খুলনা | শুক্রবার | ০৫ মার্চ ২০২১ | ২১ ফাল্গুন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

মুুমিনের মর্যাদা কা’বার থেকেও বেশী 

প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউসুফ আলী | প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০:০০

১০০ জনের মধ্যে ৯০ জন রাষ্ট্রদ্রোহী আর বাকি ১০ জন রাষ্ট্রের অনুগত। কার দাম সরকারের কাছে বেশী? নিশ্চয়ই বাধ্যগত ১০ জনের?  বিয়ে বাড়িতে ১০০ জন মানুষ। তার মধ্যে ১ জন মাত্র বর, আর বাকি সবাই বরযাত্রী। কার মর্যাদা বেশী? সকলেই বলবেন, বরের। কারণ, বরের কারণেই বরযাত্রী, বরের ওসিলাতেই বাকি ৯৯ জনের খাওয়ানো হচ্ছে। ঠিক একইভাবে বিশ্বব্রম্মান্ডে একজন মুমিন বা আল­া’তে বিশ্বাসীর দাম আল­া’র কাছে বেশী। যদি দুনিয়াতে কোনো মুমিন না থাকে তাহলে মহান আল­াহ তায়ালা সারা বিশ্বকে ধ্বংস করে দেবেন এবং কেয়ামত কায়েম হয়ে যাবে। হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হাদিসে রসুলুল­াহ (সঃ) এরশাদ করেছেন, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত আসবে না যতক্ষণ পর্যন্ত জমিনে এমন কোন ব্যক্তি থাকবে যে বলবে, আল­াহ আল­াহ (মুসলিম)। আর এক হাদিসে আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কেয়ামত কায়েম হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত জমিনে একজনও কালেমা বলনেওয়ালা মানুষ থাকবে। বৈষয়িক উন্নতি, মেধা, শারিরীক যোগ্যতা, আর্থিক-উন্নতি বা অন্য যে কোন দিক দিয়ে একজন মুমিন আমার থেকে নিচে অবস্থান করতে পারে, কিন্তু মর্যাদার দিক দিয়ে সে নিচে নয়। তার দাম মহান আল­া’র কাছে অনেক বেশী। এক হাদিসে আছে, সবচেয়ে নিম্নতম জান্নাতীকে যে জান্নাত দেয়া হবে তা এই দুনিয়ার কমচে কম ১০ গুণ বড় হবে। আল­া’তে অবিশ্বাসীরা শুধু এই দুনিয়াতেই মজা ভোগ করতে পারবে, আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। এক কারণেই একজন মুসলমান গোলামও বিশ্বের কোটি কোটি অবাধ্য কাফেরের থেকে মহান আল­া’র কাছে বেশী দামি। এ প্রসঙ্গে সারা বিশ্বের মালিক মহান আল­াহপাক এরশাদ করেন: নিশ্চয় একজন মুমিন গোলাম একজন স্বাধীন মুশরিক পুরুষ হতে উত্তম, যদিও মুশরিক পুরুষ তোমাদের নিকট কতইনা ভাল মনে হয় (সূরা বাকারা: ২২১)। আর এক আয়াতে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি মুমিন সেকি ঐ ব্যক্তির মতো হবে যে অবাধ্য বা কাফির। না, তারা একে অপরের সমান হতে পারে না (সূরা আলিফ-লাম-মিম- সিজদাহ: ১৮)। 
আমরা পদে পদে মুসলমানকে হেয়, তুচ্ছ-তাছিল্য করতেও দ্বিধা করি না। কিন্তু আমরা খেয়াল করি না যে, এটা কতো বড় অন্যায়। প্রত্যেক মানুষের সাথে তার বয়স, মর্যাদা, দায়িত্ব  ইত্যাদি বিষয়ের দিকে লক্ষ করে ব্যবহার করা উচিত। হযরত আয়েশা (রাঃ) বলেন, আমাদেরকে মহানবী (সঃ) এই হুকুম করেছেন যে, আমরা যেন মানুষের সাথে তাদের মর্যাদার দিকে খেয়াল করে আচরণ করি (মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম)। চেহারা, গায়ের রং, সৌন্দর্য এসব কারণে কেউ কারো থেকে উত্তম নয়। এ ব্যাপারে হযরত আবু যর (রাঃ) বলেন, নবী কারিম (স.) তাকে এরশাদ করলেন, দেখো, তুমি কোন সাদা মানুষ হতে বা কালো মানুষ হতে উত্তম নও, অবশ্য তুমি তাকওয়া বা আল­াহ ভীতির কারণে উত্তম হতে পারো (মুসনাদে আহমাদ)। 
আমরা বর্তমানে নামাজ পড়া, হজ্জ করা, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদিকে ইবাদত মনে করি, কিন্ত কোন মুসলমান সম্পর্কে ভালো ধারণা  রাখাকে  ইবাদতের অংশ মনে করি না। মুসলমানকে ভালোবাসা, মুসলমান সম্পর্কে খারাপ ধারণা না করা, মুসলমানকে বিপদে-আপদে সাহায্য করা সবই ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত। এ প্রসঙ্গে আল­াহ তায়ালা এরশাদ করেন, সৎকাজ শুধু এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় যে, তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল পূর্ব কিংবা পশ্চিম দিকে ফিরাবে, বরং প্রকৃত সৎকাজ হল ঈমান আনবে আল­াহর প্রতি, কিয়ামতের দিন ও ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানী কিতাবসমূহ ও পয়গম্বরদের উপর, তদুপরি ধন-সম্পদ প্রিয় হওয়া সত্বেও দান করে আত্মীয়-স্বজন, এতিম-মিসকিন, ভিক্ষুক এবং গোলাম আজাদ করার বাপারে, আর নামাজ কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে (সূরা বাকারা)। হযরত আবু হুরাইয়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রসুলুল­াহ (সাঃ) এরশাদ করেছেন, একটি গাছ দ্বারা মুসলমান কষ্ট পেতো। এক ব্যক্তি এসে সে গাছটি কেটে ফেললো। অতপর এই আমলের ওসীলায় সে জান্নাতে দাখেল হয়ে গেলো (মুসলিম)।
মুসলমানকে ধোকা দেয়া, প্রতারিত করা, তার প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ রাখা সবই মারাত্মাক গোনাহ। এক হাদিসে তিনি বলেন, তোমরা পরস্পরের প্রতি হিংসাপোষণ করো না, নকল ক্রেতা সেজে আসল ক্রেতাকে ধোঁকা দিও না, ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না, একজনের ক্রয়-বিক্রয়ের উপর অন্যজন ক্রয়-বিক্রয় করো না। আল­াহর বান্দাগণ, তোমরা ভাই ভাই হয়ে থাক। মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তাকে জুলুম করতে পারে না, হীন জ্ঞান করতে পারে না এবং অপমান-অপদস্থও করতে পারে না। তাকওয়া এখানে থাকে। একথা তিনি তিনবার বলেন এবং বক্ষের দিকে ইশারা করেন। কোন ব্যক্তি খারাপ প্রমানিত হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলমান ভাইকে ঘৃণা করে, হীন মনে করে। বস্তুত প্রত্যেক মুসলমানের রক্ত (জীবন), ধন-সম্পদ, মান-সম্মান অন্য সব মুসলমানের জন্য হারাম (মুসলিম)। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, রসুলুল­াহ (সাঃ) একবার কা’বার দিকে লক্ষ্য করে বললেন, লা ইলাহা ইল­াল­াহ, হে কা’বা, তুমি কতই না পবিত্র, তোমার খুশবু  কতই না উত্তম এবং তুমি কতই না মর্যাদার অধিকারী, কিন্তু মুুমিনের মর্যাদা ও সম্মান তোমার চেয়েও বেশী। মহান আল­াহ তোমাকে মর্যাদার যোগ্য বানায়েছেন। এমনিভাবে মুমিনের মাল, রক্ত ও ইজ্জত আবরুকেও মর্যাদার যোগ্য বানায়েছেন। আর এ মর্যাদার কারণেই আল­াহ তায়ালা এই বিষয়ও হারাম করে দিয়েছেন যে, আমরা কোন মুমিনের ব্যাপারে সামান্যতমও খারাপ ধারণা করি (তাবারানি, মাজমায়ে যাওয়ায়েদ)।

(লেখক: প্রাবন্ধিক ও অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।)
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

টিকা ছাড়া হজ নয় : সৌদি সরকার

টিকা ছাড়া হজ নয় : সৌদি সরকার

০২ মার্চ, ২০২১ ২০:১২

গুজব ছড়ানো মারাত্মক গুনাহ

গুজব ছড়ানো মারাত্মক গুনাহ

০২ মার্চ, ২০২১ ১৩:১৫

অশ্লীল আসক্তি থেকে বেঁচে থাকার দোয়া

অশ্লীল আসক্তি থেকে বেঁচে থাকার দোয়া

২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৩:৩৪


চাকরির জন্য যে দোয়া পড়বেন

চাকরির জন্য যে দোয়া পড়বেন

১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৪:১০

পবিত্র শবে মেরাজ ১১ মার্চ

পবিত্র শবে মেরাজ ১১ মার্চ

১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৯:৫৭


অনিদ্রা দূর করতে পড়ুন এই দোয়া

অনিদ্রা দূর করতে পড়ুন এই দোয়া

১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৩:৫৫



সহযোগিতা করে খোটা দেয়া কবিরা গুনাহ

সহযোগিতা করে খোটা দেয়া কবিরা গুনাহ

০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৭:১৫



ব্রেকিং নিউজ