খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

করোনাকালে বন্ধ আবু নাসেরের এনজিওগ্রাম মেশিন চলতি সপ্তাহে চালুর প্রত্যাশা পরিচালকের

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ২৭ অক্টোবর, ২০২০ ০০:৫৪:০০

দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র সরকারি এনজিওগ্রাম মেশিন রয়েছে খুলনার শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে। হৃদরোগের নানা রকম পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হয় এই যন্ত্রটি। হাসপাতালে ২ হাজার টাকায় এনজিওগ্রাম করানো গেলেও বাইরে করাতে খরচ হয় অনেক টাকা। গরীব অসহায় মানুষদের চিকিৎসার জন্য একমাত্র ভরসা এ হাসপাতালটি। করোনার কারনে গত কয়েকমাস যন্ত্রটি বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন দূর-দূরন্ত থেকে আসা হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীরা। তবে চলতি সপ্তাহে যন্ত্রটি চালুর আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮-১০ জন রোগীর এনজিওগ্রাম করানো হতো। কিন্তু করোনার কারনে গত ৪-৫ মাস বন্ধ রয়েছে এর ব্যবহার। শহীদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল ছাড়াও নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে রয়েছে এনজিওগ্রাম সেবা। কিন্তু সেখানে পরীক্ষা করা ও চিকিৎসা নেওয়া অনেক ব্যয় বহুল। স্বল্প আয়ের মানুষদের পক্ষে সেখানে প্রায় অসম্ভব। আবু নাসের হাসপাতালে ২ হাজার টাকায় এনজিওগ্রাম করানো গেলেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে করাতে গেলে খরচ হয় প্রায় ২০ থেকে ২৪ হাজার টাকা। 
হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডাঃ এস এম মোর্শেদ সময়ের খবরকে বলেন, সকলের নিরাপত্তার কারনে করোনাকালীন সময়ে এনজিওগ্রাম যন্ত্রটি বন্ধ রাখা হয়েছিলো। করোনায় আক্রান্ত যে কোন ব্যক্তিকে এনজিওগ্রাম করানো হতো তাহলে ওই যন্ত্রটিই ১৪দিনের জন্য আর ব্যবহার করা যেতো না। আর একজন হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির এনজিওগ্রামসহ সকল পরীক্ষা করানোর জন্য চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর সংস্পর্শে আসা লাগে। তাই ঝুঁকি না নিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছিলো যন্ত্রটি। তবে খুব দ্রুতই এনজিওগ্রাম যন্ত্রটি চালু করা হবে বলে জানান এ চিকিৎসক। 
হাসপাতালের পরিচালক ও কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী সময়ের খবরকে বলেন, করোনার কারনে এনজিওগ্রাম যন্ত্র পরিচালনায় নানা রকম সমস্যা ছিলো। তাই এত দিন বন্ধ রাখা হয়েছিলো। তবে এখন কার্ডিওলজি বিভাগে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হচ্ছে। আগামী সপ্তাহে এনজিওগ্রাম পরীক্ষা শুরু করা হতে পারে বলে তিনি জানান। 
তিনি আরও বলেন, এনজিওগ্রাম করানোর পর রোগীর চিকিৎসার জন্য অনেক কিছু প্রয়োজন হয়, যা ঢাকা থেকে আনানো হতো। কিন্তু করোনার কারনে সব কিছু বন্ধ ছিলো, তাই এনজিওগ্রাম সেবা চালু রাখা সম্ভব হয়নি। আমাদের এই হাসপাতালে মাত্র ২ হাজার টাকায় এনজিওগ্রাম করানো হয়, যা বিভাগের অন্য কোন হাসপাতালে নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া রোগীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে এনজিওগ্রাম যন্ত্রটি চালু করা হতে পারে বলে আশা করছেন প্রফেসর ডাঃ বিধান চন্দ্র গোস্বামী। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ