খুলনা | বুধবার | ০৩ মার্চ ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

নিজের আগ্রহ ছাড়াও স্বামীর অনুপ্রেরণায়, শ্বশুর শাশুড়ির সহযোগিতায় আত্মনির্ভরশীল রিতু

সুরাইয়া ইসলাম মীম  | প্রকাশিত ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:০১:০০

বন্ধু হোক বা সহকর্মী, প্রিয়জন কিংবা পরিবারের সদস্য, গিফট দেওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়ে যান প্রায় সকলেই। কার কী পছন্দ, কাকে কী দেওয়া যাবে, তার উপরে রয়েছে বাজেটের ব্যাপারটাও। এসব সকল কিছু বিবেচনা করেই নাছরিন জাহান রীতু তার ক্রাফটিং ব্যবসা “মেহেদি এন্ড ক্রাফট বাই রীতু” শুরু করেন। 
২০১৬ সালে রীতুর বিয়ের পরবর্তী সময়েই ছিলো তার স্বামী তানভির হোসেনের জন্মদিন। স্বামী তানভিরের জন্য গিফট আইটেম-এর জন্য একটা ফেসবুক পেজে রীতু কিছু এক্সপ্লোরেশন বক্স দেখেন যা কাগজের তৈরি। দাম জানবার পর অনেক বেশী মনে হয়েছিল পণ্যের তুলনায়। তখন রীতু চিন্তা করলেন নিজেই ক্রাফটিং করার। সেখান থেকেই  “মেহেদি এন্ড ক্রাফট বাই রীতু”-এর যাত্রা শুরু। 
রীতু বলেন, আমি ফ্যাশন ডিজাইনের ছাত্রী ছিলাম সেহেতু ক্রাফটিং ও সৌখিন জিনিসের প্রতি আমার আলাদা একটা আগ্রহ প্রথম থেকেই ছিলো। এরপর শুরু হলো আমার ক্রাফটের যাবতীয় ইন্সট্রুমেন্ট খোঁজা, যেহেতু আমার ক্রাফটিং সম্পর্কে বাণিজ্যিক কোন আইডিয়া ছিল না তাই আমি প্রথমেই পারফেক্ট ম্যাটেরিয়াল খুঁজে পেলাম না। তবে যা পেয়েছিলাম তাই দিয়েই আমি শুরু করি। এক্সপ্লোরেশন বক্স বানিয়ে দেই আমার স্বামীর জন্মদিনে, যেটা আমার প্রথম কাজ হিসাবে বেশ ভালো হয়েছিলো, আর ওরকম ইউনিক একটা উপহার পেয়ে আমার স্বামী ও অনেক খুশি হয়েছিলেন। তখন থেকেই নিজের আগ্রহে, স্বামীর অনুপ্রেরণায় এবং আমার শ্বশুর শাশুড়ির সহযোগিতায় আজ আমি আত্মনির্ভরশীল হতে পেরেছি। 
রীতুর উদ্দেশ্যে ছিল সাধ্যের মধ্যে মানুষ তার প্রিয়জনের জন্য তার পছন্দের জিনিস টা যেন কিনতে পারে। রীতুর অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, খারাপ লেগেছে তখন যখন আমি এতো অল্প লাভ রেখে কাজ করেছি তখনো কিছু মানুষ ক্রাফটিং আইটেম এর সঠিক মূল্যায়ন করিনি। তবে এদের সংখ্যা অল্প, যারা আসলেই ক্রাফটিংয়ের মূল্য বোঝে তারা একবাক্যে অর্ডার করেছেন। খুলনার বাইরে থেকে আমাকে বিশ্বাস করে অর্ডার করেছেন, কাজ ও আমার উপর ভরসা রেখেছেন, এটাই আমার অনেক বড় পাওয়া।
রীতুর ক্রাফটিং উদ্যোগকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি কাজ করতে চান নিরলস ভাবেই। তিনি সানন্দে জানান, তিনি তার কাজের মধ্যে পরিচিত হতে চাই। সামনে তিনি আরো অনেক নতুন নতুন কাজ  করতে ইচ্ছুক ক্রাফটিং নিয়ে। ক্রাফটিং ছাড়াও তিনি বাণিজ্যিকভাবে একজন মেহেদি আর্টিস্ট। এছাড়াও তিনি একজন ফ্রিল্যান্সার, স্বামীর সাথে ফ্রিল্যান্সিং করেন তিনি।
রীতু বলেন, আমার কাছে সত্যি অনেক ভালো লাগে যে এখন সবকিছু কতো উন্নত হয়েছে, আমরা মেয়েরা এখন চাইলেই বাইরে না যেয়ে নিরাপদে ঘরে বসে কাজ করতে পারি সংসারের পাশাপাশি। নিজের উপার্জনের অল্প টাকাও যেন লাখ টাকার সমান। আর যখন সেই টাকায় নিজের মানুষদের বা নিজের জন্য কিছু করি তখন মনে হয় পৃথিবীর সব থেকে সুখী মানুষ আমি। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ