খুলনা | শুক্রবার | ১৫ জানুয়ারী ২০২১ | ২ মাঘ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

দু’টি ক্রসিং পয়েন্টে ওভারব্রীজ ও সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ জরুরি : অবৈধ আবাসন প্রকল্পের কারণেও বাসযোগ্যহীন হয়ে পড়তে পারে মহানগরী

পদ্মা সেতু ও রূপসা রেলসেতু চালুর পূর্বপ্রস্তুতি নেই খুলনার!

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ২৮ নভেম্বর, ২০২০ ০০:২৪:০০

স্বপ্নের পদ্মা সেতুর মূল অবকাঠামোতে বাকী আর মাত্র দু’টি স্প্যান বসানোর। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী আগামী বছর সেতুটি খুলে দেয়ার কথা। আর রূপসা রেলসেতুর প্রায় প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এটি ২০২২ সালে উদ্বোধন হতে পারে মনে করেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। বিশাল জনগোষ্ঠির বহুল প্রত্যাশিত এ দু’টি সেতু খুলে দিলে পাল্টে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রূপ। তড়িৎ উন্নয়নে স্বপ্ন স্পর্শ করবে বিভাগীয় শহরবাসী। তবে সাতক্ষীরা-খুলনা ও খুলনা-যশোর মহাসড়কের দু’টি পয়েন্টে ওভারব্রীজ নির্মাণ এবং সংযোগ সড়কগুলো দ্রুত প্রশস্ত না করলে ব্যাপক যানজটের কবলে পড়বে নগরবাসী। তাছাড়া অবৈধ আবাসন প্রকল্পগুলোর অপরিকল্পিত প্রতিযোগিতার ফলে বাসযোগ্যহীন হয়ে পড়তে পারে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এ শহরটি। নগরায়নে দেখা দিতে পারে প্রতিবন্ধকতা। এসব বিষয়ে পূর্ব প্রস্তুতি প্রয়োজন বলে মন্তব্য নগর পরিকল্পনাবিদ ও উন্নয়ন কর্মীদের। এসব সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে কেসিসি, জেলা প্রশাসন, কেডিএ, সওজ ও জেলা পরিষদের সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করে তদারকি টীমগঠনের সুপারিশ করছেন তারা।
জানা গেছে, ৪৫ দশমিক ৬৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) এলাকায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। মহানগরীর পাঁচটি থানার সাথে সংযুক্ত হয়েছে আরও তিনটি থানার অধিবাসীরা। কেসিসি’র সীমানা বৃদ্ধি সময়ের ব্যাপার মাত্র। ভৌগলিক আয়তন ও জনসংখ্যা বাড়লেও বিভাগীয় শহর খুলনার সড়ক উন্নয়ন, পরিকল্পিত নগরায়ন হয়নি। শহরের সংযোগ সড়ক প্রশস্তকরণ, অবৈধ আবাসন প্রকল্পগুলো বন্ধ করে পরিকল্পিত নগরায়ন করা না গেলে বহুল কাঙ্খিত পদ্মাসেতুর সুফল পাওয়া যাবে না বলে অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
সূত্রমতে, গতকাল শুক্রবার ৩৯তম স্প্যান বসিয়ে ৬১৫০ মিটার পদ্মাসেতুর দৃশ্যমান হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০ মিটার। আর মাত্র দু’টি স্প্যান বসানো গেলে দৃশ্যমান হবে বাকী ৩০০ মিটার। ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে সেতুর ১১ ও ১২ নম্বর পিলারে ৪০তম স্প্যান (স্প্যান ২-ই) বসানোর পরিকল্পনা আছে প্রকৌশলীদের। বিজয় দিবসের আগেই মাওয়া প্রান্তে ৪১তম স্প্যানটি বসার কথা রয়েছে।
পদ্মাসেতু নির্মাণে প্রয়োজন হবে ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব। এরমধ্যে বসানো হয় এক হাজার ২৩৯টির বেশি রোড স্ল্যাব। এছাড়া ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। এর মধ্যে বসানো হয় এক হাজার ৮৪৮টির বেশি রেল স্ল্যাব। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তের বসানো স্প্যানগুলোতে এসব স্ল্যাব বসানো হচ্ছে। মাওয়া কন্সট্রাকশন ইয়ার্ডে দু’টি স্প্যানের কাজ শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দো’তলা। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২১ সালেই খুলে দেয়ার কথা রয়েছে। সেতুটি খুলে দিলে খুলনাতে যানবাহনের যাতয়াত বহুগুনে বেড়ে যাবে। সে জন্য শিপইয়ার্ড রোডসহ শহরের সংযোগগুলোর দ্রুত প্রশস্ত করা জরুরি বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবীদরা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যলয়ের নগর ও গ্রামীণ পরিকল্পনা ডিসিপ্লিনের সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিম বলেন, মহানগরী হিসেবে খুলনার সড়কগুলোর বেহালদশা। পদ্মাসেতু নির্মাণ সম্পন্নের পূর্বেই নগরীর ব্যস্ততম সড়ক ও সংযোগ সড়কগুলো প্রশস্ত করতে হবে। বিশেষ করে ময়লাপোতা-জিরোপয়েন্ট এবং রূপসা ট্রাফিক মোড় থেকে রূপসা ব্রীজ শিপইয়ার্ড রোড ফোরলেন নির্মাণ জরুরি। শহরের মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ও মালবাহী ট্রাক প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ট্রাফিক ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে। নগরীর ট্রাফিক লাইটগুলো কত বছর জ্বলে না, কেউ কি নির্দিষ্ট করে বলতে পারবেন?
তিনি আরও বলেন, রূপসা রেলসেতুতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ক ও খুলনা-যশোর মহাসড়কের ক্রসিং দু’টি পয়েন্টে যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। সে বিষয়টিও এখনি ভাবতে হবে। খুলনার পরিকল্পিত নগরায়নের জন্য কেসিসি, জেলা প্রশাসন, কেডিএ, সড়ক ও জনপদ, জেলা পরিষদসহ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে বিশেষজ্ঞদের অংশ গ্রহণে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করে তদারকি টীমগঠনের বিকল্প নেই।
এদিকে, রূপসা নদীর ওপর নির্মাণাধীন রূপসা রেল সেতুর নির্মাণে চুক্তি সই হয় ২০১৫ সালের আগস্টে। তবে জমি অধিগ্রহণ ও নকশা জটিলতায় সেতুটির নির্মাণ বিলম্বিত হয়। বর্তমানে এর প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষে ২০২২ সালে পাঁচ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দৈর্ঘের সেতুটি উদ্বোধন করা হতে পারে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা-মোংলা রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের কাজটি তিনটি অংশে বিভক্ত। সেগুলো হচ্ছে রেললাইন স্থাপন, রেল সেতু নির্মাণ এবং টেলিকমিউনিকেশন ও সিগন্যালিং ব্যবস্থা। লুপ লাইনসহ রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণ হবে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। এছাড়া ২১টি ছোটখাটো সেতু ও ১১০টি কালভার্ট নির্মিত হবে। খুলনার ফুলতলা থেকে বাগেরহাটের মোংলা পর্যন্ত রেলস্টেশন হবে আটটি।
সেতুটিতে ট্রেন চলাচল শুরু হলে খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে এবং খুলনা-যশোর মহাসড়কের দু’টি পয়েন্টে আধাঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। ফলে খুলনা-সাতক্ষীরা এবং খুলনা-যশোর মহাসড়কের ক্রসিং স্থলে দু’টি ওভার ব্রীজ নির্মাণ জরুরি বলে মনে করেন উন্নয়ন কর্মীরা। এছাড়া আবাসন প্রকল্পগুলোর অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে জিঞ্জির অবস্থার আশঙ্কা করছেন তারা।
জনউদ্যোগ খুলনার আহ্বায়ক এড. কুদরত-ই খুদা বলেন, খুলনার সিংহভাগ সড়ক সিজারিয়ান। যে যার প্রয়োজনে সড়কগুলো কাটছে, কিন্তু বছরের পর বছর আর মেরামত করছে না। জরাজীর্ণ অবস্থা সড়কগুলোর সংস্কারের প্রয়োজন। এ অবস্থায় অধিক যানবাহনের চাপে জিঞ্জির হয়ে পড়তে পারে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম এ শহরটি। পদ্মাসেতুর সুফল পেতে হলে খুলনার ব্যস্ততম ও সংযোগ সড়কগুলো প্রশস্ত করতে হবে। পরিকল্পিত নগরায়ন জরুরি।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, “সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে যদি কেসিসি, খুলনা জেলা প্রশাসন, কেডিএ, সওজ ও জেলা পরিষদসহ উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি করে তদারকি টীমগঠন করা হয়। পরিকল্পিত নগরায়নের মূল অন্তরায় চিহিৃত করে সেগুলো দ্রুত সমাধাণ করতে হবে। তাহলে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর সুফল আমরা পাবো না।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ












চালনা পৌরসভা মেয়র পদে শপথ স্থগিত

চালনা পৌরসভা মেয়র পদে শপথ স্থগিত

১৫ জানুয়ারী, ২০২১ ০০:৪৮


ব্রেকিং নিউজ



পাকিস্তানের টেস্ট দলে ৯ নতুন মুখ

পাকিস্তানের টেস্ট দলে ৯ নতুন মুখ

১৫ জানুয়ারী, ২০২১ ১৯:০৭


দ্রুততম মানব ইসমাইল, মানবী শিরিন

দ্রুততম মানব ইসমাইল, মানবী শিরিন

১৫ জানুয়ারী, ২০২১ ১৮:৩৪




দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভার ভোট কাল

দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভার ভোট কাল

১৫ জানুয়ারী, ২০২১ ১৭:২১