খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

দালালদের প্রবনতা কমাতে পুলিশের সহায়তা চান পরিচালক

নানা সমস্যায় জর্জরিত খুমেক হাসপাতালের আন্তঃবিভাগ, টাকা ছাড়া হয় না কোন কাজ

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:৩৪:০০

দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। খুলনা বিভাগসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে উন্নত চিকিৎসা নিতে আসেন সাধারন মানুষ। কিন্তু নানা সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা। হাসপাতালটি ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট হলেও সেখানে রোগী ভর্তি থাকে প্রায় হাজারেরও বেশি। চিকিৎসকদের অবহেলা, ধাপে ধাপে টাকা দেওয়াসহ নানা অভিযোগ আন্তঃবিভাগে ভর্তি হওয়া রোগীদের। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন সঠিকভাবে অভিযোগ না পাওয়ার কারনে পদক্ষেপ নিতে পারছে না তারা। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আন্তঃবিভাগের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের সাথে কথা বলে শোনা যায় চিকিৎসা সেবা নিয়ে নানা রকম অভিযোগ। হাসপাতালের প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত বেড ছাড়াও মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন কয়েকশ’ রোগী। চিকিৎসা নিতে এসে ধাপে ধাপে পড়তে হচ্ছে তাদের নানা সমস্যায়। রোগীদের অভিযোগ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা সকালে এসে একবার কোন রকম দেখে যান। তারপর সারাদিনে কোন খোঁজ থাকে না চিকিৎসকদের। হঠাৎ করে রোগীদের কোন সমস্যা হলে ওয়ার্ডগুলোতে যে সব চিকিৎসকরা দায়িত্বে থাকেন, তারা শুনেই কোন রকমে একটা ওষুধ লিখে দিয়ে চলে যেতে বলেন রোগীর স্বজনদেরকে। কিন্তু রোগীর কাছে আসেন না।  
রোগীকে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে নেওয়ার জন্য কোনো স্ট্রেচার ব্যবহার করলেই রোগীর স্বজনদেরকে গুণতে হয় ১শ’ টাকা। কোন কোন ক্ষেত্রে টাকার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২-৩শ’ টাকায়। খুমেক হাসপাতালে টাকা ছাড়া হয় না কোন প্রকার সেলাই বা ক্ষত স্থানে ড্রেসিং। এছাড়াও হাসপাতালে শরীরের নানা রকম টেস্ট করানোর ব্যবস্থা থাকলেও রোগীদের পাঠানো হয় বাইরে। 
গত ২১ অক্টোবর থেকে হাসপাতালের ১০/১১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন খুলনার একজন সিনিয়র সাংবাদিক ও দৈনিক প্রবাহের সাবেক যুগ্ম-সম্পাদক আব্দুল কাদের খান। তিনি বলেন, এ হাসপাতালের প্রায় প্রতিটি জায়গায়ই সমস্যা রয়েছে। গত কয়েকদিন কোন বেড না পেয়ে মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ইসিজি ও আল্ট্রাসনো করানোর জন্য তাকে বাইরে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি। 
তিনি আরও বলেন, এতদিনে কোন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে তিনি দেখতে পাননি। ওয়ার্ডগুলোর মেঝেতে অনেক দিন ঝাড় দেওয়া হয় না। এছাড়াও বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে নষ্ট হয়ে রয়েছে বাল্ব ও ফ্যান। হাসপাতালের বাথরুমগুলো দুর্গন্ধের কারনে ব্যবহার করা যায় না। রোগীদের যে খাবার দেওয়া হয় কোন প্রকার তদারকি না থাকায় তার মান দিন দিন খারাপ হচ্ছে বলে তিনি জানান। 
বটিয়াঘাটা থেকে স্বামীর চিকিৎসার জন্য আসা প্রমিলা মিস্ত্রী বলেন, আমার স্বামীর পায়ে সমস্যা রয়েছে। সে জন্য প্রায় প্রতিদিনই ড্রেসিং করানো দরকার হয়। কিন্তু ড্রেসিং করানোর জন্য ওয়ার্ড বয়দের প্রতিবার টাকা দিতে হয়। হাসপাতাল থেকে কোন প্রকার ওষুধ দেওয়া হয়না বলে জানান তিনি। প্রমিলা মিস্ত্রী ছাড়াও একাধিক রোগীর সাথে কথা বলে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়। 
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার করার জন্য পরিচ্ছন্নতা কর্মিরা কাজ করছেন। কিন্তু হাসপাতালের সব থেকে বড় সমস্যা দালাল শ্রেণীর কিছু মানুষ। এই দালালদের কোনভাবেই নিয়ন্ত্রনে আনা সম্ভব হচ্ছে না। হাসপাতালের ভেতরে ফ্রি সেবা দেওয়ার কথা বলে অনেকে রোগীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়াও রোগীদের বাইরে ভর্তি করা ও বিভিন্ন পরিক্ষা বাইরে করানোর জন্য দালালরা ওত পেতে বসে থাকে। এ সমস্যা সমাধানের জন্য পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। 
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের যারা এসব সমস্যায় পড়েন তারা যদি সরাসরি আমার কাছে অভিযোগ করেন তাহলে আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি। কিন্তু অভিযোগ আমার কাছে না পৌঁছানোর কারনে আমি কোন প্রদক্ষেপ নিতে পারি না। তাই হাসপাতালে কোন সমস্যা হলেই সরাসরি আমার আমার কাছে সবাই অভিযোগ করলে সাথে সাথে আমি ব্যবস্থা নেবো। আর যে সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ