খুলনা | সোমবার | ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১১ কার্তিক ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

ক্রেতার পকেট কাটছে ব্যবসায়ীরা 

আলুসহ সবজিতে আগুন, বেড়েছে ভোজ্য তেলের দাম 

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:২৮:০০

করোনাকালীন পরিস্থিতিতেও আলুসহ সবধরনের সবজিতে আগুন। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোজ্য তেল ও মশুর ডালের দাম। নিয়ন্ত্রণ নেই পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচেও। সরকারের নেয়া সিদ্ধান্তের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অসাধু-সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফার আশায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করছে আলু। এর আগে প্রতিকেজি আলু ৩০ টাকা দরে বিক্রির ব্যাপারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়। 
অন্যদিকে চাল ও ভোজ্যতেলের বাজারে লাগাম নেই; ঊর্ধ্বমুখী গতিতে থাকা এই দু’টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে আরও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি পাচঁ থেকে ছয় টাকা করে বেড়েছে বলে নগরীর খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন। অন্যদিকে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে চার থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন চাল বিক্রেতারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম উর্ধ্বমুখিতে বিপাকে পড়ছে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। কৌশলে ভোক্তার পকেট কাটছে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি না থাকার কারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে বলে মনে করছেন ক্রেতা সাধারণ।
গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন বাজারে মানভেদে প্রতিকেজি আলু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা, শীতকালিন সীম ৮০ থেকে ১০০ টাকা, পেঁয়াজ (দেশি) ৯০ টাকা, পেঁয়াজ (ভারতীয়) ৭০ থেকে ৭৫ টাকা, কচুরমুখি ৫০ টাকা, পটল ৬০ টাকা,  উচ্ছে ও করল্লা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, রসুন (দেশি) ১০০ থেকে ১২০ টাকা, রসুন (চায়না) ১০০ টাকা, কচুরলতি ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, কাচাঁ পেঁপে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, লালশাক ও ঘিকাঞ্চন শাক ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) প্রতিকেজি মশুর ডাল ৫০ টাকা দরে বিক্রি করলেও গতকাল শুক্রবার খুচরা বাজারগুলোতে প্রতিকেজি মশুর ডাল (সরু) ১২০ টাকা, মশুর ডাল (মোটা) ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। যা সপ্তাহখানেক আগে প্রতিকেজি মশুর ডাল (সরু) ১১৫ টাকা, মশুর ডাল (মোটা) ৬৫ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
এদিকে বেসামাল হয়ে উঠেছে ভোজ্য তেলের দাম। ভোজ্য সয়াবিনের দাম লিটার প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ছয় টাকা। গতকাল সয়াবিন পুষ্টি (৫ লিটার) ৪৯০ টাকা, রূপচাদা (৫ লিটার) ৫২০ টাকা, ফ্রেশ (৫ লিটার) ৫১০ টাকা এবং তীর (৫ লিটার ৫১০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। 
যা গত ৮/৯ দিন আগে ভোজ্য সয়াবিন তেল পুষ্টি (৫ লিটার) ৪৭৫ থেকে ৪৮০ টাকা, রুপচাদা (৫ লিটার) ৪৯০ টাকা, ফ্রেশ (৫ লিটার) ৪৮০ টাকা এবং তীর (৫ লিটার) ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়। 
খুচরা ব্যবসায়ী মোঃ সাঈদ খাঁন বলেন, ‘আট-নয় দিন ধরে ভোজ্য সয়াবিনের দাম লিটার প্রতি কমপক্ষে ছয় টাকা বাড়তি। তিনি বলেন, দেশি মশুর ডাল প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। যা সপ্তাহখানেক আগে বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা দরে।’ 
নগরীর ময়লাপোতাস্থ কেসিসি সন্ধ্যা বাজরে আসা ক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘দেশে করোনা মহামারী চলছে। অথচ এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ নেই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আলু হচ্ছে একটি কমন সবজি। তরকারি রান্না করতে গেলেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলু প্রয়োজন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে কমন সবজি আলুর উপর সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। প্রতিকেজি আলু ত্রিশ টাকা দরে বিক্রি করার ব্যাপারে বলা হচ্ছে। অথচ আলুর দাম কমছে না। বাজারে প্রতিকেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে। দাম যাতে নিয়ন্ত্রণে আসে এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।’ 
নগরীর এ্যাপ্রোচ রোডস্থ কেসিসি সুপার মার্কেটে আসা ক্রেতা মোঃ শফিক শেখ বলেন, সব ধরনের জিনিসের দাম বেড়েই চলেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের কি কোনো মাথা ব্যথা নেই? তিনি এমনই প্রশ্ন করেন এ প্রতিবেদককে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম যাতে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেমে আসে এ ব্যাপারে তিনি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।’     


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ