খুলা | শনিবার | ০৫ ডিসেম্বর ২০২০ | ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

অন্যের স্ত্রীকে ফুসলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

সাতক্ষীরায় জজ কোর্টের পিপি লতিফসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় এজাহার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০৮:০০

সাতক্ষীরায় জজ কোর্টের পিপি লতিফসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় এজাহার


মামলা পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে ভাড়া বাসায় রেখে স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় আট লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের এড. আব্দুল লতিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও শহরের রসুলপুর এলাকার জামের আলীর ছেলে হাসানুজ্জামান ডাবলু বাদী হয়ে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামের আকাশ, নুরুল উল¬াহ, বিপাশা ও লতিফের পিওন পলাশ।
হাসানুজ্জামান ডাবলু তার অভিযোগে জানান, সদর উপজেলার ওয়ারিয়া গ্রামের বিপাশা বিশ্বাসের সঙ্গে ১৫ বছর আগে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ১২ বছরের একটি ছেলে রয়েছে। দু’বছর আগে তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। এর কিছুদিন পর তার স্ত্রী বিপাশা বিশ্বাস বাদী হয়ে জনৈক নজরুল ও রবিউলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী হওয়ার সুবাদে সাতক্ষীরা জজ কোর্টের বর্তমান পিপি এড. আব্দুল লতিফ কৌশলে তার স্ত্রীকে ফুসলে রসুলপুর পুলিশ লাইন এলাকার একজন ব্যাংক কর্মকর্তার বাড়ির তিন তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে রেখে দেয়। ভারত থেকে ফিরে তিনি স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। একপর্যায়ে বিপাশা ও লতিফের মোবাইল কললিস্ট যাচাই করে লতিফের সঙ্গে তার স্ত্রীর যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হন। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি রসুলপুরস্থ বিপাশার বাসায় গিয়ে সেখানে আব্দুল লতিফকে দেখতে পান। প্রতিবাদ করায় লতিফ মোবাইল ফোনে আকাশ, নুরুল উল্ল¬াহ বিশ্বাস ও পলাশকে সেখানে ডাকে। এ সময় তিনি বিপাশার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে লতিফ রান্না ঘর থেকে ছোট বটি এনে তার হাতে কোপ মারলে দু’টি আঙ্গুল কেটে মারাত্মক জখম হয়। পরে আকাশ, নুরুল উল¬াহ, পলাশ তাকে মারপিট করে। মারপিটের সময় বিপাশা তাকে জাপটে ধরে রাখে। এ সময় লতিফ তার প্যান্টের পকেটে থাকা ট্রাক ভাড়ার ৫৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে উদ্ধার করে তাকে চিকিৎসা করায়।
তিনি আরো বলেন, স্ত্রী বিপাশার নামে স্ট্যাণ্ডার্ড ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় থাকা দু’লাখ ৪০ হাজার টাকা, জনতা ব্যাংকে থাকা তিন লাখ টাকা ও আল আরাফা ইসলামী ব্যাংকে স্ত্রীর নামে থাকা আড়াই লাখ টাকাসহ তিন ব্যাংকে থাকা সাত লাখ ৯০ হাজার টাকা এড. আব্দুল লতিফ কৌশলে আত্মসাৎ করেছে। 
তবে এ বিষয় জানতে চাইলে এড. আব্দুল লতিফ বলেন, বিপাশাকে নির্যাতন করতো ডাবলু। এ কারণে ছয় মাস আগে বিপাশা তার স্বামীকে তালাক দেয়। বিপাশা তার বন্ধুর মেয়ে বিধায় তাকে তিনি মা বলে ডাকেন। কোর্টের এড. ওসমান গণি ও সাহেদ তার বিরুদ্ধে মিথ্যে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আল্লাহ এর বিচার করবেন।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান শুক্রবার রাতে হাসানুজ্জামান ডাবলু’র অভিযোগটি পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের জন্য এসআই মেহেদী হাসানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ঘটনার তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে বিপাশা তিন মাস আগে ডাবলুকে তালাক দিয়েছে বলে জেনেছেন তিনি। এছাড়া তার স্ত্রী বিপাশা তার বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলাও করেছেন। তালাকের বিষয়ে বাদী হাসানুজ্জামান ডাবলু বলেন, তালাকের কোন খবর আমি পাইনি। আর স্ত্রী বিপাশাকে নির্যাতনের বিষয়টিও মিথ্যে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বিজয়ের মাস  ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস  ডিসেম্বর

০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:২৬













ব্রেকিং নিউজ

বিজয়ের মাস  ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস  ডিসেম্বর

০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:২৬