খুলনা | শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

সরেজমিনে প্রতিবেদন

খুমেক হাসপাতালে মনগড়া নিয়মে চলছে বহির্বিভাগ, ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজনরা

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:৪১:০০

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে শৃঙ্খলা বৃদ্ধি ও চিকিৎসকদের উপস্থিতি বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সময়ের খবরের অনুসন্ধানে চোখে পড়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অন্য চিত্র। এখানে চিকিৎসকরা চলছেন তাদের মনগড়া নিয়মে। সঠিক সময়ে হাসপাতালে না এসে অনেক চিকিৎসক ছুটছেন ব্যক্তিগণ চেম্বার ও ক্লিনিকে রোগী দেখতে। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বাড়ছে ভোগান্তি। সাথে সাথে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চিকিৎসা সেবা। 
খুমেক হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন ১২-১৫শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালের বিভিন্ন বহির্বিভাগ ঘুরে দেখা যায় চিকিৎসকদের অধিকাংশ কক্ষই শূন্য। রোগীদের লম্বা লাইন থাকলেও নেই চিকিৎসক। গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতালের বিভিন্ন বহির্বিভাগে সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসকের আসার কথা থাকলেও বেশির ভাগ চিকিৎসক এসেছেন ১০টার পরে। 
গতকাল সময়ের খবরের অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সুমন রায় এলেন সকাল ১০টা ২০ আর রোগী দেখা শুরু করেন সাড়ে ১০টায়। একই বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ শেখ মোঃ জাকারিয়া আসেন ১০টায় এবং কয়েকজন রোগী দেখে ৪০ মিনিট পর রেব হয়ে যান। ঘন্টা খানেক রোগীদের অপেক্ষা পর আবারো তাকে দেখা যায় তার কক্ষে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে খুলনা ফুলতলা এলাকার একজন রোগী ইউনুস আলী গাজী বলেন, ২ ঘন্টা অপেক্ষা করার পর ডাক্তারকে দেখাতে পেরেছি। বাইরে যাওয়ার তাড়নায় ১ মিনিটও ঠিকমত চিকিৎসকরা দেখেন না। 
চর্ম ও যৌন বহির্বিভাগে সকাল ৮টা থেকে বসে ছিলেন নগরীর পূর্ব বানিয়াখামার এলাকার আব্দুল করিম। ১০টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের না পেয়ে তিনি বলেন, ডাক্তারদের টাইম-টেবিলের কোন ঠিক নেই। তারা তাদের ইচ্ছামত আসেন আর চলে যান। একই বহির্বিভাগে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন বাগেরহাট থেকে আসা ইউসুফ মোড়ল। সকাল ১০টা পার হলেও দেখা মেলেনি চর্ম ও যৌন বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ সহদেব কুমার অধিকারীর। 
একই অবস্থা অর্থপেডিক্স বিভাগের। পাইকগাছা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা মোঃ মাহফুজ বলেন, আমরা এসে বসে থাকি, ডাক্তারদের কোন ঠিক ঠিকানা থাকে না। তারা দেরি করে এসে আবার আধা ঘন্টা বিশ্রাম নেন। 
এদিকে সকাল ১০টায় সার্জারি বিভাগের ডাঃ পলাশ কুমার দে’র সিরিয়াল লেখক ইয়াসিন সময়ের খবরকে বলেন, স্যার আসবেন ১১টায়। কিন্তু ১১টায় গিয়ে পাওয়া যায়নি তাকেও। 
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টায় গিয়ে পাওয়া যায়নি একই বিভাগের আবাসিক সার্জন ডাঃ বিপ্লব বিশ্বাসকে। 
স্ত্রী রোগ বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ জুলেখা আক্তার জুলি হাসপাতালে এসেছেন সকাল ৯টা ৪০ এ। নির্ধারিত সময়ে না আসার কারনে তার কক্ষের সামনে তৈরি হয়েছে রোগীদের লম্বা লাইন। দুপুর ১২টা বাজলেও দেখা মেলেনি ইউরোলজিস্ট ডাঃ নিরূপম মন্ডলের। এগুলো ছাড়াও প্রতিটি বহির্বিভাগে গিয়ে দেখা যায় একই চিত্র। বেশির ভাগ বিভাগে চিকিৎসকদের জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করেতে হয় দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারন মানুষের। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার এ বিষয়ে সত্যতা স্বীকার করে সময়ের খবরকে বলেন, এটি শুধুমাত্র এ হাসপাতারের সমস্যা না, সারা দেশেই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে। আমি আসার পরে হাসপাতালের বহির্বিভাগের প্রধান ফটোকে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চিকিৎসকদের রোগী দেখার সময় নির্ধারণ করে ব্যানার লাগিয়েছি। ইতোমধ্যে কয়েকজন চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে দেরি করে হাসপাতালে আসার জন্য। তারপরও নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিগত দিনের মত বায়োম্যাট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। 
খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদি নেওয়াজ বলেন, সকল চিকিৎসকদের তাদের কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। শুধুমাত্র খুমেক হাসপাতাল না দেশের বেশিরভাগ জায়গায় এ ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ সব সমস্যা সমাধানের জন্য সকল চিকিৎসকদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সকল আদেশ মেনে কাজের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহবান জানান চিকিৎসক এ নেতা। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ