খুলনা | শনিবার | ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

চাপ কমবে আবু নাসের হাসপাতালে কিডনি ডায়ালসিসে

খুমেক হাসপাতালে ৫০টি ডায়ালসিস মেশিনসহ বৃহৎ পরিসরে চালু হচ্ছে নেফ্রোলজি বিভাগ 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০:০০

অত্যাধুনিক ৫০টি ডায়ালসিস মেশিন নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৃহৎ পরিসরে চালু হচ্ছে নেফ্রোলজি (কিডনি) বিভাগ। এতে খুলনার মানুষের দীর্ঘদিনের আশা আকাক্সক্ষা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সকল সরঞ্জাম সঠিকভাবে বুঝে নিয়ে সঠিকভাবে মানুষের সেবা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। এদিকে আবু নাসের হাসপাতালের অকেজো ডায়ালসিস মেশিনগুলো মেরামত করে সেখানকার সেবার মান বৃদ্ধিরও দাবি জানানো হয়। 
জানা গেছে, কিডনি সম্পূর্ণভাবে অকেজো হওয়ার পর শরীরের ভেতরে জমে থাকা বর্জ্য (ইউরিয়া, ক্রিয়েটিমিন, পটাশিয়াম) পরিশোধিত করার নাম ডায়ালাইসিস। ডায়ালাইসিস সাধারণত দুই প্রকারের হয়। পেটের বা পেরিটোনিয়াল ডায়ালাইসিস এবং হেমোডায়ালাইসিস বা মেশিনের সাহায্যে রক্তকে পরিশোধিত করা। বর্তমানে দেশে হেমোডায়ালাইসিসের প্রচলন বেশি। খুলনায় ২০৫ শয্যা বিশিষ্ট শহিদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে কিডনি রোগীদের জন্য হেমোডায়ালাইসিস করা হলেও অধিকাংশ মেশিন বছরের বেশিরভাগ সময় নষ্ট থাকায় কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ রোগীরা।  বেসরকারি পর্যায়ে কিডনি রোগের এ চিকিৎসা খরচ আকাশচুম্বী। 
এমন বাস্তবতায় এবার খুমেক হাসপাতালে বৃহৎ পরিসরে শুরু হতে যাচ্ছে নেফ্রোলজি বিভাগ। ইতোমধ্যে জাতীয় কিডনি ইনস্টিটিউট সরকারি ভাবে ৫০টি ডায়ালসিস মেশিন পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। খুমেক হাসপাতালে ইতোমধ্যে চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। এসব মেশিন স্থাপন করে প্রয়োজনীয় জনবল সংযুক্ত করে শিগ্রই নেফ্রোলজি বিভাগ চালু করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নতুন পদায়ন করা নেফ্রোলজি বিভাগের চিকিৎসকদের জরুরি বৈঠকে অতি দ্রুত নেফ্রোলজি বিভাগ চালুর মাধ্যমে কিডনি রোগীদের সেবা চালু করার প্রতিশ্র“তি দেয়া হয়।
এদিকে শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের কিডনি রোগীদের জন্য ডায়ালাইসিস মেশিন ৩৯টির মধ্যে ৯টি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। বাকি ৩০টির মধ্যে প্রায় নষ্ট হয়ে পরে থাকে একাধিক মেশিন। তারপরও প্রতিদিন প্রায় ৯০ জনের ডায়ালসিস দেয়া হয় এই বিশেষায়িত হাসপাতালে। প্রতিদিন তিন শিফটে এই ডায়ালসিস দেয়া হয়। সকাল এবং দুপুরে বাড়ি থেকে আসা রোগীরা ডায়ালসিস দিয়ে বাড়ি চলে যায়। রাতের শিফটে ভর্তি রোগীদের ডায়ালসিস দেয়া হয়। সকল ডায়ালসিস রোগীদেও ভর্তি রেখে ডায়ালসিস দেয়ার নিয়ম থাকলেও বেড স্বল্পতার কারণে সব রোগীদের ভর্তি রাখা সম্ভব হচ্ছে না।  
শহিদ আবু নাসের হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ আরশাদ উল আজীম বলেন, যন্ত্রপাতি ও জনবলের সংকট থাকলেও সবাই খুব আন্তরিকতার সাথে কিডনি রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তারপরও চিকিৎসকও কর্মরতরা সাধ্যেও সের্বোচ্চ সেবা দিয়ে থাকেন। 
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, খুলনায় কিডনি রোগীদের অসহায়ত্ব দিন দিন বাড়ছে। খুলনায় মোট আক্রান্ত রোগীর খুব কম সংখ্যকই সরকারিভাবে কিডনি সেবার সুযোগ পাচ্ছে। খুমেক হাসপাতালে নবনির্মিত ভবনে বৃহৎ পরিসরে নেফ্রোলজি বিভাগ চালু করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাদের সাথে একাধিকবার বৈঠক করে বিভাগটির পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিগগিরই ৫০টি ডায়ালসিস মেশিন আসছে। আশাকরি দিনে অন্তত দেড়শ’ রোগীর ডায়ালসিস দেয়া সম্ভব হবে এই বিভাগ থেকে। এতে খুলনার মানুষের কিডনি চিকিৎসায় নতুন দার উন্মোচন হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাইকে হত্যা 

ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাইকে হত্যা 

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:০৭






করোনামুক্ত হলেন এমপি চুমকি

করোনামুক্ত হলেন এমপি চুমকি

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:১৫