খুলনা | বুধবার | ০৩ মার্চ ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

‘অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করে লাভের মুখ দেখতে খুব বেশি সময় লাগেনি ফাতেমার’

সুরাইয়া ইসলাম মীম  | প্রকাশিত ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:০০:০০

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নেই পড়াশোনার অতিরিক্ত চাপ। হাতে অজস্র সময়। এই সময়কে কাজে লাগিয়ে শখের বশে ‘হোমমেইড ফুড খুলনা’ নামে একটি অনলাইন ব্যবসা পরিচালনা করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন ফাতেমা তুজ জোহরা। তিনি পড়ালেখা করছেন খাদ্য ও পুষ্টি নিয়ে। করোনার কারণে ঘরবন্দি সময়ে শুয়ে বসে থেকে তিনি তিক্ত হয়ে উঠেছিলেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য লকডাউনের শুরুর দিকে বাবার কাছ থেকে সাড়ে নয় হাজার টাকা দিয়ে শুরু করেন তার স্বপ্নের ‘হোমমেইড ফুড খুলনা’।
ফাতেমা নিজেই খাদ্যপ্রেমিক। নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য বিভিন্ন খাবার রান্না করতেন। সেভাবেই কেক বানানোও শুরু। শখের বশে নিজের ফেসবুক আইডিতে কেকের ছবি আপলোড করতেন। সঙ্গে সঙ্গেই তার কয়েকজন বন্ধু তার কাছ থেকে কেক বানিয়ে নেওয়ার বায়না ধরেন। মূলত, তাদের আবদার পূরণের মাধ্যমেই ফাতেমা হয়ে ওঠেন একজন উদ্যোক্তা। ‘হোমমেইড ফুড খুলনা’-এর পথচলা শুরু হয় ফাতেমার হাত ধরে। 
অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা ফাতেমার লাভের মুখ দেখতে খুব বেশি সময় লাগেনি। বিগত বছরের ফেব্র“য়ারিতে যাত্রা শুরু করার পর থেকেই টানা অর্ডার পেতে থাকেন। প্রথমদিকে ফাতেমার কাজ ঠিকমতো হতোনা। প্রচুর কেক বানাতে গিয়ে নষ্ট করেছেন ফাতেমা। তবুও চেষ্টা করে গেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের আগ্রহ না থাকলে ফাতেমার জন্য এত দূর এগিয়ে আসা সম্ভব ছিলনা। তার এগিয়ে যাওয়ার পথে পরিবারই ছিলো সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
ফাতেমা তার ব্যবসায়িক কাজের প্রচার-প্রচারণার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করেন। ফেসবুকে ‘হোমমেইড ফুড খুলনা’ নামে একটি পেজ খুলে অনলাইনে অর্ডার গ্রহণ করেন। প্রথমে জার কেক দিয়ে শুরু করে ফাতেমা ভাল রেসপন্স পেয়েছিল। খুব অল্প সময়েই ফাতেমার কেক বেশ পরিচিতি হয়ে ওঠে। 
বাংলাদেশের উদ্যমী নারীদের অনলাইন প্লাটফর্মগুলো থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখা ফাতেমা তার ব্যবসার শুরু থেকেই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করে আসছেন।
উদ্যোক্তা হিসেবে সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়া ফাতেমা জানান, ‘করোনাকালে ঘরবন্দী সময়টা শুয়ে-বসে কাটাতে চাইনি। কিছু একটা করতে চেয়েছিলাম। একদিন শখের বশে নিজের জন্য কেক  বানায়। কখনো ভাবিনি বাণিজ্যিকভাবে শুরু করব। পরে ব্যাপক সাড়া পাওয়ায় এই কাজটাকেই বেছে নেই। ধীরে ধীরে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যের দেখা পাই।’
খুলনার এই নারী উদ্যোক্তা আরো জানান, প্রথমদিকে ব্যবসা নিয়ে আমার সুদূর প্রসারী চিন্তা ভাবনা ছিলো না। কিন্তু, এখন পড়াশোনার সাথে সাথে আমার ব্যবসাটাকেও বড় করার চেষ্টা আছে। আমি এখন আমার পরিবারের আবদারগুলো পূরণ করতে পারি। সত্যি বলতে শিক্ষাজীবনেই উপার্জন করাটা আমার কাছে অনেক বড় একটা প্রাপ্তি।
অল্প কিছুদিনের পথচলায় সাফল্য পাওয়া শিক্ষার্থী ফাতেমা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চান। জীবন চলার পথে একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চান। 
ফাতেমা জানান, সেই লক্ষে তিনি পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। অদূর ভবিষ্যতে নিজস্ব কারখানা ও শো-রুম প্রতিষ্ঠা করতে চান। সেই সাথে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করতে চান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ