খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:২২:০০


আজ শুক্রবার, ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ)। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে থাকেন বিশ্বের মুসলমানরা। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রায় ১৪০০ বছর আগে এই দিনে (১২ রবিউল আউয়াল) বিশ্ব মানবতার মুক্তির দিশারী সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন।
দিনটি পালন করতে দেশব্যাপী নানা আয়োজন করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও ১৫ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) উপলক্ষে মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ও বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর আগে আইয়ামে জাহিলিয়াতের ঘনঘোর তমসা ছাওয়া ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে সুবহে সাদিকের সময় মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত কুরাইশ বংশে মা আমেনার কোল আলো করে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের আগেই পিতৃহারা হন এবং জন্মের অল্পকাল পরই বঞ্চিত হন মাতৃস্নেহ থেকে। অনেক দুঃখ-কষ্ট আর অসীম প্রতিকূলতার মধ্যদিয়ে চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে বড় হয়ে ওঠেন।
৪০ বছর বয়সে উপনীত হওয়ার পর তিনি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নবুয়ত লাভ করেন। কিন্তু অসভ্য-বর্বর আরব জাতি তার দাওয়াত গ্রহণ না করে রাসুল (সাঃ)-এর ওপর নিপীড়ন শুরু করে। বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জীবনবাজী রেখে সংগ্রাম চালিয়ে যান তিনি। ধীরে ধীরে সত্যান্বেষী মানুষ তার সাথী হতে থাকে। অন্যদিকে কাফেরদের ষড়যন্ত্রও প্রবল আকার ধারণ করে। এমনকি একপর্যায়ে তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হত্যার নীল নকশা প্রণয়ন করে। আল্লাহর নির্দেশে তিনি জন্মভূমি ত্যাগ করে মদিনায় হিজরত করেন।
মদিনায় তিনি ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করেন এবং মদিনা সনদ নামে একটি লিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেন। মদিনা সনদ বিশ্বের প্রথম লিখিত সংবিধান হিসেবে খ্যাত। ২৩ বছর অক্লান্ত শ্রম, অসীম সাধনায় অবশেষে রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দ্বীন প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সাফল্য অর্জন করেন। মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করে। বিদায় হজের ভাষণে তিনি আল্লাহর বাণী শুনিয়েছেন মানবজাতিকে, ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম। তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং তোমাদের জন্য দিন তথা জীবন ব্যবস্থা হিসেবে একমাত্র ইসলামকে মনোনীত করা হয়েছে।’ (সুরা মায়িদাহ, আয়াত ৩)।
হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ইতিহাসের অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব। অন্য ধর্মাবলম্বীরাও তাকে মানবজাতির সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী বিখ্যাত পণ্ডিত মাইকেল এইচ হার্ট তার বহুল আলোচিত ‘দ্য হান্ড্রেড’ গ্রন্থে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)-কে ‘সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ’ হিসেবে স্থান দিয়েছেন। ব্রিটিশ লেখক জর্জ বার্নার্ড শ বলেছেন, ‘এই অশান্ত পৃথিবীতে তার মতো একজন মানুষের প্রয়োজন। তার আগমনে যে বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল, দুনিয়া জুড়ে তা বিস্তৃত হয়েছে।’
বিশ্বনবীর জন্মদিন ও ওফাত দিবস উপলক্ষে প্রতি বছর ১২ রবিউল আউয়ালকে অতীব গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে পালন করে মুসলিম বিশ্ব। এ উপলক্ষে তারা রোজা রাখা, সীরাতুন্নবীর (সাঃ) আলোচনা, দরূদ পাঠ, দান-সদকা করে থাকেন। মিষ্টি, খাবার প্রভৃতি তৈরি করে বিতরণ করেন। ভক্তিভরে দরুদ পাঠে মশগুল থাকেন।
কেসিসি : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) পালন উপলক্ষে শুক্রবার সকাল ৯টায় নগরভবনে মহানবী (সঃ)-এঁর জীবনাদর্শের ওপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
আ’লীগ : ঈদে মিলাদুন্ননবী (সাঃ) উপলক্ষে নগর কমিটির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে। 
বিএনপি : পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে মহানগর ও জেলা কমিটির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল বেলা ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ