খুলনা | শুক্রবার | ০৭ মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

স্থানীয় তরুণদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

ভার্স্যুয়াল আসক্তি থেকে বইমুখী করতে সুন্দরবনের পাশে লঞ্চঘাট পাঠাগারে

মোঃ আনিসুজ্জামান, কয়রা | প্রকাশিত ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ১৫:৫৩:০০

লঞ্চ আসে শত কিলোমিটার দুর থেকে; কখনো মাঝরাত, তো কখনো বৃষ্টিভেজা বিকেল। এক পাশে নয়নাভিরাম সুন্দরবন, অপরদিকে লোকালয়- এমনি মনোমুগ্ধকর পরিবেশের লঞ্চঘাটে প্রিয় সব লেখকের বইয়ের সমাহার। সে এক অনন্য মাত্রা যোগ হয়েছে এলাকাটিতে। লঞ্চের যাত্রীসাধারণ ছাড়াও এলাকাবাসীর বৈকালিক ভ্রমণ ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পাঠাগার স্থাপনের এ ব্যাতিক্রম ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্থানীয় যুবকরা। বিভাগীয় সদর খুলনার সর্বদক্ষিণে কয়রা উপজেলার সুন্দরবনঘেঁষা কাটকাটা লঞ্চঘাটে স্বউদ্যোগে এমনি লাইব্রেরি স্থাপন করেছে তরুণরা। আজ শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ‘লঞ্চঘাট গণপাঠাগার’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

সুন্দরবনের পাশে শাকবাড়িয়া নদীর তীরে কাটকাটা লঞ্চঘাটে পাঠাগার নির্মাণের এ মহতি উদ্যোগটি ইতিমধ্যেই এলাকার সর্বসাধারনের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ উদ্যোগ গ্রহন করার মধ্যদিয়ে অবসরে সুন্দরবনের পাশে বেড়াতে আসা ও স্থানীয় মানুষদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করার পাশাপাশি স্থানীয় তরুণদের অতিমাত্রায় ফেসবুক, টিকটক ও ইউটিবের ভার্স্যুয়াল আসক্তি থেকে বিরত রাখবে বলে সর্বসাধারনের বিশ্বাস। 

কয়রা উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। এর একপাশে সুন্দরবন, অপর পাশে লোকালয়। নদী তীরে কাটাকাটা লঞ্চঘাটের পল্টুন। বেড়িবাঁধ হতে পল্টুন পর্যন্ত পাকা রাস্তা ও কাঠের তৈরী পথ। প্রতিদিন এখানে শতাধিক ভ্রমন বিলাসী মানুষ অবসর সময় কাটাতে এসে প্রায় ২/৩ ঘন্টা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের কথা ভেবেই এলাকার শেখ হুমায়ূন কবীর নামে এক স্কুল শিক্ষক এ উদ্যোগ গ্রহন করেন। স্থানীয় শুভাকাঙ্খী ও বন্ধু-বন্ধবদের সহযোগিতায় তিনি নির্মান করেছেন ‘লঞ্চঘাট পাঠাগার’ নামে এক গণপাঠাগার।

লঞ্চঘাট পাঠাগারের উদ্যোক্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রতিদিন এখানে শতাধিক মানুষ অবসর সময় কাটাতে এসে বেশ কিছু সময় মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকে। বিষয়টি লক্ষ্য করে আমি এ উদ্যোগ গ্রহন করি। এ পাঠাগারের মাধ্যমে অবসর সময় কাটাতে আসা মানুষ, স্থানীয়রা সহ লঞ্চের জন্য অপেক্ষমান যাত্রীরা বই পড়ে সময় কাটাতে পারবে, তাদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ সৃষ্টি হবে।

তিনি আরও বলেন, এব্যাপারে আমাকে উৎসাহ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস। এছাড়া সার্বক্ষনিক পাশে থেকে আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন শুভাকাঙ্খী মনজুর এলাহী বিদ্যুৎ, হুমায়ূন বিশ্বাস, ইদ্রিস, গনেশ, রিপন, উজ্জ্বলসহ স্থানীয় সবৃস্তরের মানুষেরা।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সরদার নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি শিক্ষক হুমায়ূন বিশ্বাসের পরিচালনা করেন। কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ পাঠাগার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনকালে তিনি পাঠাগারের বই কেনার জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহযোগিতা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কয়রা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা শফিকুল ইসলাম, আইসিডির সভাপতি মোঃ আশিকুজ্জামান, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান গনেশ মণ্ডল, প্রভাষক মোঃ ইদ্রিস আলী, মানবকল্যান ইউনিটের সভাপতি আল-আমিন ফরহাদ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হুমায়ূন কবীর মধু, সরদার মাহবুবুর রহমান, শিক্ষক মনজুর এলাহী বিদ্যুৎ, রিপন শেখ ও উজ্জ্বল মুণ্ডা প্রমুখ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ