খুলনা | বৃহস্পতিবার | ০৪ মার্চ ২০২১ | ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ |

Shomoyer Khobor

খুলনা বিএনপিতে ঐক্যের সুবাতাস

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১ ০০:০৪:০০

দীর্ঘদিনের বৈরিতা হটিয়ে ঐক্যের সুবাতাস বইছে খুলনা বিএনপিতে। মহানগর ও জেলা বিএনপি’র শীর্ষ নেতারা বসছেন এক টেবিলে। আগামীকাল রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় নগরীর কে.ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে একান্তে বসছেন উভয় গ্রুপের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বৈঠকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তায় মনোবল চাঙ্গা করতে চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা। একাধিক নেতার সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম প্রথমে বিএনপির অপরাংশের শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুল হাসান বাপ্পী ও আজিজুল হাসান দুলুর সাথে ফোনালাপে কুশল বিনিময়ের পর মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর বৈঠকের আহবান জানান। তার কিছুক্ষণ পর নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনিও তাদের সাথে অনুরুপ আহবান জানান। এতে সাড়াও দিয়েছেন শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুল হাসান বাপ্পী ও আজিজুল হাসান দুলু।

ফলে রবিবার দুপুর আড়াইটায় নগরীর দলীয় কার্যালয়ে মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, জেলার সম্পাদক আমীর এজাজ খান, নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম এবং অপরাংশে নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল হাসান বাপ্পী, যুব বিষয়ক সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল হাসান দুলু উপস্থিত থাকবেন। দলের আরেকটি সূত্র জানিয়েছেন, এ বৈঠকে অঙ্গ সংগঠনের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকও উপস্থিত রাখা হতে পারে। তবে নেতাকর্মীদের প্রবেশাধিকার থাকবে না বলে জানিয়েছেন একাধিক নেতা।

তৃণমুল নেতাকর্মীরা বলছেন, সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে যেনো উভয়পক্ষই ঐক্যমতে পৌঁছান। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ঐক্যবদ্ধ দৃঢ়তায় মনোবল চাঙ্গা করতে চায় তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

নগর বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল হাসান দুলু বলেছেন, নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম এবং পরে সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি ফোন করে আমাদের ডেকেছেন। তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে বৈঠকে উপস্থিত হতে আহবান জানিয়েছেন। আশা করছি, ফলপ্রসূ আলোচনার মধ্যদিয়ে খুলনা বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হবে।

তবে এ বিষয়ে কোন মন্তব্যই করতে চাননি জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. শফিকুল আলম মনা। তিনি বলেন, দলীয়ভাবে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে। দলের মধ্যে কোন গ্রুপিং নেই। সামান্য ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়তো ভাইয়ে-ভাইয়ের মধ্যে কিঞ্চিত দুরত্ব। আলোচনার মাধ্যমে নিশ্চিয়ই সব সমস্যার সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ্।

খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও গঠন করা সম্ভব হয়নি নতুন কমিটি। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নগর ও জেলা কমিটি ছাড়া তৃণমূল প্রায় নেতৃত্বশূণ্য। বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্বাচন, কয়েক দফা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়েও দলীয় কোন্দলসহ নানা কারণে শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি।

নগর বিএনপি : ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে মহানগর বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন হয়েছিল। ওই সম্মেলনে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে সভাপতি এবং মনিরুজ্জামান মনিকে সাধারণ সম্পাদক এবং ফকরুল আলমকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর ১৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ১৩ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা কমিটিও গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রথম দফা সম্মেলনের তারিখ ছিল ২০১৬ সালের ৫ মার্চ। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের কারণে সম্মেলন বন্ধ হয়ে যায়। ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর সম্মেলন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সম্মেলন নিয়ে দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিলে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে সম্মেলন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তীতে আন্দোলন সংগ্রাম, নির্বাচনসহ নানা কারণে সম্মেলন আর হয়নি। ২০০৯ সালের গঠিত নগর কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। প্রায় ১১ বছর পুরাতন এই কমিটির ১১ জন সদস্য মৃত্যুবরণ করেছেন। এছাড়া অনেকেই দল ত্যাগ ও বহিস্কার হয়েছেন। নিস্ক্রীয় রয়েছেন অনেকে। এদিকে নগর বিএনপির পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে ৫ থানা, ৩১টি ওয়ার্ড ও তিনটি ইউনিয়নের কমিটিও। এ অবস্থায় সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের পক্ষে দলের তৃণমূলের নেতারা।

জেলা বিএনপি : ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এসএম শফিকুল আলম মনাকে সভাপতি ও আমীর এজাজ খানকে সাধারণ সম্পাদক করে জেলা বিএনপির ২৯ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর খুলনা জেলা বিএনপির ১৮১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্র। এছাড়া ৩৮ সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে ৭টির আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। ২টি পৌরসভার আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। আর তেরখাদা ও রূপসায় ৫ সদস্য বিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ২০০৯ সালে নগর বিএনপির কমিটির পর কয়েক দফা সম্মেলনের উদ্যোগ নিয়েও করা সম্ভব হয়নি। ২০১৬ সালে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড ও তিনটি ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছিল। তবে থানা কমিটি গঠন করা সম্ভব হয়নি। গত ১১ বছর খুলনায় বিএনপি আন্দোলনমুখী অবস্থানে ছিল। বিগত দু’টি নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি কঠোরভাবে পালন করেছে।

তিনি আরো বলেন, খুলনার মাটিতে বিএনপি সবসময়ই শক্ত অবস্থানে ছিল, এখনো রয়েছে। বিভাগীয় সমাবেশ, আন্দোলন সংগ্রামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় সকল কর্মসূচিতে নেতা-কর্মীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে অংশ নিয়ে কর্মসূচি সফল করেছে। যে কারণে হামলা, মামলা, অত্যাচারের কারণে নেতাকর্মীদের ঘর-বাড়ী ছেড়ে বাহিরে বাহিরে অবস্থান করতে হয়েছে। তবুও তাদের মনোবল চাঙ্গা রয়েছে। দলকে নতুনভাবে সাঁজাতে হবে। সেই আলোকেই আন্দোলন সংগ্রামে যারা সাহসী ভূমিকা রেখেছে, জেল খেটেছে, নিপীড়িত হয়েছে সেইসব ত্যাগী, সাহসী ও তরুণদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে করোনা মহামারীর কারণে সারাদেশে বিএনপির পূনর্গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অচিরেই ভবিষ্যতের জন্য আন্দোলনমুখী একটি ঐক্যবদ্ধ কমিটি গঠন করা হবে-ইনশাআল্লাহ।

 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ







ফসলের সাথে এ কেমন শত্রুতা

ফসলের সাথে এ কেমন শত্রুতা

০৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০