবৈধভাবে অর্থলগ্নীকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ