খুলনা | শনিবার | ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের দু’টি চিঠি, কিছু প্রশ্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৩ মার্চ, ২০২১ ০০:৪০:০০

দু’টি চিঠি, কিছু প্রশ্ন কলম সৈনিকদের সামনে দাঁড় করানো হয়েছে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের গঠিত তদন্ত বোর্ডের সামনে উপস্থিত হতে সময়ের খবরের জুনিয়র প্রতিবেদককে দেয়া হয়েছে চিঠি। আর সম্পাদককে দেয়া পত্রে তাকে (প্রতিবেদক) হাজির করার বিষয়টি বলা হয়েছে। গত ২১ মার্চ এ পত্র দু’টি পাঠানো হয়েছে পত্রিকার অফিসে। খুমেক হাসপাতাল সংক্রান্ত চারটি আর বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের ওপর প্রকাশিত প্রতিবেদন-এর সরেজমিনে তদন্তের কথা বলা হয়েছে পত্রে। তবে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান প্রতিবেদককে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যেন বেশী ব্যস্ত বলে পত্রের ভাষায় প্রমাণিত হয়েছে। এ ধরনের চিঠি দেয়াকে সংবাদপত্রের বাক স্বাধীনতা খর্ব করার অপচেষ্টা বলেও মনে করছেন বিজ্ঞজনেরা। উলে­খ্য, প্রকাশিত প্রতিবেদন পাঁচটিতে খুমেক হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্যও রয়েছে।   
খুলনা বিভাগের পরিচালক (স্বাস্থ্য)-দপ্তর থেকে উপ-পরিচালক ও তদন্ত কমিটির সভাপতি ডাঃ শামীম আরা নাজনীন স্বাক্ষরে প্রেরিত (স্মারক নং-পস্বা/খুবি/শা-৫/তদন্ত/২০২১,তাং- ২১/০৩/২০২১) দু’টি পত্রে সূত্র উলে­খ করা হয়েছে, তা হচ্ছে (১. স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্মারক নং-স্বাঃ অধিঃ/শৃঙ্খলা-২৩১/২০২০/১০৫০, তারিখঃ ০১/০৩/২০২১খ্রিঃ ও ২. স্মারক নং-পস্বা/খুবি/শা-৫/২০২১/৪৫৮(৬), তারিখঃ ১৬/০৩২০২১)।
রামীম চৌধুরী সময়ের খবরের জুনিয়র প্রতিবেদক হওয়া সত্তে¡ও পত্রে তাকে শুধুমাত্র সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দেয়া হয়েছে। এ বিষয়টি কতটুকু সৌজন্য হয়েছে তাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।   
স্মারকে বলা হয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিষয়ে দৈনিক সময়ের খবর পত্রিকায় প্রকাশিত গত ২০২০ সালের ১৪ নভেম্বর “খুমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে অভিনব কায়দায় চড়া মূল্যে বিক্রি হচ্ছে রক্ত”, গত ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর “খুমেক হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের বেহাল দশা চিকিৎসক সংকট, ফাইলবন্দি প্রায় অর্ধশত রিপোর্ট”, গত ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর “খুমেক হাসপাতালে শয্যা ভোগান্তিতে রোগীরা, মেঝেতেও ভিড়”, গত ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর “খুমেক হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশে নেই কোন নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলার অবনতি: বাড়ছে স্বাস্থ্য ঝুঁকি” এবং গত ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর “বন্ধের নোটিশ পাওয়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চলছে নানা কার্যক্রম” অভিযোগ সমূহ সরেজমিনে তদন্তের নিমিত্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি আগামী ২৪/০৩/২০২১ তারিখ সকাল ১০টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনায় উপস্থিত থেকে তদন্তকার্যপরিচালনা করবেন। উক্ত তদন্তের সময় আপনাকে প্রকাশিত সংবাদ/অভিযোগের স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণসহ উপস্থিত তাকার জন্য অনুরোধ করা হলো। 
অন্যদিকে সময়ের খবরের সম্পাদক ও প্রকাশককে দেয়া অনুলিপিপত্রে সাংবাদিককে তদন্ত কমিটির সম্মুখে উপস্থিতির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেন আসামির কাঠগড়ায় সাংবাদিককে দাঁড় করাতে এ ধরনের অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে যে সকল প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে এ সংবাদগুলো প্রকাশিত হয়েছে তাদের উপস্থিতির কথা পত্রের কোথায়ও বলা হয়নি। 
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের এ ধরনের পত্র দেয়া কতটুকু যুক্তি সঙ্গত তা সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রকাশিত সব প্রতিবেদনে সকল তথ্য ও চিত্র থাকা সত্তে¡ও এ চিঠি দেয়া, প্রকাশিত সংবাদ/ অভিযোগের স্বপক্ষের তথ্য প্রমাণ চাওয়া কতটুকু যুক্তি সঙ্গত! তাছাড়া তদন্ত কমিটির সামনে উপস্থিত হওয়া বা তথ্য প্রমাণ সরবরাহ করা সংবাদপত্রের পরিপন্থি ও নীতিমালা বহির্ভূত। সাংবাদিকের কাজ সঠিক তথ্য ও চিত্র তুলে ধরা আর সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রকাশিত সংবাদের আলোকে তদন্ত করবে তদন্ত কমিটি। 
তদন্ত কমিটির প্রধান খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা। তারও জানা রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও বেসরকারি হাসপাতাল-ডায়াগস্টিক সংক্রান্ত বর্তমান হালচাল। তদন্তের নামে তবুও পত্র!

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ



ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাইকে হত্যা 

ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাইকে হত্যা 

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:০৭






করোনামুক্ত হলেন এমপি চুমকি

করোনামুক্ত হলেন এমপি চুমকি

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:১৫