খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

খুলনা অঞ্চলের চালকদের ডোপ টেস্ট শুরু শিগগিরই

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ২৫ অক্টোবর, ২০২০ ০০:১৩:০০


সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের ডোপ টেস্ট করতে প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী নির্দেশনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সকলেই। খুলনা অঞ্চলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে চালকদের ডোপ টেস্ট কার্যক্রম শিগগিরই শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকারীরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিকার-প্রতিরোধে চালকদের ডোপ টেস্ট অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়ন হবে কবে? গেল দু’দিনেও কার্যক্রম শুরু হয়নি খুলনা অঞ্চলের হাইওয়ে সড়কে।
এদিকে, শনিবার সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন মেইন রাস্তায় ডোপ টেস্টে সন্দেহভাজন ১২ জন চালকের মধ্যে পাঁচজন মাদকসেবী শনাক্ত করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মির্জা সালাইউদ্দিন জানান, মাদকসেবী চালকদের বিরুদ্ধে মাদক মামলা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চালকদের ডোপ টেস্ট অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
গত ২২ অক্টোবর জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনায় সব চালককে ডোপ টেস্ট করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘যারা গাড়ি চালাচ্ছে, তারা মাদক সেবন করে কিনা সে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে রাখতে হবে। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে তা পরীক্ষার করা দরকার। প্রত্যেকটা চালকের এ পরীক্ষাটা একান্ত ভাবে অপরিহার্য। সব চালককে এ পরীক্ষা করাতে হবে।’
দুর্ঘটনা রোধে সরকারি ও বেসরকারি সেক্টরের সব চালকের ডোপ টেস্টের তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সড়কের বেপরোয়া গতি ও অসুস্থ ওভারটেকিং বন্ধ করতে হবে।  বেহুঁশ হয়ে ওভারটেক করতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করে। যেকোনও মূল্যে এই প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।’ স্বচ্ছতার সঙ্গে ড্রাইভিং লাইসেন্স দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
নিরাপদ সড়ক চাই খুলনার আঞ্চলিক সমন্বয়ক এসএম ইকবাল হোসেন বিপ্লব বলেন, চালক ডোপ টেস্ট করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এটি অত্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ। তবে বাস্তবায়ন হবে কবে? সরকারের সর্বোচ্চ ব্যক্তি নির্দেশ দিলেন, সেটি গত দুই/তিনদিনেও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াই শুরু হলো না, এটা হতাশাব্যঞ্জক।
বিআরটিএ খুলনা সার্কেলের সহকারী পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আবুল বাশার বলেন, চালকদের মাদক সেবন থেকে বিরত থাকতে সারা বছরই প্রচার-প্রচারণা করি। প্রতি বছর প্রায় তিন হাজার চালককে দুইদিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়, তখনও মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। তবে এখনো ডোপ টেস্টের জন্য আমাদের অফিসিয়ালি নির্দেশনা আসেনি। গেল দুইবছর খুলনা অঞ্চলের চালকরা ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করছেন না বলে হতাশাব্যক্ত করলেন তিনি।
বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়ন, খুলনা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতি ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বললেন, চালকদের জানিয়ে দেয়া হয় মাদক সেবন ও এ্যালকোহল পানে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা প্রশাসনের কাছে ধরা পড়লে তাকেই শাস্তি পেতে হবে। মাদকাসক্তের কারণে যেমন তার জীবন হুমকির মুখে পড়ে; ঠিক তেমনি যাত্রী, পথচারী ও অন্য যানবাহন আরোহী মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে থাকে। একই সাথে যানবাহনটিও ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে পড়ে। সে কারণে মালিকপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলো কখনোই চালকদের মাদক সেবনের প্রশ্রয় দেয় না বলে দাবি নেতৃবৃন্দের।
খুলনার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মোঃ রেজাউল করিম বলেন, এ্যালকোল পরীক্ষার জন্যে একটি মেশিন আছে। ডোপ টেস্টের কোন যন্ত্র বা ডিভাইস এখনো দেয়া হয়নি। আর সে রকম কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি বলে জানান তিনি।
ফরিদপুর জোনের মাদারীপুর হাইওয়ের যশোর সাব-জোনের এএসপি মোহাম্মদ ফরহাদ বলেন, এ্যালকোহল পরীক্ষাটি নিয়মিত চলছে। তবে এখনো ডোপ টেস্ট শুরু করতে পারিনি। এ্যালকোহল ডিটেক্টর মেশিন আমাদের রয়েছে। চালক এ্যালকোহল পান/সেবন করেছে প্রমান পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়। প্রয়োজনীয় ডিভাইস ও চিকিৎসক পেলেই খুলনা অঞ্চলের চালকদের ডোপ টেস্ট করা হবে।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ্ বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য কীট আনা হবে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর সাথে সমন্বয় করে চালকদের ডোপ টেস্ট করা হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রীর এ মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়নের সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ