খুলনা | শুক্রবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

‘ভয়কে আমরা জয় করতে শিখবো বাইক চালানো’

সফল ট্রেনার ‘লেডি বাইকার ট্রেনিং সেন্টার’-এর স্বত্বাধিকারি এশা

সুরাইয়া ইসলাম মীম | প্রকাশিত ২৪ জানুয়ারী, ২০২১ ০০:১৭:০০

নগরীর গণ-পরিবহনের হয়রানির কথা আমরা সবাই জানি। হোক সেটা বাস, ইজিবাইক কিংবা লেগুনা। চিত্র সব জায়গায় অভিন্ন। একটি টাউন সার্ভিস বাস আসবে, তাতে সবাই দৌড়-ঝাঁপ দিয়ে উঠবে, বাসে উঠার প্রথমেই গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করবে বাসের হেলপার। কিংবা একজন কনুই দিয়ে ওই নারী যাত্রীটির স্পর্শকাতর কোনো এক স্থানে আঘাত করবে, এগুলো সমসাময়িক নিয়মিত ঘটনা। 
এবার আসি ইজিবাইক কিংবা লেগুনা। নারীদের জন্য নেই কোন সংরক্ষিত সিট। পাশাপাশি বসতেই হবে নারী পুরুষ। ওই নারী যাত্রীটির শরীর স্পর্শ করে কোনো বিকৃত মস্তিষ্কের কোন পুরুষ। এ যেন পরিচিত দৃশ্য। মোট কথা একজন নারীর কাছে গণ-পরিবহন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র। 
নারীরা এমন কিছু সমস্যা মোকাবেলা করেন যেটা একই সমাজের একজন পুরুষকে মোকাবেলা করতে হয় না। এবারের গল্প এই যুদ্ধক্ষেত্র কে পরিবর্তন করার আত্মপ্রত্যয়ে সংগ্রামী সফল একজন নারীর। তিনি হলেন একজন সংগ্রামী সফল নারী উদ্যোক্তা, ‘লেডি বাইকার ট্রেনিং সেন্টার’ স্বত্বাধিকারি ইরিন জাহান এশা। ইরিন জাহান এশার পরিচিতি আছে সমাজের স্বাধীনতা প্রিয় নারীদের মাঝে যারা আমাদের সমাজে নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্কুটি কিংবা বাইক নিয়ে চলাচল করতে চান।
সফল নারী উদ্যোক্তা এশা জানিয়েছেন, এই সফলতার পেছনে রয়েছে শ্রম ও দুঃখ বেদনার অনেক কাব্য। ২০১০ সালে এশার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ নয় বছর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম পিতাও শয্যাশায়ী হয়ে যান। পরিবারের দায়িত্ব পড়ে এশা এবং এশার বড় ভাই শেখ মোঃ খালিদ হাসানের উপর। ৯ বছর শয্যাশায়ী থাকার পর বাবাকেও হারান এশা। সবকিছু চিন্তা করেই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত চিন্তাধারা ও আগ্রহ থেকেই এই উদ্যোগ। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে তার এই ‘লেডি বাইকার ট্রেনিং সেন্টার’ সংগ্রামের যাত্রা সূচনা। 
“লেডি বাইকার ট্রেনিং সেন্টার” প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে এশা জানান, প্রথমে বান্ধবীর স্কুটি নিয়েই শুরু করেছিলেন। প্রথম ব্যাচে মাত্র ৬ জন শিক্ষার্থী পান তিনি। এরপরেই মহামারী করোনার প্রভাবে থমকে দাঁড়াতে হয় তাকে। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। করোনার প্রাদুর্ভাব একটু স্বাভাবিক হলে নতুন উদ্যোমে আবার নামেন জীবন সংগ্রামে। এর ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। এখন ৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করছেন। তবে করোনার সময়ে সরকারি কোনো সহযোগিতা না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘করোনার সময়ে সরকারি সহযোগিতা পাইনি। আরো কিছু স্কুটির প্রয়োজন অনুভব হয় আমার প্রতিষ্ঠান বড় করার জন্য। তবে আর্থিক সহযোগিতা সরকারি ভাবে পাইনি।’
এশা জানান, প্রতিটি কাজে আমার মা এবং ভাই আমাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। সব সময় আমার পরিবার পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন। তাদের সহযোগিতায় আজ আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি। 
শৈশব থেকেই এশার ইচ্ছা ছিলো মেয়েদের জন্য এই সমাজে কিছু করবেন এবং সমাজের নারীদের অবহেলা, নারীদের সাথে হওয়া অন্যায় ও অপরাধ, সমাজেত বিভিন্ন অসঙ্গতিগুলো থেকে মানুষদের সঠিক পথে আনতে সহায়তা করবেন।
‘লেডি বাইকার ট্রেনিং সেন্টার’-এর পাশাপাশি তিনি সমান তালে চালিয়ে নিচ্ছেন বিভিন্ন সংগঠনও। তিনি খুলনা বিভাগে ‘সার্চ হিউম্যান রাইটস সোসাইটি বাংলাদেশ’ সংগঠনে সহকারী মহিলা ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক পদে কাজ করছেন। 
এছাড়াও তিনি, বল নিক্ষেপে জাতীয় দলে ৩বছর খেলোয়াড় ছিলেন। কুংফু-উশু খেলায় জাতীয় দলে ২ বছর খেলোয়াড় ছিলেন। বাংলাদেশ জুট মিল কর্পোরেশনে ৫ বছরের ভলিবল অভিজ্ঞতাসহ তার রয়েছে ২০১০ সালে আন্ডার সিক্সটিন ফিমেইল ক্রিকেট দলে খেলেছেন। 
সফল নারী উদ্যোক্তা এশা বলেন, জীবনে অনেক রকম বাধার সম্মুখীন হয়েছি তাই আমি কিছু করতে চাই। মেয়েদের মেয়ে মানুষ নয় মানুষ হিসেবে দেখুন। আমি সমাজের অবহেলিত মানুষ বিশেষ করে নারীরা যারা আমাদের সমাজে অনেক ক্ষেত্রে অসহায় তাদেরকে নিয়ে কাজ করতে চাই, তাদেরকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই। এ যুগের মেয়েদের প্রত্যেকেরই শেখা উচিত আত্মরক্ষার প্রশিক্ষণ। অবাধ এবং নিরাপদ চলাফেরার জন্য, বাই-সাইকেল, স্কুটি অথবা কার প্রশিক্ষণ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী। বাংলাদেশের পরিবহন ব্যবস্থা এতই নিম্নমানের আর এতটাই অপ্রতুল যে প্রতিটি নারীর জন্য গণপরিবহনে চলাচল করা ভীষণ ভীতিকর আর আতঙ্কের একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা মেয়েরা আর গুটিয়ে থাকবো না ভয় পেয়ে। ভয় কে আমরা জয় করতে শিখবো ইনশাআল­াহ।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:৩১











ব্রেকিং নিউজ








মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

মাদক মামলায় এক আসামির ৮ বছরের কারাদণ্ড

২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:৩১