খুলনা | শুক্রবার | ০৭ মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

Shomoyer Khobor

একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও উদ্যোগ নেই গণপূর্ত বিভাগের 

শহিদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে জরাজীর্ণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রুম, দুর্ঘটনা ঘটলে প্রাণহানীর শঙ্কা

রামিম চৌধুরী | প্রকাশিত ২৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:২৭:০০

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থসেবা কেন্দ্র শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল। উন্নত চিকিৎসার প্রত্যাশায় খুলনা বিভাগসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন সাধারণ মানুষ। এ হাসপাতালের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা ডায়ালাইসিস ইউনিট। যেখানে কিডনি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। ঐ ইউনিটে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ডায়ালাইসিসের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রুম। রুমটি মেরামত না করলে যে-কোন মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার সাথে প্রাণহানী আশঙ্কা করছেন হাসপাতালটির পরিচালক। এদিকে গণপূর্ত বিভাগকে বেশ কয়েকবার চিঠি চালাচালি হলেও মিলছে না এর কোন প্রতিকার। 
হাসপাতালের নেফ্রোলজি ইউনিটে গেলেই চোখে পড়ে ডায়ালাইসিস ইউনিটের ওয়াটার প্লান্ট রুমের বেহাল অবস্থার দৃশ্য। উপরের ছিদ্রযুক্ত টিন আর নিচে মেশিনের গাদাগাদিতে বন্ধ হওয়ার উপক্রম রুমের প্রবেশ দ্বার। এর সাথে আবার খসে পড়ছে প্লান্ট রুমের পলেস্তার পাশাপাশি রুমের উপরের টিন নষ্ট হওয়ার কারনে যে কোন সময় হাল্কা বৃষ্টি হলেই উচ্চগতি সম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইনগুলোতে প্রবেশ করতে পারে পানি। এতে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। এই রুমের পাশেই থাকেন ডায়ালাইসিস ইউনিটের প্রায় ৩০ জন রোগী। তার সাথে আবার রয়েছেন ঐ ওয়ার্ডে কর্মরত হাসপাতালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ওয়াটার প্লান্ট রুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলে প্রায় অর্ধশত প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 
আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আমিরুল ইসলাম সময়ের খবরকে বলেন, ওয়াটার প্লান্ট রুমের উপরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে এবং পলেস্তার খসে পড়ছে। ফলে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক লাইন ঝুলে আছে। গত ২২ তারিখে সর্ট সার্কিটের কারনে ওয়াটার পাম্প পুড়ে যায়। বড় ধরনের দুর্ঘটনা যে কোন সময় ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। তবে বেশ কয়েকবার চিঠি দেওয়ার পরে গত ২৭ তারিখে হাসপাতাল পরিদর্শন করে সব ঠিক করার আশ্বাস দিলেও কোন কাজ এখনও শুরু হয়নি বলে জানান তিনি। 
হাসপাতালটির পরিচালক মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার সময়ের খবরকে বলেন, হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের ডায়ালাইসিস ইউনিটটি খুবই দুরাবস্থার মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট রুমের অবস্থা খুবই খারাপ। রুমটির উপরে লাগানো টিন ছিদ্র হওয়ার কারনে ভেতরে বিভিন্ন ভাবে পানি ঢুকছে। কিছুদিন আগে ২টি ওয়াটার পাম্প একসাথে নষ্ট হয়েছিলো। আমরা তাৎক্ষণিক ঠিক করিয়ে চালু করানো হয়েছে। যে কোন সময় ভিতরে বৈদ্যুতিক লাইনে সর্টসার্কিটে আগুন লেগে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এতে সেখানে থাকা রোগী সহ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গুরুতর আহত হতে পারে বলে জানান তিনি। 
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের সকল সংস্কার ও নির্মাণ কাজের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। তাদের কাছে বেশ কয়েকবার আমরা চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোন প্রকার ফল আমরা এখনও পাইনি। তাই গণপূর্ত বিভাগের কাছে খুব দ্রুত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহবান জানান পরিচালক মুন্সি মোঃ রেজা সেকেন্দার। 
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। 
তবে হাসপাতালেই পাওয়া যায় খুলনা গণপূর্ত বিভাগ-১ এর কার্য-সহকারী (অতিরিক্ত) মোঃ মাছুদুর রহমানকে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমরা কিছু দিন আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়েছি। আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিদর্শনও করেছেন। আগামী শনি-রবিবারের মধ্যেই ওয়াটার প্লান্ট রুম সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ