খুলনা | শুক্রবার | ০২ অক্টোবর ২০২০ | ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

নগরীতে ডিস ও ইন্টারনেট লাইনের তারের দখলে বৈদ্যুতিক খুঁটি : বাড়ছে ঝুঁকি

এস এম আমিনুল ইসলাম | প্রকাশিত ১৮ অগাস্ট, ২০২০ ০১:০২:০০

ডিস ও ইন্টারনেট লাইনের তারের দখলে মহানগরী বৈদ্যুতিক খুঁটি। প্রধান সড়ক ও অলি-গলির বৈদ্যুতিক খুঁটিতে মাকড়সার জালের মতো এসব তার পেঁচানো রয়েছে। অনেক খুঁটি থেকে তার মাটিতেও ঝুলে পড়ছে। যা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে, বাড়ছে ঝুঁকি। 
জানা গেছে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)-র মোট আয়তন ৪৫.৬৫ বর্গ কিলোমিটার। ওয়ার্ড রয়েছে ৩১টি। এসব ওয়ার্ডে মোট সড়ক আছে এক হাজার দুই শত পনেরটি। যার দৈর্ঘ্য ৬৪০.৬৮ কিলোমিটার। ১৭.৬২ বর্গমাইল আয়তনের এ কর্পোরেশনের অধিক্ষেত্রে রয়েছে প্রায় ১৫ লাখ জনবসতি। এ বৃহৎ জনবসতিকে বিদ্যুৎ সুবিধা দিতে সড়কের দু’পাশে প্রায় ২৬ থেকে ২৭ হাজার বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। কিন্তু বাণিজ্যিক ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট ক্যাবল অপারেটরদের তারের ভারে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে নগরীর কেডিএ এভিনিউ, ময়লাপোতা মোড়, সাত রাস্তার মোড়, পিটিআই মোড়, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, পাওয়ার হাউজ মোড়, পিকচার প্যালেস মোড়, ডাক বাংলা মোড়, শান্তিধাম মোড়, সদর থানা মোড়, নিরালা মোড়, গল্লামারি মোড়, কালিবাড়ি ঘাট ও ফেরীঘাট এলাকাসহ প্রধান প্রধান সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তারের জটলা। অলি-গলির বিদ্যুতের খুঁটিতেও মাকড়সার জালের মতো জড়িয়ে আছে এসব তার। অনেক স্থানে খুঁটি থেকে তার ঝুলে পড়ছে। ফলে ঝুলন্ত এসব অতিরিক্ত তারে বাড়ছে ঝুঁকি।
নগরীর বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুতর খুঁটিগুলোতে প্রতিনিয়তই বাড়ছে তারের জটলা। ইন্টারনেট ও ডিশ লাইনের সংযোগ তারের জটের কারণে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগের তারগুলো। মাঝে মধ্যে এসব তারে শর্টসার্কিটে আগুন লাগে। অনেক সময় ট্রান্সফরমারের সঙ্গে লেগে আগুন ধরে যাওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। আর এ আগুনে আশপাশের বাড়ি বা দোকানসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। 
তারা আরও জানান, কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে তার স্থাপন করা হচ্ছে। এতে প্রাণহানি ও দুর্ঘটনার পাশাপাশি সৌন্দর্যহানীও ঘটছে নগরীর। 
খুলনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানান, বিদ্যুতের খুঁটিতে আগুন লাগলে সেটি নেভাতে বেশ বেগ পেতে হয়। খুঁটিগুলোতে ইন্টারনেট ও ডিসের তারগুলো যেন মাকড়সার জাল। এগুলোর একটি সুন্দর ব্যবস্থাপনা জরুরি দরকার হয়ে পড়েছে। 
এ বিষয়ে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) প্রকৌশল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিশ ব্যবসায়িরা অ্যাম্পি­ফায়ারে যে বিদ্যুৎ খরচ হয় সেই সামান্য খরচই দেয়। তাছাড়া খটুটি ব্যবহারে কোন রাজস্ব দেয় না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) জাহিদ হোসেন সেখ বলেন, বৈদ্যুতিক খটুটিতে কোন তার কিভাবে পেঁচানো রয়েছে, তা বোঝারও উপায় নেই। এভাবে এলোমেলো করে এক খুঁটি থেকে অন্য খুঁটিতে তার জড়িয়ে শহর জুড়ে বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। কোন কোন খুঁটিতে তারগুলোর বর্ধিত অংশ গোল করে পেঁচিয়ে রাখা হয়েছে। আবার কোন কোন খুঁটিতে লাগান হয়েছে টিনের বাক্স। ফলে অনেক সময় আগুন ধরছে। আবার কর্পোরেশন লাইট মেরামত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে, লাইনম্যানরা পড়ছে জীবনের ঝুঁকিতে।
খুলনা টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড-এর ডিজিএম (মেট্রো) তারিকুল ইসলাম বলেন, নগরীতে খুলনা ভিষণ, ইউ ক্যাবল ও স্মার্ট ক্যাবল ডিশ ব্যবসা ও ৩০টির মতো আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ব্যবসায়ী আছেন। অনেকে অবার অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন। তবে এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। কারণ নগরীতে এমওটিএন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। মাটির নিচে দিয়ে এ তার নেয়া হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে তার বাধা কমে যাবে। গ্রাহক এক সাথে ইন্টারনেট, টেলিফোন ও আইপিটিপির মাধ্যমে টিভি দেখতে পারবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট থেকে পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে সড়কের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলে থাকা অবৈধ ইন্টারনেট ও ডিস ক্যাবল অপসারণ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এর আগে গত ৩০ জুলাই সংস্থার বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে এক সপ্তাহের মধ্যে নগরীর অবৈধ, দৃষ্টিকটু ও ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাবল অপসারণ করার ঘোষণা দেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। মেয়রের এমন ঘোষণার পর এসব ক্যাবলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ডিএসসিসির ভ্রাম্যমাণ আদালত।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ