খুলনা | শুক্রবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

শখের বসে যাত্রা শুরু হলেও আজ সফল কেক কারিগর তিথি

সুরাইয়া ইসলাম মীম | প্রকাশিত ২২ জানুয়ারী, ২০২১ ০০:০৫:০০

কেক কারিগর তাসনুবা তিথি। তিনি সরকারি ব্রজলাল কলেজ খুলনার ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।  খুব অল্প বয়সেই বিয়ে হয় তিথির। একাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় কোলজুড়ে আসে ছেলে অনন্য শাহরিয়ার পার্বণ। তবুও পড়ালেখা বন্ধ করেনি তাসনুবা তিথি। ছেলে, সংসার এবং পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ততায় চাকরিতে ঢোকার সুযোগ হলো না। তবুও ঘরে বসে থাকবেন না তিনি, স্বাধীনতাপ্রিয় এই নারী কখনোই ভাবেননি তিনি কেক বিক্রয় করে এতটা সফল হবেন। 

তিথি জানালেন, প্রথমে কেক বানানোর কৌশল আত্মস্থ করার চেষ্টা করেন পরিবারের মাধ্যমেই। পরিবারের সকল সদস্যদের জন্মদিন কখনোই ভুলতেন না তিনি। প্রিয় মানুষদের এই বিশেষ দিনে বিভিন্ন ডিজাইনের কেক নিয়ে হাজির হতেন। সেই কেকের ডিজাইন আপলোড করতেন নিজস্ব ফেইসবুক আইডিতে। হঠাৎ নিজের ভাললাগা থেকেই ফেসবুকে ‘হ্যাভেনলি ক্রিয়েশনস’ নামের পেজ খুলেন। নিজস্ব আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে একটু একটু করে গড়ে তুলেছেন এই সফলতা, অর্জন করেছেন আস্থা। বাড়তে থাকে পরিচিতি। এখন প্রতি দিনই তাঁর কাছে প্রচুর কেকের ফরমাশ আসে। আর এখনের এই সফলতার মূলধন ছিল মাত্র দশ হাজার টাকা, বেকিং আইটেম এবং ওভেন।

যেকোনো একটি নকশা অনুযায়ী হুবহু সেটি কেকে ফুটিয়ে তুলতে পারেন তিথি। গত তিন বছরে কয়েক হাজার কেক বানিয়েছেন। কোনো কেক-এ উঠে এসেছে সবার পছন্দের টম এন্ড জেরি কিংবা মোটু পাতলু। কোনোটিতে আবার গায়ে হলুদের বিভিন্ন সামগ্রী। কোনোটিতে আবার ফুটে উঠেছে বই, স্টেথোস্কোপ কিংবা প্রিয় মানুষের মুখ। নিজের একটি কক্ষে রয়েছে তিথির কেক স্টুডিও। সেই কক্ষ ঠাসা ছুরি-কাঁচি থেকে শুরু করে নানা আকারের বেকিং যন্ত্রাংশ। আছে কেক  তৈরির হরেক রকম উপকরণও। প্রথমে নিজে শুরু করলেও এখন কাজের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ার পর তিথির মাধ্যমে এখন ৩জনের কর্মসংস্থান হচ্ছে। 

তিথি বললেন, ‘ শখের বসে কেক বানাতে শুরু করি। এ থেকে আয় হবে সেটা কখনো ভাবিনি। আর বাবা অনেক চেয়েছিল আমি ব্যাংকার হবো কিন্তু আমি চেয়েছি স্বনির্ভর আদর্শ মা হতে। আমি আত্মনির্ভরশীল হতে যেয়ে যেন কখনোই আমার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এটাই সবসময় ভেবেছি।’
তিথির কাছে আসা কেকের ফরমাশের মধ্যে বেশির ভাগই বিভিন্ন অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক। অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক বিভিন্ন রকম নকশা তার ফেসবুক পেজে থাকে। আবার ক্রেতা নিজেরাও নকশা দেন নিজেদের পছন্দ মতোন। একটা কেক বানাতে এবং ডিজাইন তুলতে তিথির খুব বেশি সময় প্রয়োজন হয় না। তিনি নিয়মিত ১৫-২০ পাউন্ড কেক তৈরি করেন।

অবসরে ভ্রমন-পিপাসু তিথি পছন্দ করে ভ্রমন করতে, তিনি দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রমনের পাশাপাশি ভ্রমন করতে চান পৃথিবীর একাধিক দেশ। ছেলেকে নিয়ে লং ড্রাইভে বের হওয়া তার পছন্দের আরেকটি কাজ। এছাড়াও সময় পেলেই ওয়েবসিরিজ দেখেন তিনি। 
তিথির স্বপ্ন-একদিন তাঁর ব্যবসার পরিসর আরও বাড়বে। দেবেন একটি বড় কারখানা। শুধুমাত্র খুলনা শহর নয় দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে তাঁর কেক-এর সুনাম।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:৩১











ব্রেকিং নিউজ








মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:৩১