খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

বার বার চিঠি চালাচালি তবুও নেই কোন উদ্যোগ

চিকিৎসক সংকটে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল আবু নাসের

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ২৬ অক্টোবর, ২০২০ ০০:২৫:০০


দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত হাসপাতাল শহীদ আবু নাসের। খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাসহ পার্শ্ববর্তি বিভিন্ন জেলার গরিব-অসহায় হাজারো মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন বিশেষায়িত এই হাসপাতালে। এ হাসপাতালে দিন দিন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও কমছে চিকিৎসকের সংখ্যা। এতে যেমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগীদের তেমনি চিকিৎসকরাও হিমসিম খাচ্ছেন রোগীর চাপ সামলাতে। বার বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য চিঠি পাঠালেও কোন ফলাফল আসেনি বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের ৯৫টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে শূন্যই রয়েছে ৬৬টি পদ। চীফ কনসালটেন্টের ৫টি পদের বিপরীতে শূণ্য রয়েছে ৪টি, সিনিয়র কনসালটেন্টের ১২টি পদের বিপরীতে শূণ্য রয়েছে ৯টি পদ। জুনিয়র কনসালটেন্টের ১৫টি পদের বিপরীতে ১৪টি পদই শূন্য রয়েছে। এছাড়াও আরপি, আর এস, রেজিষ্টার, সহকারী রেজিষ্টার, মেডিকেল অফিসার/সহকারী সার্জন/সমমান (ইএমও/আইএমও) এর ৬২ টি পদের বিপরীতে শূন্য রয়েছে ৩৮টি পদ। শূন্য রয়েছে সেবা তত্ত্বাবধায়কের একটি পদও। 
শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৬-৭শ’ রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। কিন্তু এই বিশাল চিকিৎসক সংকটের কারনে রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছেন কর্তকব্যরত চিকিৎসকরা। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় কম সময় দিয়ে রোগী দেখতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এতে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না দূর-দূরন্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা। 
এ বিষয়ে বার বার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চিঠি চালাচালি করেও কোন ফল পাওয়া যায়নি বলে জানালেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ বিধান চন্দ্র গোসামী। তিনি বলেন, হাসপাতাল পরিচালনা করার জন্য মেডিকেল অফিসার খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি পদ। সে পদেই আমাদের সংকট সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে ২৪ জন মেডিকেল অফিসার থাকলেও তাদের মধ্যে থেকে ৯ জনের প্রমোশন হয়েছে। এ কারনে তারাও হাসপাতাল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। এতে হাসপাতালে মেডিকেল অফিসারের সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪-১৫ জনে। এই স্বল্প সংখ্যাক চিকিৎসক দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা করা কোন ভাবেই সম্ভব না বলে জানালেন তিনি। 
তিনি আরও বলেন নার্সিং স্টাফের পদে কোন শূণ্যতা না থাকলেও আরও কয়েকটি পদ বাড়াতে পারলে অনেক ভালো হতো। এ সকল বিষয় নিয়ে বিশেষ করে চিকিৎসকদের শূণ্য পদ পূরনের জন্য ও নতুন চিকিৎসক নিয়োগের জন্য গত মাসেই ২ বার চিঠি পাঠানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। কিন্তু তারও কোন উত্তর পাওয়া যায়নি বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক। 
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ এস এম মোর্শেদ বলেন, এই হাসপাতালের বর্তমান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে মেডিকেল অফিসার, কনসালটেন্ট, প্রফেসরদের সমন্বয়ে। সেক্ষেত্রে একটি বড় সংকট দেখা যাচ্ছে মেডিকেল অফিসারদের। কর্মরত মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য ও প্রমোশনের কারনে অনেকে বাইরে চলে যাচ্ছেন। তাই সামনে আরও বড় সংকট সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। 
উপ-পরিচালক বলেন যদি নির্ধারিত মেডিকেল অফিসার হাসপাতালে থাকতো তাহলে প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে আলাদা আলাদা চিকিৎসকদের দায়িত্ব দেওয়া যেত। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় তাদের কাজের পরিধি বেড়ে গেছে। একজন মেডিকেল অফিসারের অনেকগুলো কাজ এখন সামলাতে হচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ খুব দ্রুতই এ হাসপাতালে চিকিৎসক নিয়োগ দিবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ডাঃ এস এম মোর্শেদ।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ