খুলনা | রবিবার | ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৫ আশ্বিন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

‘পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি’ 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতার অভিযোগ : স্বাস্থ্যসেবা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০২০ ০০:৫৮:০০


খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে। আর কর্তৃপক্ষের এ ব্যর্থতার গ্লানি টানতে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা প্রার্থী সাধারণ মানুষের। হাসপাতালটিতে গত কয়েক মাস ধরে নিয়ম-শৃঙ্খলায় পুরোপুরি ধস নেমেছে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে হাসপাতালটির শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিচালক পদে সেনা কর্মকর্তা নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহীতারাসহ বিশিষ্টজনেরা। এ হাসপাতালে চিকিৎসা  সেবা নিতে আসা একাধিক মানুষের সাথে আলাপকালে এ সকল প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে।  
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গুরুতর রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে সময়ক্ষেপন করছে সংশ্লিষ্টরা। প্যাথলজি, বহির্বিভাগ, আন্তঃ বিভাগেও একই চিত্র। হাসপাতালে জনবল সংকটের কারনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ হাসপাতালটিতে এখন পর্যন্ত ৩০২ জন অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিয়েছে। অধিদপ্তর পর্যাপ্ত ওষুুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করছে তবে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা ও শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।  
সরেজমিন গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা, খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা নগরীর একজন সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করা শর্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কার কাছে অভিযোগ জানাবো? একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান এভাবে চলতে পারেনা। কোন ধরনের নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। যে যেভাবে পারছে দায়সারাভাবে টাইমপাস করে চলে যাচ্ছেন। 
ওই শিক্ষকের দাবি, এ সেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচালক পদে সেনা কমকর্তা নিয়োগ দেয়া হলে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। পাশাপাশি আমরা সাধারণ মানুষ পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে বাড়িতে ফিরতে পারবো। 
এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার খুলনায় তার অন্তরঙ্গ কয়েকজন ব্যক্তিকে নানাভাবে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে হাসপাতালের শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 
মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী এড. মোমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় সব ধরনের ব্যবস্থা থাকতেও হয়রানী অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ। এটা অবশ্যই হাসপাতাল পরিচালনায় ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছু নয়। তবে পরিচালক পদে সেনা কমকর্তা নিয়োগ হলে শতভাগ শৃঙ্খলা ফিরবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। 
এ বিষয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ এ প্রতিবেদককে বলেন, হাসপাতালের পূর্বের ও বর্তমান পরিচালকের দুটি পক্ষ রয়েছে, যারা সেবা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষকে চাহিদা মোতাবেক স্বাস্থ্যসেবা দিতে হলে অবশ্যই এ সমস্যাগুলো নিরসন করতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে দালাল ছাড়াও ভবনের সামনে নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এবিষয়ে বর্তমান পরিচালককে কিছুদিন আগেও আমি পরামর্শ দিয়েছিলাম আইনগত ব্যবস্থা নিতে। যেহেতু এ বিষয়টি আমার না, তবুও খুলনার মানুষের প্রতি ভালবাসার বন্ধন আমাকে তাড়িত করে। 
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেক্টরে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিয়ে আসছে। প্রধানমন্ত্রী খুলনার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করছেন। কিন্তু হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ কোন কারনে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করা কারও জন্য উচিত হবে না।  
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










খুমেক ল্যাবে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

খুমেক ল্যাবে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:২৫




ব্রেকিং নিউজ











খুমেক ল্যাবে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

খুমেক ল্যাবে ২৪ জনের করোনা শনাক্ত

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:২৫