খুলনা | শুক্রবার | ০৭ মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বিপর্যয়ের শঙ্কা

ভারত থেকে অক্সিজেন আমদানি বন্ধ, ক্ষতির মুখে পড়বে খুলনা 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:৪৯:০০

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে করোনা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় দুই সপ্তাহের জন্য সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ফলে ভারতে অক্সিজেন এর তীব্র সংকটের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অক্সিজেন রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি। একদিকে করোনা পরিস্থিতির কারণে অক্সিজেনের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে আমদানি বদ্ধ হওয়ায় দেশে অক্সিজেনের সংকট আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এই সংকটে সব থেকে ক্ষতির মুখে পড়বে খুলনার হাসপাতালগুলো। সমস্যা সমাধান না হলে খুলনাসহ আশেপাশে এলাকায় করোনা রোগীদের চিকিৎসায় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে সংশ্লিষ্টরা। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, খুলনায় করোনা চিকিৎসার একমাত্র সরকারি প্রতিষ্ঠান খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ছোট সিলিন্ডার ১৮০টি (১২ লিটার) এবং বড় সিলিন্ডার ৮টি (৮৭ লিটার) রিফিল করা হয়। এছাড়া একটি অক্সিজেন প্লান্ট দিয়ে মেডিসিন ও পুরাতন আইসিইউসহ রেড জোনে সেন্ট্রাল লাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। খুমেক হাসপাতাল এই সিলিন্ডারগুলো রিফিল করা হয় সরকার নির্ধারিত স্পেক্ট্রা লিমিটেড-এর মাধ্যমে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় সরকার নির্ধারিত অন্যতম অক্সিজেন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান স্পেক্ট্রা লিমিটেড সারাদেশে প্রতিদিন ৩৮ টন অক্সিজেন সরবরাহ করে। এর মধ্যে ২০টন নিজেরা উৎপাদন করে এবং বাকি ১৮ টন ভারত থেকে আমদানি করে, যা হঠাৎ করে বন্ধ রয়েছে। ভারত থেকে আমদানি করা ১৮ টন লিকুইড অক্সিজেন যশোরে প্রক্রিয়াজাত করে সিলিন্ডারের মাধ্যমে খুলনাসহ আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে পাঠায় প্রতিষ্ঠানটি কিন্তু বর্তমানে এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। শিগগিরই আমদানি পুনরায় চালু না হলে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুমেক হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেনের জন্য ভিআই ট্যাঙ্ক স্থাপন করা হয়নি। হাসপাতালে যে লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট রয়েছে তাতে একসঙ্গে ৩৬ জনকে সেবা দেওয়া যায়। লিকুইড প্লান্টের সক্ষমতা দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয় আরও আট মাস আগে। সেটা এখনও হয়নি। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্থাপিত করোনা আইসোলেশন সেন্টার থেকে লিকুইড অক্সিজেন প্লান্ট দেয়া হলেও তা প্রতিস্থাপনে কোন উদ্যোগ নেয়নি সরকার বা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক মাস ধরে প্লান্ট-এর সামগ্রী পড়ে আছে খোলা আকাশের নীচে। আর এতে সামনে চরম মুহূর্তে খুলনার মানুষ অক্সিজেনের অভাব থেকে বেঁচে থাকতে এখনই এই অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের কোন বিকল্প নেই বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। 
খুলনার করোনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সমন্বয়কারী এবং খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডাঃ মোঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভায় আমাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরেছি। ওই বৈঠকেই সিটি মেয়রকে দিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও দপ্তরগুলোতে ফোন করানো হয়েছে। খুব দ্রুত অক্সিজেনের জন্য ভিআই ট্যাঙ্ক স্থাপন এবং লিকুইড প্লান্টের সক্ষমতা বাড়বে। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ