খুলনা | মঙ্গলবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২১ | ৬ মাঘ ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

ব্যয় ২৫ কোটি টাকা 

মোংলা বন্দরে সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে নির্মিত হচ্ছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট

এস এস শোহান, বাগেরহাট | প্রকাশিত ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০


মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী ও বন্দরে আসা-যাওয়া জাহাজের পানি চাহিদা মেটাতে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। নির্মাণাধীন এই প্লান্ট সম্পন্ন হলে প্রতিদিন ৫০ লক্ষ লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করা যাবে বন্দর এলাকায়। এর ফলে মোংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকার সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হবে। এই পানির প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ শুরু হলে বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর সংলগ্ন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষের জীবন যাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দর ভবন থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের দিগরাজ মোড়ে ৩৩ শতাংশ জমির নির্মাণ হচ্ছে আধুনিক সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট। এ প্লান্ট নির্মাণে ব্যয় হবে ২৪ কোটি ৭২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তিতাস বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই প্লান্ট নির্মাণ করছে। ২০১৮ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির পানির রিজার্ভের পাইলিংয়ের কাজ ৯০ শতাংশ শেষ হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়ালের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২১ সালে মাঝামাঝি সময়ে এই প্লান্ট নির্মাণ শেষ হবে। এই প্লান্ট থেকে পানি সরবরাহ শেষ হলে, সমুদ্রগামী জাহাজ, বন্দর অফিস, আবাসিক এলাকা, বন্দর সংলগ্ন বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংস্থাসমূহের সুপেয় পানির বর্ধিত চাহিদা পূরণ হবে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
সমুদ্র উপকূলবর্তী হওয়ায় ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে মোংলা বন্দরে সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। মোংলা বন্দর পৌরসভার বাসিন্দাদেরও রয়েছে প্রকট পানির চাহিদা। সমুদ্র থেকে সরাসরি নদীতে লবণ পানি ঢুকে পড়ায় খাবার পানির জন্য একমাত্র বৃষ্টির উপরই নির্ভর করতে হত মোংলা বন্দর ও বন্দর সংশ্লিষ্ট মানুষদের। সুপেয় পানির অভাবে বন্দর সংলগ্ন এলাকার চাকুরিজীবীরা মোংলায় বসবাস না করে খুলনা ও বাগেরহাটে বাসা ভাড়া থাকতেন। স্থানীয়দের দীর্ঘ দিনের দাবি সুপেয় পানির জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সমুদ্রগামী জাহাজ কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দরের শ্রমিক, কর্মচারী-কর্মকর্তাসহ এলাকাবাসী।
বন্দর কর্মরত বিভিন্ন বিভাগের শ্রমিকরা জানান, আমরা বন্দরের উপর নির্ভর করে বেচে থাকি। বন্দরে কাজ করেই আমাদের জীবীকা নির্বাহ করতে হয়। কিন্তু বন্দরের অভ্যন্তরে আমাদের তেমন কোন সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই। সমুদ্রগামী জাহাজের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে পানি কিনে নিয়ে যায় তারা। শুনেছি এই পানির সংকট মেটাতে একটি বড় ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট হচ্ছে। এটি হলে আমাদের জিন্য খুব উপকার হবে।
মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকার চাকুরিজীবী আব্দুল লতিফ বলেন, ‘বন্দরের চার পাশে প্রচুর পানি। এরপরেও বন্দর এলাকার সব থেকে বড় সমস্যা হচ্ছে সুপেয় পানির অভাব। কারণ পশুর নদীর পানি হচ্ছে লবণাক্ত। এই পানির অভাবেই আমরা মোংলাতে রাত্রিযাপন করতাম না। সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ হলে আমাদের পানির চাহিদা মিটবে। এই এলাকার স্থানীয় মানুষ ও চাকুরিজীবীরা ভাল থাকতে পারবেন’।
মোংলা বন্দরের জন্য সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক অনুপম গাইন বলেন,‘ প্রকল্পের সকল প্রকার প্রক্রিয়া শেষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মূল প্লান্ট নির্মাণ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্লান্টের কনস্ট্রাকশন কাজ ৩৫ শতাংশের মত শেষ হয়েছে। আমরা আশা করছি ২০২১ সালে জুনের মধ্যে সকল কাজ শেষ করতে পারব। তবে করোনার কারনে বেশ কিছু দিন কাজ বন্ধ ছিল, যার কারণে একটু বেশি সময় লাগতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম শাহজাহান বলেন, ‘বন্দরে জাহাজের আগমনের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বন্দরের অনেক উন্নয়নও হয়েছে। কিন্তু ভৌগলিক কারণে বন্দরে সুপেয় পানির একটা সংকট রয়েছে। আমরা এই সংকটের সমাধান ও সুপেয় পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি। এর অংশ হিসেবে বন্দরে একটি আধুনিক সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি শেষ হলে হলে বন্দরের সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ হবে বলে আশা করেন তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








ঝিনাইদহে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধার

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৪:১৪






ব্রেকিং নিউজ


দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ মেসি

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ মেসি

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৯:৩৭



মাশরাফির আওয়াজ একটাই ‘বাংলাদেশ’

মাশরাফির আওয়াজ একটাই ‘বাংলাদেশ’

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৮:২০

পপির বিয়ের গুঞ্জন আবারও !

পপির বিয়ের গুঞ্জন আবারও !

১৯ জানুয়ারী, ২০২১ ১৮:১৬