খুলা | বুধবার | ০২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

খুমেক হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশে নেই কোন  নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলার অবনতি : বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ১৩ নভেম্বর, ২০২০ ০১:৩৩:০০

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসে সাধারণ মানুষ। এখানে প্রতিনিয়তই বাড়ছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সংখ্যা। শয্যা সংখ্যা ছাড়াও দ্বিগুণ মানুষ ভর্তি থাকে এ হাসপাতালে। এর সাথে  ফের পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দর্শনার্থীদের সংখ্যা। করোনাকালীন এ সময়ে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার সাথে সাথে অবনতি হচ্ছে হাসপাতালের শৃঙ্খলার। এদিকে এ অবস্থার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে দায়ী করছেন সচেতন মহল। 
৫শ’ শয্যা বিশিষ্ট খুমেক হাসপাতালে ভর্তি থাকেন প্রায় হাজারেরও বেশি রোগী। প্রতি একজন রোগীর সাথে প্রায় ২-৩ জন দর্শনার্থী থাকেন। এছাড়াও সারাদিনে একজন রোগীকে দেখতে আসেন তার অনেক স্বজনরা। এতে হাসপাতালের জনসংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে যায়। করোনাকালীন এই সময়ে যেমন বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি, তেমনি চিকিৎসা সেবা দিতেও বেগ পেতে হচ্ছে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের। 
খুমেক হাসপাতাল ঘুরে প্রধান গেটসহ নানা স্থানে চোখে পড়েছে দর্শনার্থী প্রবেশের নিয়ম। হাসপাতালের প্রধান গেটে লেখা রয়েছে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের সাথে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এবং অক্টোবর থেকে মার্চ মাসে বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত দেখা করা যাবে। কিন্তু এসব নির্দেশনা অমান্য করেই হরহামেশাই রোগীদের কাছে পৌঁছান দর্শনার্থীরা। এদিকে হাসপাতালে সর্বক্ষণ রোগীর সাথে একজন থাকার কথা থাকলেও ৩-৪ জনকেও থাকতে দেখা গেছে। 
এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার সময়ের খবরকে বলেন, দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রনের জন্য হাসপাতালের বিভিন্ন জায়গায় সময়সীমা বেধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও রোগীর সাথে একজনের বেশি থাকলে ৫০০ টাকা জরিমানার কথাও বলা হয়েছে। এ হাসপাতালের শৃঙ্খলা বাড়ানোর জন্য পুলিশের সহায়তা চেয়েছি। কিন্তু তা না আসায় আবারও আনসার সদস্য চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। 
খুমেকের উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদি নেওয়াজ বলেন, বেশির ভাগ জায়গায় দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা থাকলেও খুমেক হাসপাতালে এর জন্য এখনও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ হাসপাতালে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারন হাসপাতালে যদি ১ হাজার রোগী ভর্তি থাকে তার সাথে থাকে আরও ৩ জন। আর এর মানে প্রায় চার হাজারেরও বেশি মানুষ ৫শ’ শয্যার এ হাসপাতালে অবস্থান করে প্রতিদিন। এতে যেমন স্বাস্থ্যসেবা দিতে চিকিৎসকদের সমস্যা হচ্ছে, তেমনি এই বাড়তি মানুষের বর্জ্য টানতে হচ্ছে হাসপাতালের। রোগীর সাথে এ বিরাট একটি অংশ থাকার ফলে হাসপাতালের টয়লেট বা ওয়াশরুম ব্যবহারের পাশাপাশি পানি ব্যবহার করছেন এবং সাথে সাথে যে খাবার খাচ্ছেন তার বর্জ্যও ফেলছেন তারা। এ অবস্থায় হাসপাতালে দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রণ আবশ্যক। তিনি আরও বলেন, গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার দর্শনার্থী নিয়ন্ত্রনের জন্য নানা রকম উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বিভিন্ন কারনে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে উদ্যোগ নিয়ে শক্ত অবস্থানে থাকলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে জানান এই চিকিৎসক নেতা। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ