খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

খুমেক হাসপাতালে খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে লিনিয়ার এক্সিলারেটর মেশিন

দক্ষিণাঞ্চলে ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের রেডিও থেরাপীর ব্যবস্থা নেই, চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ২৮ অক্টোবর, ২০২০ ০০:৩৬:০০

ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা রেডিও থেরাপী। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের এ চিকিৎসা নিতে ছুটতে হয় রাজধানী ঢাকা বা বিদেশে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেডিও থেরাপী ও অনকলজি বিভাগ থাকলেও সেখানে নেই কোন রেডিও থেরাপীর ব্যবস্থা। খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের সার্জারি ও কেমো চিকিৎসা ছাড়া অন্য কোন চিকিৎসা প্রদান করা সম্ভব হয় না। তার প্রধান কারণ হলো রেডিও থেরাপী ও অনকলজি বিভাগে ক্যান্সারের চিকিৎসার যন্ত্রপাতির সংকট। 
এদিকে খুমেক হাসপাতালের রেডিও থেরাপী ও অনকলজি বিভাগে বেশ কয়েক বছর যাবত পড়ে আছে লিনিয়ার এক্সেলেটর থেরাপী মেশিন। হাসপাতালে শুধুমাত্র মেশিন আসলেও তা স্থাপনের জন্য যে সব সরঞ্জাম প্রয়োজন তা এখনও পাওয়া যায়নি। খুলনার ১০ জেলাসহ দক্ষিণাঞ্চলের অনেক জেলা থেকেই খুমেক হাসপাতালে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৪০-৪৫ জন ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রেডিও থেরাপীর ব্যবস্থা না থাকায় বেশির ভাগ রোগীকে পাঠানো হয় ঢাকায়। এতে রোগীরা পড়ছেন বড় ধরনের ভোগান্তিতে। 
সাতক্ষীরার তালা উপজেলা থেকে খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ক্যান্সারের রোগী বিনয় শীলের স্ত্রী রতœা শীল সময়ের খবরের প্রতিবেদককে দেখে দৌড়ে আসেন। জানান তার ভোগান্তির কথা। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে তার স্বামী ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ভারতে চিকিৎসা দেওয়া হতো। কিন্তু করোনার কারনে দেশের বাইরে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না তাই খুমেক হাসপাতালে নিয়ে আসতে হয়েছে। তবে এখানে এসে কোন প্রকার রেডিও থেরাপী দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র কেমো থেরাপী দিয়ে চিকিৎসক ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছেন রেডিও থেরাপী দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রায় ৬-৭ সপ্তাহের লম্বা সময়ের এই চিকিৎসা ঢাকায় বসে দিতে গেলে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে তার। যদি খুলনায় এই ব্যবস্থাটা থাকতো তাহলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি কমার সাথে সাথে অনেক সুবিধা হতো বলে তিনি জানান। 
একই ভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাতক্ষীরা থেকে খুমেক হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে আসা আসিকুর রহমানের ভাই শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের কোথাও রেডিও থেরাপীর ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নিতে পারছেনা চিকিৎসা। ঢাকায় যাতায়াত, থাকা, খাওয়াসহ চিকিৎসা দিতে গেলে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়ে যায়। খুলনায় এ ব্যবস্থা থাকলে আর সবাইকে এই সমস্যায় পড়তে হতো না। 
খুমেক হাসপাতালের রেডিও থেরাপী ও অনকলজি বিভাগের প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ মুকিতুল হুদা সময়ের খবরকে বলেন, হাসপাতালের এই বিভাগে ক্যন্সারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য সার্জারি, কেমোসহ অন্যান্য চিকিৎসা হলেও নেই কোন প্রকার রেডিও থেরাপীর ব্যবস্থা। এখানে বেশ কয়েক বছর আগে লিনিয়ার এক্সেলেটর মেশিন আসলেও তা স্থাপন করা হয়নি এখনও। এ মেশিনটির হাই রেডিয়েশন প্রটেকশনের জন্য বাঙ্কার তৈরি করা প্রয়োজন। তাছাড়া এই মেশিন স্থাপন করা সম্ভব না। এ বিষয় নিয়ে নিজেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার গেলেও কোন ফল পাননি বলে তিনি জানান। 
তিনি আরও বলেন, এ বিভাগের জন্য সিটি স্কাইনার দরকার। দক্ষিণাঞ্চলে শুধুমাত্র বরিশাল মেডিকেলে রেডিও থেরাপির জন্য কোবাল্ট-৬০ মেশিন ছিলো। কিন্তু অনেকদিন ব্যবহারের কারনে তাও বর্তমানে প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে। তাই এ অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের রেডিও থেরাপীর জন্য ঢাকায় যেতে হচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের অনেক মানুষ চিকিৎসা নিতে আসার কারনে হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্তদের জন্য রেডিও থেরাপী চালু করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন ক্যান্সার বিভাগে এ চিকিৎসক । 
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার বলেন, এ হাসপাতালে বহুদিন ধরেই লিনিয়র এক্সেলেটন মেশিনটি পড়ে আছে। বেশ কয়েকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলেও কোন ফল পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এগুলো দ্রুত প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ