খুলনা | শুক্রবার | ০৭ মে ২০২১ | ২৪ বৈশাখ ১৪২৮ |

তেরখাদায় সারিসারি পাঁচটি মরদেহ দাফন, জানাজায় সর্বস্তরের শোকাহত মানুষের ঢল

রাসেল আহমেদ, তেরখাদা | প্রকাশিত ০৪ মে, ২০২১ ১০:৩০:০০

খুলনার তেরখাদা সদর ইউনিয়নের পারোখালী গ্রামের একটি বাড়ীতে সারিসারি পাঁচটি মরদেহ দাফন, এটা প্রথম। তাই শোকাহত সবাই। আজ মঙ্গলবার (০৪ মে) সকাল ৯টায় পারোখালী ফাঁকা মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মনির শিকদার, তার স্ত্রী হেনা বেগম ও তাদের দুই কণ্যা শিশু সুমী ও রুমীর। পরে মনির শিকদারের মা লাইলী বেগমের কবরের পাশেই তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালেই লাইলী বেগমকে দাফন করা হয়েছে। আর মা লাইলী বেগমকে এক নজর দেখার জন্য ঢাকার মিরপুর থেকে সপরিবারে রওনা দিয়েছিলেন মনির শিকদার; গতকাল ভোরে পদ্মায় স্প্রিডবোট দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন মনির দম্পিতসহ তাদের দুই শিশু কণ্যা। জীবিত ফিরেছে তাদের বড় মেয়ে মীম। এমন শোকাবহ পরিস্থিতিতে জানাজায় তেরখাদা উপজেলার সীমানা ছাড়িয়ে সর্বস্তরের শোকাহত মানুষের ছিল ঢল। জানাজার নামাজ শেষের সাথে সাথে গুড়িগুড়ি বৃষ্টিপাত যেনো জানান দিল-প্রকৃতিও শোকাহত! তারপর দাফন সম্পন্ন হল; একই পরিবারের সারিসারি পাঁচজনের লাশ দাফন।

নামাজে জানাজায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আ'লীগের যুগ্ম-সাধারণ  সষ্পাদক মোঃ কামরুজ্জামাল জামাল, তেরখাদা উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শহিদুল ইসলাম, উপজেলা আ'লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান এফএম অহিদুজ্জামান, মহানগর যুবলীগের সভাপতি মোঃ শফিকুল রহমান পলাশ, অধ্যক্ষ মাওলানা কবিরুল ইসলাম ও মাওলানা শারাফাত হোসেন দিপু প্রমুখ।

গতকাল সকাল ১০টায় নিহত মনির শিকদারের মা লাইলী বেগমের জানাজা উপস্থিত হবার কথা ছিল; মায়ের জানাজার পূর্বেই পদ্মায় সপরিবার সলীল মৃত্যু হল তার। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মায়ের পাশেই দাফন করা হলো মনির শিকদারকে। সোমবার সেহেরী খেয়ে রাজধানী ঢাকার মিরপুর-১১ মসজিদ মার্কেটে কাপড়ের দোকানদার মনির শিকদার তেরখাদা সদর ইউনিয়নের পারোখালী গ্রামের বাড়িতে পরম মমতাময়ী মাকে শেষবারের মতো দেখতে তিন কন্যা ও স্ত্রীকে নিয়ে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু মাকে শেষবারের মতো আর দেখা হলো না, নিজেই সপরিবারে চলে গেলেন মায়ের সাথেই। পদ্মা নদীতে বালু ভর্তি বাল্কহেডের সাথে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সংঘর্ষে স্ত্রী হেনা বেগম, কন্যা সুমি খাতুন (৭), রুমি খাতুন (৪) ও মনির শিকদার নিহত হন। প্রাণে বেঁচে আছে শুধু তাদের ৯ বছর বয়সী মেয়ে মীম খাতুন।

মীম খাতুন বললেন, কাপড়ের ব্যাগ ধরে ভেসে পদ্মীর কূলে ফিরতে পেরেছে সে। তবে মা-বাবাকে খুব বেশি মনে পড়ছে। মা, আব্বা তোমরা আমাকে কেনো নিয়ে গেলে না...? বলে অঝর নয়নে কাঁদছে পরিবারের একমাত্র জীবন্ত প্রদীপ মীম খাতুন।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ