খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু হত্যাকান্ডে বিস্ফোরক আইনের মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য প্রদান  

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:৫০:০০


দৈনিক জন্মভূমি’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, খুলনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক হুমায়ূন কবীর বালু হত্যাকান্ডের পর বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের হওয়া মামলায় চার্জশীটভুক্ত সাক্ষী এনটিভির খুলনা ব্যুরো চীফ আবু তৈয়বসহ তিনজন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। 
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় খুলনার জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোঃ সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে তিনজন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।  অপর দুইজন হলেন ডাঃ আমজাদ হোসেন এবং স্থানীয় হারুন হাওলাদার। এ পর্যন্ত ৭ জন সাক্ষ্য দিয়েছে। 
এর আগে, গত ৮ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার নির্ধারিত দিনে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মোঃ সাইফুজ্জামান হিরো ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর জন্য দিন ধার্য করেন। গত ২২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত দিনে মামলার এজাহারকারী পুলিশ পরিদর্শক মারুফ আহম্মদ সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আরিফ মাহামুদ লিটন পুণরায় বিচার কাজ শুরুর আবেদনে উল্লেখ করেছিলেন মামলার বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়নি। হত্যাকান্ডের অনেক আলামত আদালতে উপস্থাপন হয়নি। এ অবস্থায় রায় ঘোষিত হলে রাষ্ট্রপক্ষের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য দিন ধার্য করেন।
এই মামলার আসামি স্বাধীন ওরফে সৈয়দ ইকবাল হোসেন, নজু ওরফে খোড়া নজু ওরফে নজরুল ইসলাম, রিমন ওরফে আসাদুজ্জামান এবং জাহিদ ওরফে সবুজ ওরফে শাহিদুর রহমান জামিনে আছে। আরেক আসামি মাসুম ওরফে জাহাঙ্গীর আদালত থেকে জামিনে মুক্তির পর থেকেই পলাতক রয়েছে। এই পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ আদালত অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। 
আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মোঃ ছায়েদুল হক শাহিন নথির বরাত দিয়ে জানান, ২০০৪ সালের ২৭ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা। মেয়ে টুম্পা এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় হুমায়ূন কবীর বালু তার সন্তানদের নিয়ে মাকে মিষ্টি খাওয়াতে ইকবাল নগরস্থ বাসায় যান। দুপুর ১২টার পরে তিনি সেখান থেকে জন্মভূমি ভবনের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। (খুলনা মেট্রো খ-১১-০০৫২) নাম্বারের প্রাইভেট কার থেকে তার বড় ছেলে আসিফ কবীর, মেয়ে হোসনা মেহেরুবা টুম্পা, ছোট ছেলে আশিক কবীর এবং ড্রাইভার নাছিম প্রথমে নামেন। এরপর তিনি গাড়ি থেকে নেমে অফিস ও বাস ভবনের ক্লবসিবল গেটের সামনে পৌঁছানো মাত্রই ঘাতকেরা তার পেছন দিক থেকে বোমা চার্জ করে। বোমার আঘাতে তার কোমর, পেটে ও পায়ে গুরুতর জখম হয়। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন ২৮ জুন খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক মারুফ আহম্মদ ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০-১২ জন আসামির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্যাদি আইনের ৩, ৪ ও ৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তভার থানা পুলিশের হাত ঘুরে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপর বর্তায়। ২০০৪ সালের ৮ আগস্ট ডিবি’র পরিদর্শক শেখ মহিউদ্দিন চৌধুরী আট জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ছয় জনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। আদালত চার্জশীট গ্রহণ করে বিচার কাজ শুরু করেন। বিচারের এক পর্যায়ে আদালতের এপিপি’র এবং নিহতের ছেলে আসিফ কবীরের আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ-সিআইডি খুলনা জোনকে নির্দেশ দেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে সিআইডি’র সাত জন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সিআইডি’র এএসপি মোঃ শাহাদাৎ হোসেন আদালতে সম্পূরক চার্জশীট দাখিল করেন। আসামি সাইদুর রহমান, বাবুল, মোঃ সেলিম এবং নাসির খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা তাদেরকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। আদালত ওই আবেদন মঞ্জুর করেন।
সূত্রমতে, আসামি মোঃ রিপন আহম্মেদ ওরফে সোয়েব, সুমন ওরফে শরিফুজ্জামান, আঃ রশিদ তপন ওরফে দাদা তপন ওরফে আঃ রশিদ মালিথা ওরফে ইমন, বিডিআর আলতাফ ওরফে সিদ্দিক এবং শ্যামল ওরফে দিদার ওরফে দিদারুল ইসলাম বিভিন্ন সময় পুলিশ ও র‌্যাবের সাথে এনকাউন্টারে মারা গেছে। 
তদন্তকালে গ্রহণ করা সাক্ষীদের জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে অভিযোগপত্রে লেখা হয়েছে, হত্যাকান্ডের কিছু দিন আগে থেকেই হুমায়ূন কবীর বালুকে টেলিফোনে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। বিষয়টি তিনি এবং তার ভাই এস এম জাহিদ হোসেন তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে জানিয়েছিলেন। আততায়ীদের বোমা হামলায় নিহত আরেক সাংবাদিক মানিক সাহার সাথে নির্ভিক কলম সৈনিক বালুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মানিক সাহা হত্যাকান্ডে জড়িতদের বিচারের দাবিতে তিনি সোচ্চার ছিলেন। ওই কেস নিয়ে বালু যেন বাড়াবাড়ি না করেন- সে ব্যাপারে অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি টেলিফোনে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার সাংবাদিক আইয়ুব হোসেনকে হুঁশিয়ারি বার্তা শুনিয়েছিলেন। চরমপন্থী সংগঠন পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি এমএল জনযুদ্ধের সন্ত্রাসীরা তার উপর ক্ষিপ্ত ছিল। ওই দলের আঞ্চলিক নেতা বিডিআর আলতাফ ঘাতক দলের নেতৃত্ব দেয় বলে গোপন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি মহানগর স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে মামলাটি বিচারের জন্য জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি হয়ে আসে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ