খুলনা | সোমবার | ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১১ কার্তিক ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

রূপসায় ধান ক্ষেতে হাস্যোজ্জ্বল এক কৃষকের গল্প

মোঃ আব্দুর রহমান | প্রকাশিত ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:২৮:০০

রূপসায় ধান ক্ষেতে হাস্যোজ্জ্বল এক কৃষকের গল্প

জমির পরিমাণ মাত্র ৪ বিঘা। এ জমিতে বোরো ও আমন মৌসুমে আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষ করে জীবিকা চলে ইসলাম সরদারের। রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের তুরফান সরদারের ছেলে ইসলাম সরদারের বয়স প্রায় ৬৮ এর কাছাকাছি। দুই ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে ইসলাম সরদারের সুখের জীবন। 
আমন ও বোরো মৌসুমে বেশি ফলনের জন্য তিনি দেশি জাতের পরিবর্তে উচ্চ ফলনশীল ও হাইব্রিড জাতের ধান চাষ করেন। সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদনের জন্য ইসলাম সরদার আদর্শ বেড পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করেন। এ পদ্ধতিতে বীজতলার চারার যতœ-পরিচর্যা, পোকামাকড় ও রোগবালাই দমন এবং পানি সেচ ও নিষ্কাশনে সুবিধা হয় বলে তিনি জানান। উর্বরতা বজায় রাখার জন্য তিনি জমিতে পর্যাপ্ত জৈব সারও ব্যবহার করেন। তিনি বোরো মৌসুমে হিরা-২ ও ব্রিধান-৬৭ এবং আমন মৌসুমে ব্রিধান-৭১, ব্রিধান-৭৫ ও ব্রিধান- ৮৭ জাতের ধান চাষ করেন। 
ব্রিধান- ৮৭ অধিক ফলনশীল জাতের একটি রোপা আমন ধান। এ জাতের ধানের চাল লম্বা ও চিকন হওয়ায় বিদেশে রপ্তানিযোগ্য। রূপসা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে রাজস্ব খাতের অর্থায়নে এ বছর ইসলাম সরদারের ৩৩ শতক জমিতে ব্রিধান- ৮৭ জাতের রোপা আমন ধানের একটি প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। এজন্য বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় বীজ ও সারসহ আন্তঃপরিচর্যার জন্য নগদ ১৫শ’ টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে। স্থানীয় উপ-সহকরী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহমান এর পরামর্শে তিনি সুষম মাত্রায় সার ব্যবহারের পর সারি ও লোগো পদ্ধতিতে প্রদর্শনীর জমিতে ২৫ দিন বয়সের ধানের চারা রোপণ করেন। এরপর ভালো ফলনের আশায় নিবিড় পরিচর্যা যথা- সময়মতো আগাছা দমন, ইউরিয়া সার উপরি প্রয়োগ, পানি সেচ এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনের ব্যবস্থা করে চলেছেন। ইতোমধ্যে ব্রিধান-৮৭ জাতের ধানের চারাগুলো কুশি থেকে কাইচ  থোড় ও থোড়ে রূপান্তরিত হয়েছে। আমন ধানের সবুজ রঙে ভরে গেছে পুরো ক্ষেত । এ জাতের ধানের বাড়-বাড়তি দেখে ইসলাম সরদারের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। এ ধান থেকে ভালো ফলন পাবেন বলে তিনি মনে করেন। তাই পরিচর্যা শেষে ধান ক্ষেতে তাকে হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়। 
আদর্শ কৃষক ইসলাম সরদার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যে কোন উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ ও ব্যবহারে যেমন আগ্রহী, তেমনি এলাকার কোন কৃষি বিষয়ক সমস্যায় অন্য কৃষকদেরও পরামর্শ দিয়ে সেবা করে থাকেন। এতে সমাজে তার মর্যাদা বেড়েছে, পরিচিতি পেয়েছেন একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে। তার দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক আধুনিক পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন এবং তাদের মাঝে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে । সর্বোপরি,  ইসলাম সরদার নিঃসন্দেহে আগামী দিনের ধান চাষিদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক ব্যক্তি হিসেবে থাকবেন বলে আমরা মনে করি। 
(লেখক : উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিস, রূপসা, খুলনা।)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

মহামায়া

মহামায়া

২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০


প্রস্ফুটিত নেতৃত্বের গুচ্ছগাথা

প্রস্ফুটিত নেতৃত্বের গুচ্ছগাথা

০৮ অক্টোবর, ২০২০ ০১:৫৩

কেন চেয়ে আছোগো মা!

কেন চেয়ে আছোগো মা!

০৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০৫


মুখাপেক্ষী মানুষ, করোনা ও আমাদের করণীয়

মুখাপেক্ষী মানুষ, করোনা ও আমাদের করণীয়

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০১



অনলাইন স্কুল : করোনাকালে আশার আলো

অনলাইন স্কুল : করোনাকালে আশার আলো

০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ