খুলনা | মঙ্গলবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

অবাঞ্ছিত-অনাকাক্সিক্ষত লোকজনের  পদচারণায় নষ্ট হচ্ছে পবিত্রতা

গল্লামারীতে অরক্ষিত ‘বধ্যভূমি স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ’

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:৩৯:০০

মূল স্তম্ভ নির্মিত হলেও অর্থসংকটে ১০ বছরেও পূর্ণতা পায়নি খুলনার গল্ল¬ামারীর ‘বধ্যভূমি স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ’। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ স্মৃতিসৌধটির চত্বরে অবাঞ্ছিত-অনাকাক্সিক্ষত লোকজনের পদচারণায় সৌধের পবিত্র নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের গোড়ার দিকে খুলনায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহুল গল্ল¬ামারীতে স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধ নির্মাণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে খুলনা জেলা পরিষদ। সৌধটি নির্মাণে ব্যয় নির্ধারন করা হয় ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা। প্রকল্পে থাকে মূল স্তম্ভ নির্মাণ, স্বাধীনতাসৌধ এ্যাপ্রোচ রাস্তা এবং পার্কিং ইয়াড, সীমানা প্রাচীরসহ ফটক ও গার্ড/ওয়েটিং রুম ও রেস্টুরেন্ট এবং ম্যুরাল দিয়ে গেট নির্মাণ, বৃক্ষরোপন ও দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান তৈরি, চত্বরে পানির ফোয়ারা, বৈদ্যুতিকরণ ইত্যাদি। এর মধ্যে মূল স্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা।সূত্রটি জানায়, প্রকল্পটি অনুমোদনের পর মূল স্তম্ভ নির্মাণে দু’কোটি বরাদ্দ দেয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। অর্থ বরাদ্দের পর স্তম্ভ নির্মাণে দুই দফা দরপত্রের আহ্বান করে জেলা পরিষদ। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ২৩ জুন আহ্বানকৃত দরপত্রের প্রেক্ষিতে কাজটি পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজাদ-ইলোরা জেভি। যার ওয়ার্ক অর্ডার হয় ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর এবং মূল স্তম্ভ নির্মাণ কাজ শেষ হয় ২০১০ সালের অক্টোবর মাসে। 
ওদিকে, গত ২০১০ সালের ১৮ অক্টোবর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা প্রশাসকসহ খুলনার গণ্যমান্য বক্তিবর্গ নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে মেয়র সৌধের মাস্টারপ্লাণ অনুযায়ী অন্যান্য কাজ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন। এরপর ২০১১ সালের ১০ মার্চ স্মৃতিসৌধের স্থপতি আমিনুল ইসলাম ইমন নির্মিত ওই মূল স্তম্ভ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনিও স্মৃতিসৌধটিকে পূর্ণতা দিতে মূল নকশা বাস্তবায়নের পরামর্শ দেন। তার পরামর্শ ও মূল নকশা অনুযায়ী স্মৃতিসৌধের পূর্ণতা দিতে ২০১১ সালের মার্চে স্থানীয় সরকার বিভাগে বাকী ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ পেতে পত্র প্রেরণ করে জেলা পরিষদ। স্থানীয় সরকার বিভাগে বাকী অর্থ প্রদান না করে ওই বছরের এপ্রিল মাসে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে অর্থ প্রদানে সুপারিশ ও নির্দেশনা দেয়। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুলিপি দেয়। কিন্তু আজ অবধি মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ওই অর্থ বরাদ্দ করেনি। ফলে সৌধটির পূর্ণতা না পেয়ে বর্তমানে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাস্টার প্লান অনুযায়ী সকল কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় বিশেষ করে সীমানা প্রাচীর না থাকায় চত্বরে অবাঞ্ছিত/অনাকাক্সিক্ষত লোকজনের পদচারণায় সৌধের পবিত্র নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া জাতীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বিঘিœত হচ্ছে।
খুলনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, তিনি যোগদানের পর এ বিষয়ে অফিসিয়ালি কোন আলোচনা হয়নি। ফলে বিষয়টি তার নলেজে নেই।
প্রঙ্গত, স্বাধীনতার পর ১৯৯৫ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক রিয়াজুল হক ও পুলিশ সুপার আওলাদ হোসেন-এর উদ্যোগে গল্ল¬ামারীর এ স্থানে অস্থায়ী স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। ১৯৯৫ সালের ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধের পরিকল্পনাকারী রিয়াজুল হক বিজয় মঞ্চের উদ্বোধন করেন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








ঝিনাইদহে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৪:১৪






ব্রেকিং নিউজ


দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ মেসি

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ মেসি

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৯:৩৭



মাশরাফির আওয়াজ একটাই ‘বাংলাদেশ’

মাশরাফির আওয়াজ একটাই ‘বাংলাদেশ’

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৮:২০

পপির বিয়ের গুঞ্জন আবারও !

পপির বিয়ের গুঞ্জন আবারও !

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৮:১৬