খুলনা | শনিবার | ৩১ অক্টোবর ২০২০ | ১৫ কার্তিক ১৪২৭ |

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ  কর্মসংস্থান জোরালো হোক

১৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০:০০

মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ  কর্মসংস্থান জোরালো হোক

এক সময় গ্রাকৃতিক নদীনালা, খাল-বিল, হাওর-বাঁওড় ইত্যাদি জলাশয় ছিল নানান গ্রকৃতির দেশীয় মাছের গ্রধান আবাসস্থল। দেশের মোট অভ্যন্তরীণ মৎস্য উৎপাদনের গ্রায় ৯০ শতাংশ মৎস্য আহরিত হতো এসব জলাশয় থেকে। ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বসতি স্থাপন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিল্পের গ্রসার, কৃষির আধুনিকায়নে ভূগর্ভস্থ পানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং মনুষ্যসৃষ্ট বহুবিধ কারণে এসব গ্রাকৃতিক জলাভূমি একদিকে যেমন দারুণভাবে সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে উৎপাদনশীলতাও হারিয়েছে। সঙ্গত কারণে বর্তমানে ওইসব জলাশয় থেকে মোট উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে বর্ধিত চাহিদা জোগান দিচ্ছে চাষকৃত মাছ এবং এ ধারা অব্যাহত আছে। 
বর্তমান বাজারমূল্য এবং পুষ্টিকর খাদ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিগ্রেক্ষিতে মৎস্য চাষ একটি লাভজনক পেশা হিসেবে পরিগণিত হওয়ায় ব্যক্তিপর্যায়ে কৃষিজমি রূপান্তরের মাধ্যমে অসংখ্য আধুনিক বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য খামার গড়ে উঠছে। বর্তমানে কৃষি ফসলের সঙ্গে মৎস্যচাষের একটি গ্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। সে গ্রেক্ষিতে সময় এসেছে সারাদেশের ভরাট হয়ে যাওয়া অসংখ্য পতিত সরকারি খাস জলাশয় (পুকুর/দিঘি /মরানদী/বরোপিট /বিল/হাওর ইত্যাদি) গ্রয়োজনীয় পুনর্খননের মাধ্যমে সারাবছর গ্রযুক্তির্নিভর উৎপাদন কার্যক্রমের আওতায় আনা। বৈষয়িক করোনা ভাইরাস-উত্তর বাংলাদেশে পুষ্টিমানসম্পন্ন খাদ্য সরবরাহ ও গ্রামপর্যায়ে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বর্তমান সরকারের মূল নির্দেশনা হলো ‘দেশের গ্রতি ইঞ্চি জমি পতিত না রেখে উৎপাদনশীল কাজে লাগাতে হবে।’ অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের অংশ হিসেবে মৎস্য অধিদপ্তরাধীন অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ‘জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক গ্রকল্পটি মোট ৪০৯.০০ কোটি টাকা গ্রাক্কলিত ব্যয়ে অক্টোবর ২০১৫ থেকে জুন ২০২২ মেয়াদে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির কারণে জলাশয়গুলোর ইজারা মূল্য বৃদ্ধির ফলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। এ ছাড়া উন্নয়নকৃত জলাশয়ের নির্মিত পাড়ে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে ফলজ বৃক্ষরোপণসহ নানা ধরনের কার্যক্রম গ্রহণ সম্ভব হবে এবং পরিবেশের উন্নয়ন ও পার্শ্ববর্তী কৃষিকাজে সেচব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আমরা মনে করি, দেশের অভ্যন্তরীণ ভরাট হয়ে যাওয়া বদ্ধ জলাশয়গুলো পুনর্খননের আওতায় এনে উপযুক্ত গভীরতার পানি ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে হবে, গ্রবহমান বড় বড় নদীর সঙ্গে ভরাট হয়ে যাওয়া সংযোগ খাল বা শাখা নদীগুলো খনন করে পানিগ্রবাহ সচল রাখতে হবে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং বসতবাড়ি নির্মাণ কঠোর আইন করে বন্ধ করতে হবে। এতে মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন ও জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে, গ্রামভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন হবে এবং আধুনিক কৃষিকাজে ভূপৃষ্ঠস্থ পানির ব্যবহার নিশ্চিত করে ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে হবে। অন্যদিকে সরকারি জলাশয়গুলোর সীমানা নির্ধারণ করা হলে অবৈধ দখল বন্ধ করা সম্ভব হবে।
আজকের দিনে মাছ চাষ একটি অত্যন্ত লাভজনক পেশা ও শিল্প হিসেবে মানুষ গ্রহণ করেছে। এর ফলে বিশ্বে বাংলাদেশ আজ মাছ চাষে দ্বিতীয় এবং এক নম্বরে অবস্থানের চেষ্টায় সব কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে, এভাবেই উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের গ্রিয় বাংলাদেশ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








অনলাইনে ভর্তিতে শঙ্কা

অনলাইনে ভর্তিতে শঙ্কা

২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০


অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফল

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ