খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

মোবাইল ফোনটি পরিচালকের, কথা বললেন কে?

খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগ দালালদের দখলে : কর্তৃপক্ষ নিরব!

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ১৭ অগাস্ট, ২০২০ ০০:৫৫:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (আউটডোর) বহির্বিভাগ পুরোপুরি দালাল চক্রের দখলে। সরকারি এ হাসপাতালটির সামনে গড়ে ওঠা বেশ কিছু ক্লিনিক ডায়াগনস্টিকের নিয়োজিত নারী ও পুরুষ দালাল চক্রের ৬০-৭০ জন সদস্য হাসপাতালের সর্বত্র দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। আগত রোগীদের নানাভাবে হয়রানী ও সর্বশান্ত করে ছেড়ে দিচ্ছেন এ দালাল চক্র। তবে খুমেক হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছেন! এদিকে দালাল সংক্রান্ত বিষয়ে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি রেজা মোহাম্মদ সেকেন্দার অন্য একজন ব্যক্তিকে ফোন ধরিয়ে দেন। 
বিগত দিনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী প্রায়সময়ই দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। একই ভাবে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসকল দালালদের জেল-জরিমানাও করেছেন। এমনকি খুমেক হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকরাও দণ্ডিত হয়েছেন সেই ভ্রাম্যমান আদালতে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা ও প্রশাসনের নজরদারিতে দালাল চক্রের পরিধি কিছুটা সংকুচিত হয়েছিল। স্বল্প আয়ের মানুষ সরকারি হাসপাতালে ১০ টাকার টিকিট নিয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণে স্বাচ্ছন্দে ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রহস্যজনক ভূমিকায় বেড়েছে দালাল চক্রের আধিপত্য আর নিপীড়িত হচ্ছেন আগত রোগী ও স্বজনরা।  
খুমেক হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্মের বেশ কিছু চিত্র সময়ের খবরের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। হাসপাতালের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশকালেই বোরকা পরিহিত একদল নারী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের সকলেরই গলায় ঝুলানো রয়েছে নানা ধরনের পার্সব্যাগ। প্রধান ফটক থেকে (আউটডোর) বহির্বিভাগ পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারেই এ নারীরা সার্বক্ষাণিক নজরদারিতে থাকেন। হাসপাতালে কোন রোগী আসলেই তাদের পিছু নেয় এ চক্রের একাধিক সদস্য। কি হয়েছে, কোথা থেকে আসছেন, কোন ডাক্তার দেখাবেন এ ধরনের নানা প্রশ্ন শুরু করেন তারা। দালাল চক্রের সদস্যরা আগত ওই সকল সাদাসিধে মানুষগুলোকে বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভালো চিকিৎসা পাবেন না, অনেক সিরিয়াল দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। আমাদের ক্লিনিকে মাত্র দুইশ’ টাকায় ভালো ডাক্তার রয়েছে সেখানে চলুন। গ্রাম অঞ্চল থেকে আগত রোগী ও তাদের স্বজনরা এ সকল দালাল চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিনিয়ত সর্বশান্ত হচ্ছেন। কয়েক মাস আগেও হাসপাতালের প্রবেশের পর মূল ভবনে দালাল চক্রের বিরোধী সচেতনতামূলক মাইকিং করা হতো। কিন্তু গত কয়েক দিনের অনুসন্ধানকালে শোনা গেছে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ওই প্রক্রিয়া চলমান রাখেননি বর্তমান পরিচালক। 
অনুসন্ধানে আরও দেখা যায়, একজন রোগীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে ভুল বুঝিয়ে নিলেই দালল চক্রের সদস্যরা ৮০-১০০ টাকা কমিশন পান। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষার ওপরে পান শতকরা ২০ ভাগ কমিশন। খুমেক হাসপাতালের সামনে অবস্থিত প্রায় ১০-১২টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রায় ৭০ জন দালালের দখলে রয়েছে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা। এ সকল দালালদের মহাজনেরা হাসপাতালের কোন কর্মকর্তাকে খুশি রেখে এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিনিয়ত চালাচ্ছেন তা নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। 
এ বিষয়ে খুেেমক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি রেজা মোহাম্মদ সেকেন্দারকে গতকাল রবিবার রাত ৮টা ৩ মিনিটে তার মুঠোফোনে এ বিষয়ে বক্তব্য নিতে ফোন করা হয়। তিনি ফোন রিসিভ করে এ প্রসঙ্গের কোন উত্তর না দিয়ে পাশে থাকা এক ব্যক্তির নিকট ফোনটি ধরিয়ে দেন। এরপর ওই ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায় তিনি খুমেক হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির নেতা। 
মোঃ আল মাসুম খান নামের ওই নেতা হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি রেজা মোহাম্মদ সেকেন্দারের মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, উনি খুব ভালো মানুষ, এখন রোগী দেখছেন আপনাকে পরে ফোন করে কথা বলবেন।   
এ বিষয়ে খুলনার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য সেবা নিতে গিয়ে সাধারণ মানুষ হয়রানীর শিকার হলে বিগত দিনের ন্যায় খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





গফরগাঁওয়ে ইমামকে  গলা কেটে হত্যা

গফরগাঁওয়ে ইমামকে  গলা কেটে হত্যা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:১৯







প্রতারণার অস্ত্র বিয়ে, নয় নম্বরে ধরা

প্রতারণার অস্ত্র বিয়ে, নয় নম্বরে ধরা

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ











খুমেক ল্যাবে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

খুমেক ল্যাবে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:২৫