খুলনা | শুক্রবার | ০৭ মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

সমালোচনা-নিন্দায় পাত্তা না দিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা লোভার

সুরাইয়া ইসলাম মীম  | প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:০০:০০

সারা বিশ্বে অত্যন্ত জনপ্রিয় চকলেট। আর লোভনীয় এই চকলেট যদি বাড়িতেই বানিয়ে নেওয়া যায় তাহলে তো আর কথাই নেই। শখ এবং আর্থিক প্রয়োজন দুইটার সংমিশ্রণে লোভা ইসলাম আজ উদ্যোক্তা। তিনি তার প্রতিষ্ঠান “মেলো টিরিট বাই লোভা”-এর মাধ্যমেই স্বপ্ন দেখেন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার। 
মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে লোভা ইসলামের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন তার বাবা। করোনার মহামারিতে বিপর্যস্ত বাংলাদেশে যখন অজানা শঙ্কা ভর করেছিল তখন লোভার পরিবারের দৈনন্দিন জীবন যাপন নির্বিঘ্ন করতে তিনি একটি চাকুরি শুরু করেন। কিন্তু নয়টা থেকে পাঁচটা অফিস করলেও পরিশ্রমের তুলনায় আয় নগণ্য ছিল তার। কিছুদিন চাকুরি করার পর দুর্ঘটনায় চাকুরি হারিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন স্বাধীনভাবে উপার্জন করবেন।
লোভা বলেন, চকলেট বানানো শিখেছিলাম ইন্টারনেট থেকেই। এই কাজ টা বাসায় বসে বসে অনুশীলন করতাম, প্রথম প্রথম অনেক নষ্ট করেছি। পুনরায় আবার চেষ্টা করেছি নতুন করে। চকোলেট তৈরি করে পরিবার, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধুদের দিতাম। হঠাৎ মনে হলো এই চকলেট ঘরে বসেই বাণিজ্যিক প্লাটফর্মে শুরু করে দেখি। পনের দিন চাকুরির ২৮৩৪ টাকা বেতন আর দাদীর দেওয়া ১০০০ টাকা দিয়ে সূচনা হয় মেলো টিরিট বাই লোভা-এর যাত্রা। হোয়াইট চকলেট, মিল্ক চকলেট, ডার্ক চকলেট ও বাটারস্কচ দিয়েই শুরু করি সাহসের সাথেই।
আজকের এই উদ্যোক্তা হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন তার মা-বাবা এবং পরিবারের অন্য সদস্যবৃন্দ। সব সময় তাকে সাহস জুগিয়েছেন তার মা। তবে অনুপ্রেরণা পেয়েছেন খুলনার অনলাইন প্লাটফর্মের তরুণ উদ্যোক্তাদের দেখে। যাদের মধ্যে অন্যতম নিথিলা শামস এবং রাইসা। এছাড়াও অনেক বেশি সহযোগিতা পেয়েছেন তার বন্ধু-বান্ধবদের থেকে অনলাইন প্লাটফর্মে।
লোভা বলেন, আমি মানসিক ভাবে বিচলিত হয়ে উঠি প্রথম দিকে তবে আত্মবিশ্বাস ছিল এই প্লাটফর্মে। মেলো টিরিট বাই লোভা-এর যাত্রাপথে কখনো কোন বিষয়ে হাল ছেড়ে দিইনি। এই একটা গুণের জন্যই হয়তো আমি আজ এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। 
বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের সমালোচনা করেছেন আত্মীয় স্বজন ও কাছের অনেক বন্ধু-বান্ধব। কিন্তু সমালোচনা-নিন্দায় পাত্তা না দিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর চেষ্টা করতে থাকেন তিনি। 
লোভা জানান, প্রথম মাসেই তিনি ৭০টির বেশি চকলেট ডেলিভারি দিয়েছেন। এই ব্যবসায়ে বেশি সাফল্য পেয়েছেন ভোক্তাদের বিভিন্ন ফুড রিভিউ পেজে পজেটিভ রিভিউ দেওয়ার জন্য। তার সব থেকে বড় অর্জন হলো তার বাবা মায়ের সন্তুষ্টি।  বাংলাদেশের চকলেট নিয়ে একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে এই দেশের মানুষের চিন্তা ভাবনায়। অনেকেই স্বাদ এবং খাদ্যমাণ নিয়ে সন্দিহান থাকেন। এই ভ্রান্ত ধারণা বদলে দিতে চান তিনি।
লোভার স্বপ্ন,  ভবিষ্যতে চকলেটের কারখানা দিবেন। বাংলাদেশের মানুষ দেশীয় চকলেট কে বাইরের চকলেট এর থেকেও বেশি প্রাধান্য দিবে। এজন্য হাল ছাড়া যাবে না। আজ না হয় কাল আমাদের দেশের উন্নতি আরো বৃদ্ধি পাবে আমাদের দেশের উদ্যোক্তাদের হাত ধরে। আর নিন্দুকদের কথা বর্জন করতে হবে, কারণ নিন্দুকদের কথা একদিন হারিয়ে যাবে সফলতার ভীড়ে, থেকে যাবে কাজ আর অর্জন এবং দিন শেষে এই অর্জনই একজন মানুষের আত্মপরিচয়।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ