খুলনা | শনিবার | ১৭ এপ্রিল ২০২১ | ৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

ডায়ালসিসের পর এবার গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্যাথলজি পরীক্ষা বন্ধ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২৬ মার্চ, ২০২১ ০০:৩৬:০০


ডায়ালসিসের পর এবার অতি গুরুত্বপূর্ণ ১০টি প্যাথলজি পরীক্ষা বন্ধ হলো শহিদ শেখ আবু নাসের হাসপাতালে। রি-এজেন্ট না থাকার কারণে পরীক্ষা বন্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। গত এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। প্যাথলজি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এমন পরিস্থিতিতে পড়েনি কখনো। বরং প্রতি বছর নতুন নতুন পরীক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
হাসপাতালের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা বলছেন, গত ১০ জানুয়ারি হাসপাতালটিতে নতুন পরিচালকের যোগদান করেছেন ডাঃ মুন্সী রেজা সেকেন্দার। এরপর গত এক সপ্তাহের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা বন্ধ হল। সময়মতো পরীক্ষার রি-এজেন্ট না কেনায় এখন বিপাকে পড়তে হয়েছে বলে প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে। 
প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ওই বিভাগের আওতায় মোট ৩৬ ধরনের পরীক্ষা করা হয়। তবে গত সপ্তাহ থেকে থাইরয়েড, ডায়বেটিকস, লিপিড প্রোফাইল, ক্যালসিয়াম, ইউরিক এসিড, কিডনিসহ আট ধরনের পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়। আর মাত্র দুই দিনের মতো রি-এজেন্ট রয়েছে সিরাম ক্রিয়েটিন ও উন্নত ডায়বেটিকস পরীক্ষার। বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে এসব পরীক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ওই প্যাথলজি বিভাগ থেকে প্রতিদিন ১৬০ থেকে ২০০ জনের মতো রোগীর পরীক্ষা করানো হয়। গড়ে প্রতিদিন ৪০ শতাংশ রোগীর থাইরয়েড, ৮০ শতাংশ রোগীর ডায়বেটিকস, ২০ শতাংশ রোগীর লিপিড প্রোফাইল ও ৯০ শতাংশ রোগীর সিরাম ক্রিয়েটিন পরীক্ষার চাহিদা থাকে। অন্যান্য পরীক্ষা হয় ৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে। 
ওই বিভাগের কর্মকর্তারা জানানা, যে কোনো বেসরকারি হাসপাতাল বা ডায়গনস্টিক সেন্টারের তুলনায় অত্যন্ত কম খরচে আবু নাসের হাসপাতালে প্যাথলজি পরীক্ষা করানো হয়। নির্ভুল ও নামমাত্র মূল্যে পরীক্ষা করানো হয় বলে গরীব রোগীরা ভিড় করেন সেখানে। কিন্তু কিছু কিছু পরীক্ষা কাযক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। 
গত ১ মার্চ রি-এজেন্টের চাহিদা দিয়ে পরিচালকের কাছে আবেদন করে প্যাথলজি বিভাগ। ওই আবেদনে তিন মাস আগে সরবরাহ করা রি-এজেন্টের মধ্যে মাত্র ১০ দিনের রি-এজেন্ট রয়েছে বলে উলে­খ করা হয়। প্যাথলজি বিভাগের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ২০২০-২১ অর্থ বছরের চাহিদা মোতাবেক রি-এজেন্ট সরবরাহ করার আবেদন জানানো হয়। পরবর্তীতে ৬ মার্চ ও ১০ মার্চ আরও দু’টি আবেদন করেও কোনো রি-এজেন্ট পায়নি বিভাগটি।
প্যাথলজি বিভাগের প্রধান সুকুমার সাহা বলেন, সবযন্ত্রই সচল রয়েছে। কিন্তু রি-এজেন্ট না থাকায় পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী রি-এজেন্ট ফুরিয়ে যাওয়ার ১০ দিন আগেই পরিচালকের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তা সরবরাহ না করায় আরও দুইবার আবেদন করা হয়। পরবর্তীতে রি-এজেন্ট না পাওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে কয়েকটি পরীক্ষা বন্ধ করতে হয়েছে। কেন রি-এজেন্ট সরবরাহ করা হয়নি তা তিনি বলতে পারেন না। তবে রি-এজেন্ট পেলে আবার ওই পরীক্ষাগুলো করানো শুরু হবে বলে জানান তিনি। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রি-এজেন্ট কেনার জন্য দরপত্র আহŸান করে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরিচালক তা বাতিল করে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছেন। সেখান থেকে অনুমোদিত হয়ে আসতে দেরি হওয়ার কারণে রি-এজেন্ট কিনতে দেরি হচ্ছে। কবে নাগাদ তা পাওয়া যাবে তা তাঁরা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
জানতে চাইলে শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের পরিচালক মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার বলেন, এটি একটি সরকারি হাসপাতাল। তাই কোনো কিছু কিনতে গেলে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এ কারণে দেরি হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে, খুব শিগগিরই রি-এজেন্ট পাওয়া যাবে। 
খুলনা বিএমএ সভাপতি ডাঃ শেখ বাহারুল আলম সময়ের খবরকে বলেন শহিদ শেখ আবু নাসের হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষায়িত হাসপাতাল। দূর দূরান্ত থেকে এখানে রোগীরা আসে বিশেষায়িত সেবা নেয়ার জন্য। কিন্তু এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়া মানে এর প্রভাব পুরো হাসপাতালের সেবা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে, যা অনাকাক্সিক্ষত। রি-এজেন্ট না থাকলে প্রয়োজনে মৌখিক অনুমোদন নিয়ে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কোন অবস্থায় সেবা বন্ধ করা সমিচীন নয়। এ ধরনের হটকারি ও অজ্ঞতাপূর্ণ সিদ্ধান্ত সমর্থন করে না খুলনা বিএমএ।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ


ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাইকে হত্যা 

ছুরিকাঘাতে ফুফাতো ভাইকে হত্যা 

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৭:০৭






করোনামুক্ত হলেন এমপি চুমকি

করোনামুক্ত হলেন এমপি চুমকি

১৭ এপ্রিল, ২০২১ ১৬:১৫